সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ৩১,২০২০, ০৩:০৯

মার্চ ৩১,২০২০, ০৩:০৯

মহামারি ঠেকাতে ঘরে থাকা বল প্রয়োগে নয় বোঝানো উচিত

করোনা ভাইরাসের মহামারী ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে চলছে ছুটি। সড়ক, নৌ ও আকাশ পথে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রেখে সবাইকে যার যার বাসায় থাকতে বলেছে সরকার। সড়কপথে যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকলেও জরুরি পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে ট্রাক-পিকআপের মত বাহনকে নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

তবে এসব পণ্যবাহী বাহনে যাত্রী বহনে নিষেধ করা হলেও চালক ও যাত্রীরা তা মানছেন না। ছুটির শুরু থেকেই দলে দলে লোক ট্রাক ও পিকআপে চড়ে বাড়ির পথে ছুটছেন। যা এখনও শেষ হয়নি। করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি থেকে নিরাপদ থাকতে ন্যূনতম তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও ট্রাক ভর্তি গাদাগাদি করে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে।

এরকমই নিষেধ উপেক্ষা করে গত শনিবার সিমেন্টবাহী একটি ট্রাক বস্তার ওপর যাত্রী তুলে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিল উত্তরবঙ্গের পথে; টাঙ্গাইলে সেই ট্রাক উল্টে বস্তার নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেছে ছয়জনের।

এ দুর্ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তাকারী হিসেবে সেনাও মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। মানুষ কোনভাবেই ঘরে থাকতে চাইছে না।

ফলে তাদের ওপর বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে। তখন ঘটছে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা সাধারণ পথচারী, রিকশাচালক, দিনমজুরসহ নানা পেশার মানুষকে লাঠিপেটা, কান ধরে উঠবস করাচ্ছে।

বিভিন্ন সংবাদপত্র, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব অভিযোগ নিয়ে কঠোর সমালোচনা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের অত্যন্ত সহনশীলতা, পেশাদারিত্ব ও বিনয়ের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে পেশাদারিত্ব, সহনশীল, বিনয়ী আচরণ করতে বলা হয়েছে। একই সাথে ওষুধসহ নিত্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যক- জরুরি সেবার বিষয়ে জনগণ যেন ভোগান্তিতে না পড়ে সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়।

অন্যদিকে গত শুক্রবার যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাস্ক না পরায় তরকারি বিক্রেতা ও ভ্যানচালক তিন বয়স্ক ব্যক্তিকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে সেই ছবি ধারণ করেন।

রাতে ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। সরকারি কর্মকর্তাদের ‘কাণ্ডজ্ঞান’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। বয়স্কদের সঙ্গে এই আচরণের বিচার দাবি করেন কেউ কউ।

পরে ওই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। মনিরামপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই সিনিয়র সিটিজেনদের বাড়িতে গিয়ে প্রশাসনের পক্ষে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী তার তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এরকম পরিস্থিতিতে ঘরে অবরুদ্ধ থেকে আত্মরক্ষাই মহামারি ঠেকানোর সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

কিন্তু মানুষ এটি বুঝতেই চাইছে না। ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে অফিস-আদালত বন্ধ রেখে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছে সরকার। আর এটা বাস্তবায়ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে মাঠ প্রশাসন। অবাধ্য লোকদের বাধ্য করার জন্য কঠোরতার প্রয়োজন রয়েছে।

তবে তার আগে মানুষকে ঘরে থাকার প্রয়োজনীয়তাটা উপলব্ধি করাতে হবে। ক্ষমতা হতে আছে জন্যই যে তা প্রয়োগ করতে হবে এমনটি নয়। এটা করতে গেলে হিতে বিপরীত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

তাই বল প্রয়োগের বাড়াবাড়ি না করে মানুষকে ঘরে রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে হবে। খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যাপারে সাহায্য করতে হবে প্রশাসনকেই।

আর যারা অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করছে তাদের শুরুতেই মারধর না করে প্রথমে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে বোঝাতে হবে, অন্যদিকে জনসাধারণকেও এই বিষয়টি বুঝতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই কয়টি দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করি জনগণ সতর্ক হবে এবং সবাই যেখানে আছে সেখানে ঘরে অবস্থান করবে। সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং সচেতনতায় করোনা মোকাবিলা করা সম্ভব।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ