শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০

১৯ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ১২,২০২০, ০৪:৫৪

মার্চ ১২,২০২০, ০৪:৫৪

জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ হাইকোর্টের রায় ও পর্যবেক্ষণকে স্বাগত

বাংলাদেশে জাতীয়ভাবে অনেককিছুর স্বীকৃতি থাকলেও জাতীয় স্লোগান ছিলো না। অবশেষে ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুলের নিষ্পত্তি করে আদালত এ রায় দেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, জয় বাংলা জাতীয় ঐক্যের স্লোগান। জয় বাংলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রিয় স্লোগান এবং জয় বাংলা ৭ মার্চের ভাষণের সাথে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

আদালত আরও বলেন, আবেদনকারী সংবিধানের ৩ ও ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতায় জাতীয় স্লোগান হিসেবে জয় বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করা দাবি করেছেন, এটা এই আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত। কারণ কোনো আইন প্রণয়ন করা এবং সংবিধান সংশোধন করার একমাত্র অধিকার জাতীয় সংসদের।

তবে রাষ্ট্রপক্ষ এ রুলের সমর্থনে হলফনামা দিয়েছেন উল্লেখ করে আদালত রায়ে বলেন, আইন সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান করায় একমত পোষণ করেছেন। এরপর আদালত রায়ের আদেশ অংশ ঘোষণা করেন।

আদেশে আদালত বলেন, আমরা ঘোষণা করছি যে, জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে। সকল জাতীয় দিবসগুলোতে এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদাধিকারীগণ এবং রাষ্ট্রীয় সকল কর্মকর্তা সরকারি অনুষ্ঠানের বক্তব্য শেষে জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ যেন করেন, সে জন্য বিবাদিরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাসেম্বলি সমাপ্তির পরে ছাত্র শিক্ষকগণ যেন জয় বাংলা স্লোগান উচ্চারণ করেন, তার জন্য বিবাদিরা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। আদালতের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন ৩ মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। রুলে ‘জয় বাংলা’কে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে ৫ ডিসেম্বর থেকে এ রুলের শুনানি শুরু হয়।

রুলের বিবাদিরা হলেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব ও শিক্ষা সচিব। ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর আদেশের পরে বিচারক বলেছিলেন, জয় বাংলা হচ্ছে আমাদের জাতীয় প্রেরণার প্রতীক। পৃথিবীর ৬০টি দেশে জাতীয় স্লোগান আছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের দুর্ভাগ্য যে আমরা আমাদের চেতনার সেই ‘জয় বাংলা’কে স্বাধীনতার এতদিন পরেও জাতীয় স্লোগান হিসেবে পাইনি।

তিনি বলেছিলেন, জয় বাংলা কোনো দলের স্লোগান নয়, কোনো ব্যক্তির স্লোগান নয়, এটা হচ্ছে আমাদের ন্যাশনাল ইউনিটি। এই স্লোগান দিয়ে একদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বাঙালি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। আমরা আদালতের এই রায় এবং পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানাই। একটি জাতির ঐক্যবদ্ধতার জন্য জাতীয় স্লোগানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

আর যেহেতু আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিলো এই ‘জয় বাংলা’ সেহেতু এটিকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া খুবই প্রাসঙ্গিক।

আমরা আশা করি, রাজনৈতিক দল, মত নির্বিশেষে সবাই স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ প্রতিষ্ঠার প্রেরণাদানকারী হিসেবে ব্যবহূত ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে সাদরে গ্রহণ করবে এবং এব্যাপারে কারও দ্বিমত থাকবে না। এবার উন্নত-সমৃদ্ধ এবং শান্তির দেশ গড়ার সংগ্রামে সবার কণ্ঠে একযোগে ধ্বনিত হোক ‘জয় বাংলা’।

আমারসংবাদ/এআই