সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

এম. কে. দোলন বিশ্বাস

মার্চ ৩১,২০২০, ০৩:১৫

মার্চ ৩১,২০২০, ০৩:১৫

অদৃশ্য করোনার আঘাতে কাঁপছে দৃশ্যমান বিশ্ব

গোটা বিশ্ব কাঁপছে অদৃশ্য ‘নোভেল করোনা’ নামক ভাইরাস জ্বরে। আমাদের দেশেও আঘাত হানতে করুণা করেনি ঘাতকব্যাধি করোনা। বরং পুরো দেশ অঘোষিত লকডাউন আর একে অপরের সঙ্গে সামাজিক দূরন্ত সৃষ্টি করে নয়া ইতিহাসের জন্ম দিয়েছে।

গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসবাহী রোগীর অস্তিত্ব চিহ্নিত হয় বাংলাদেশে। ৩০ মার্চ পর্যন্ত ৪৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। ৫ জন মারা গেছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরু হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বর। সারা বিশ্ব করুণার চোখে চেয়েছিল চীনের উহান শহরের দিকে। আহা! কী ভয়াবহ দুর্যোগ।

২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল বলে দুর্যোগের নাম হয় ‘কোভিড-১৯’। অতঃপর মাত্র চার মাসের ব্যবধানে তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের ১৮৩টি দেশে। এখন হঠাৎই যেনো নতুন ক্লাইমেক্স শুরু হয়েছে।

চীনের প্রতি অনুকম্পা উল্টিয়ে গিয়ে চীনই যেনো এখন সারা বিশ্বের জন্য অনুকম্পা দেখাতে যাচ্ছে। ইউরোপ আমেরিকা যখন কাঁপছে করোনার কোপে, তখন চীন যেনো পথ দেখাচ্ছে কীভাবে করোনার থাবা হতে মুক্তি মিলে।

করোনার প্রারম্ভিক শহর উহান এখন জয়ের শীর্ষে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক দিনে উহান শহরে কেউ নতুন করে আক্রান্ত হয়নি। উহান জনবহুল এলাকায় করোনা উপসর্গ পরীক্ষার জন্য গত জানুয়ারি হতে যেসব চেকপয়েন্ট চালু ছিলো, গত ২০ মার্চ থেকে সেগুলো প্রত্যাহার শুরু হয়েছে।

ফলে উচ্ছ্বাসিত উহানের জনগণ বাজি ফাটিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন নিজেদের ফিরে পাওয়া স্বাধীনতাকে। একই চিত্র বেইজিংয়েও। অন্যদিকে করোনাঘাতে সমগ্র ইউরোপ যেনো দিশাহারা। ভূমধ্য সাগরের তীরে ইতালি যেনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি কাঁপছে। থরো থরো কাঁপা ইতালির একটি আলোকচিত্র যে কারো মাথা খারাপ করে দিতে পারে।

উত্তর ইতালির বেরগেমো এবং লম্বার্ডিতে লাইন দিয়ে চলছে সাঁজোয়া ট্রাকগুলো। ওই ট্রাকগুলোতে রয়েছে করোনায় সারি সারি লাশ। কবরখানায় জায়গা নেই আর। তাই, শত শত ট্রাক চলছে শহরের বাইরে কোনো ‘নিরাপদ’ জায়গায় মৃতদেহগুলোর সৎকার করতে। কেবল গত ২১ মার্চ সেখানে মৃত্যু হয়েছে ৭৯৩ জনের।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে মারা গিয়েছে ১০ হাজারের উপরে মানুষ! এমন পরিস্থিতি অনুধাবন করা যায় ইতালির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি উক্তিতে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোবার্তো স্পেরানজা বলেছেন ‘ইতিহাসে যতো কঠিন মুহূর্তের সাক্ষী আমরা, তার মধ্যে এটা সবচাইতে ভয়াবহ।

একটা নতুন ভয়ঙ্কর শত্রু আমাদের জীবনে ঢুকে সব কিছু উলট-পালট করে দিয়েছে। সামনে আরো কঠিন সময়।’ মৃত্যুর মিছিলে ইতালির পর রয়েছে স্পেন। সেখানে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মারা গিয়েছে ৭ হাজারের উপরে। ফ্রান্সে মৃত্যু হয়েছে ২৬০০ জনের উপরে। এরমধ্যে নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র।

ধারণা করা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ায় অন্তত কোটির উপরে মানুষ করোনা সংকটে রয়েছে। সামনে আরো কঠিন সময়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের তিন ভাগের এক ভাগ মানুষের বসতি এখানে।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়া। এখানে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ বসবাস করেন।

চীন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো না হয়ে এ অঞ্চলে এখনও তুলনামূলকভাবে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ন্যূনতম। এসব দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তান ও ভারতে। মারা গেছেন ৪৭ জন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এরই মধ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলো বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেটা যুক্তরাষ্ট্র নেয়নি। এ অঞ্চলে দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভ্রমণেও দেয়া হয়েছে বিধিনিষেধাজ্ঞা।

আঞ্চলিক ‘হেভিওয়েট’ ভারত গত ১৯ মার্চ ঘোষণা করেছে যে, ভারতে আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে। প্রতি মাসে এমন সব ফ্লাইটে ভারতে আসা-যাওয়া করেন প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী। ভারত সরকার বলছে, শনাক্ত করা হচ্ছে আক্রান্তদের।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দাবি সত্য নয় বলেই মনে হচ্ছে। খুব সামান্যই টেস্ট করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ভয় পাচ্ছেন যে, ভারত ও এর প্রতিবেশীরা বিশ্বের অন্য স্থানের মতো ভয়াবহতার মুখে পড়তে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে এবং সেখানকার হাসপাতালগুলো এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

এরই মধ্যে গত দুই সপ্তাহে এ অঞ্চলে ভাইরাসটির সংক্রমণ চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ভাইরাস বিষয়ক সুপরিচিত বিশেষজ্ঞ টি জ্যাকব জোন জানিয়েছেন, প্রকৃত সত্যটা দেখা দেবে সামনের কয়েক দিন বা সপ্তাহে।

মনে হচ্ছে, এই ভাইরাসের সংক্রমণ ভারতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে বহুগুণে (এক্সপোনেনশিয়ালি)। তাই ভারত এক অপ্রত্যাশিত কঠিন সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

গত ১৯ মার্চ টেলিভিশনে দেয়া জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সব ভারতীয়দের ঘরের ভিতর অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিকল্প সার্জারি স্থগিত করেছেন। ২২ মার্চ জনগণকে ১৪ ঘণ্টার কারফিউ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

করোনা সংক্রমণ ত্বরান্বিত হলে দক্ষিণ এশিয়া এক ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হবে। এখন পর্যন্ত মারাত্মকভাবে আক্রান্ত এলাকাগুলোর মধ্যে ভাইরাসটির বিস্তার মোকাবিলায় সবচেয়ে কম প্রস্তুতি এ অঞ্চলের। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা এমনিতেই দুর্বল। রয়েছে কম মাত্রার অর্থায়ন। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানাবিধ দুর্ভোগ।

এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ। কারণ তারা স্বাস্থ্যসেবার দিক দিয়ে বৈশ্বিক সূচকে অনেকটা ভালো করেছে। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ডাটা অনুসারে ভারতে প্রতি ১০০০ মানুষের জন্য হাসপাতালে আছে ০.৫টি বেড। পক্ষান্তরে ইতালিতে আছে ৩.১টি বেড, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১২টি বেড।

বার্তা সংস্থা এপিকে দেয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতকারে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানান, যদি ভাইরাসটির বিস্তার ঘটে তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য সুবিধা সব রকম সমস্যায় পড়বে। আমাদের সক্ষমতা নেই। নেই কোনো রিসোর্স। উদ্বেগের বিশেষ একটি উৎস হয়ে উঠেছে পাকিস্তান।

এখানে বসবাস করেন কমপক্ষে ২০ কোটি মানুষ। রয়েছে নাজুক ও দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে পাকিস্তান। নিষিদ্ধ করেছে গণজমায়েতও। শ্রীলঙ্কায়ও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৭ মার্চ বাইরে থেকে যাওয়া সব রকম ফ্লাইটের অবতরণ নিষিদ্ধ করে শ্রীলঙ্কা।

তবে যেসব পর্যটক শ্রীলঙ্কায় আছেন, তারা আগামী দুই সপ্তাহে আকাশপথে বেরিয়ে যেতে পারবেন। কেউ নতুন করে প্রবেশ করতে পারবেন না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম খেত্রাপাল সিং গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, ভারত ও এর প্রতিবেশীদের জন্য এখনও ঝুঁকিটা অনেক বেশি। তিনি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারত সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় সরকারকে কৃতিত্ব দেন বিশেষজ্ঞগণ। ভারত নিজেকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। বন্ধ করে দিয়েছে সীমান্ত। ভারতে নতুন করে যেতে চাওয়া প্রায় সব পর্যটকের ভিসাই বাতিল করেছে।

কয়েকদিন আগেই ভারতে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে ১২৪০০ জনের উপরে। সরকারি পরীক্ষাগার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিনামূল্যে এসব পরীক্ষা করা হয়েছে।

তবে যে পরিমাণ মানুষের পরীক্ষা করা হয়েছে তাদের হার নাগরিকদের প্রতি ১০ লাখের মধ্যে মাত্র ৯ জন। মোটামুটিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই হার ১১৪। দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬০০০। ভারতে এ পর্যন্ত করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ১০৭১ জনের। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে সরকার কিছু বিধিনিষেধ দিয়ে দিয়েছে।

তাতে বলা হয়েছে, যাদের লক্ষণ দেখা দিয়েছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে অথবা আক্রান্ত এলাকা সফর করেছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই পরীক্ষা করতে হবে। ভারতজুড়ে কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা হচ্ছে। এমনকি সবচেয়ে জনবহুল শহর দিল্লির জন্যও একই কথা।

জাতিসংঘের ডাটা অনুসারে দিল্লি হলো বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনবহুল মেট্রোপলিটন শহর। আর মুম্বাই সপ্তম। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঢাকার স্থান নবম। ভারতের প্রায় সব রাজ্যেই স্কুল বন্ধ রয়েছে।

নির্দেশ দেয়া হয়েছে সিনেমা হল, জিম, বড় সমাবেশ বন্ধ রাখার। বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম আগ্রার তাজমহলসহ বেশিরভাগ বিখ্যাত সমাধি বা স্মৃতিস্তম্ভ নির্জন।

যেখানে মুম্বাইয়ের আইকনিক সমুদ্র সৈকত সাধারণত লোকে লোকারণ্য থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ ভারতীয়ের জন্য বাড়িতে বসে বা নিজে থেকে কোয়ারেন্টাইনে থেকে কাজ করাটা অচিন্তনীয়। গ্রামের এক ক্লিনিকে করোনার মতো লক্ষণ দেখা দিয়েছে এমন একজন রোগীর বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি লিখেছেন তামিলনাড়ুর ডাক্তার বিজয়াপ্রসাদ গোপিচন্দন।

তিনি জানিয়েছেন, ওই রোগীর বসতি ছোট্ট এক রুমের কুঁড়েঘর। তাতে পরিবারের তিনজনের সঙ্গে একত্রে বসবাস করেন তিনি। প্রতিদিন তাকে খাদ্যসহ যাবতীয় চাহিদা মিটাতে কাজে যেতে হয়।

এক্ষেত্রে ডাক্তার বিজয়াপ্রসাদ লিখেছেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ধারণাটা অযৌক্তিক এবং বহির্জাগতিক। ভারত কর্তৃপক্ষ ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইন বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো পদক্ষেপগুলো মানাতে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ পোষণ করেছেন।

এমন নির্দেশনা যাতে অমান্য করতে না পারেন সেজন্য যাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের হাতে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করছে মুম্বাই শহরের কর্মকর্তারা। হিমালয়ের পাদদেশে ভুটানে সবেমাত্র ৪ জনের দেহে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গেছে। অমনি তারা পর্যটকদের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।

বন্ধ করেছে সব স্কুল। বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশও সব স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। এখানে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে ৪৯ জনের দেহে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেছেন, আমাদের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত কি-না তা বলা কঠিন।

যে কোনো সময় জনগণের মধ্যে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত খবরে এসব তথ্য জানা যায়। করোনা মহামারি চারটি ধাপ রয়েছে।

বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের মাঝামাঝিতে। ইতালির বিপর্যয় ধাপ হতে আমরা দাঁড়িয়ে রয়েছি দুই-তিন সপ্তাহ দূরে। ইংল্যান্ড-আমেরিকাও প্রথমদিকে এই বিপর্যয় হতে শিক্ষা গ্রহণ করেনি।

যে ভুল অতি উন্নত দেশগুলো করেছে, আমরাও কিছুটা দূরে থেকে একই ভুল করলে কোনো অতল সুনামির তলে চাপা পড়ব, তা কল্পনা করলে যে কারো গা শিহরিয়ে উঠবে। ভারত ইতোমধ্যে ‘লকডাউন’ করেছে।

আমাদের শিক্ষা নিতে হবে চীনের কাছ থেকে, কীভাবে সামাল দিতে হয়। শিক্ষা নিতে হবে ইতালি, ইংল্যান্ড, স্পেন থেকে ভুল করলে কেমন খেসারত দিতে হয়। সামনে আরো কঠিন সময়। সুতরাং এখন সঠিক সিদ্ধান্তই হবে মঙ্গলময়।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ