মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০

১৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ২০,২০২০, ০৩:২৬

ফেব্রুয়ারি ২০,২০২০, ০৩:২৭

বিদেশ ফেরত মানেই করোনা নয় অহেতুক হয়রানি-আতঙ্ক বন্ধ হোক

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে রায়হান আহমেদ নামে চীন ফেরত এক মেডিকেল শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তাকে হাসপাতালে নিলে সেখানকার চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

পরে পুলিশ প্রহরায় বিশেষ ওয়ার্ডে ওই রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার পর গত ১ ফেব্রুয়ারি চীনের উহান প্রদেশ থেকে দেশে ফেরেন ৩১৬ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে রায়হান আহমেদও ছিলেন।

দেশে ফেরার পর অন্য সবার মতো তিনিও মেডিকেল চেকআপ- এর জন্য রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে ছিলেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৫ ফেব্রুয়ারি শর্ত সাপেক্ষে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়। গত রোববার দুপুরে রায়হান অসুস্থবোধ করলে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে।

এসময় তাকে ঘিরে শুরু হয় তোলপাড়। চিকিৎসক-নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অনেক রোগী ও স্বজনকে তখন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতেও দেখা যায়। তবে রায়হান বারবার দাবি করেন তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নন। একপর্যায়ে তিনি আতঙ্ক কমাতে চিকিৎসা না নিয়েই বাসায় ফিরে যান।

এদিকে, বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে গত রোববার সন্ধ্যার পর হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ রায়হান আহমেদকে বাসা থেকে আবারও হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য পুলিশ প্রহরায় হাসপাতালের একেবারেই বিচ্ছিন্ন একটি স্থানে বিশেষ ওয়ার্ডে রাখা হয়।

হবিগঞ্জে রায়হানের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি দুঃখজনক। কেউ চীন কিংবা সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আসা মানেই করোনা ভাইরাস আক্রান্ত- এটা ভুল ধারণা। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এপর্যন্ত ৬৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে, কারও মধ্যেই করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

এতে বলা যেতে পারে, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কোনও করোনা আক্রান্ত রোগী নেই। চীন কিংবা সিঙ্গাপুর ফেরত যাত্রী কিন্তু করোনা সন্দেহভাজন নয়। তারপরও চীন কিংবা সিঙ্গাপুর থেকে যারা ফেরত আসছেন, তারা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। চীনের সব প্রদেশে কিন্তু এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়নি; সুতরাং চীন থেকে এলেই যে তারা করোনা আক্রান্ত রোগী হবে, এমন কোনও বিষয় নেই।

এখন যেহেতু চীনের সঙ্গে সিঙ্গাপুর যুক্ত হয়েছে এবং সেখানে পাঁচজন বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন, সে কারণে সিঙ্গাপুর ফেরতদের নিয়েও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক আক্রান্ত হয়েছেন তারা এক জায়গায় কাজ করেন।

এরা ছাড়া অন্য কোথাও যারা কাজ করেন, বা বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণে গিয়েছেন; তারাও আক্রান্তের তালিকায় নেই। সিঙ্গাপুর থেকে এলেই তাদের নিয়ে ভীত হতে হবে, কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে- এমন পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত দাঁড়ায়নি।

আইসিডিডিআর বলছে, চীন-সিঙ্গাপুর থেকে এলেই তাকে হাসপাতালে আইসোলেশনে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে নিজ দায়িত্বে বাসার ভেতরে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজন না হলে বাসার বাইরে তারা কম যাবেন। জনসমাগম হয় এ রকম জায়গা এড়িয়ে চলবেন। যদি বাসার বাইরে যেতে হয় তাহলে মাস্ক ব্যবহার করবেন। এতে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।

কিন্তু এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। চীন বা সিঙ্গাপুর থেকে আসা মানেই মনে করা হচ্ছে সে করোনা আক্রান্ত! এমন ধারণা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, চীন সিঙ্গাপুর থেকে যারা ফিরছে তারা আমাদেরই কারও আপনজন। তাই সতর্কতার সাথে-সাথে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আমাদের সবার।

আমারসংবাদ/এমএআই