মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০

১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

মে ০৩,২০২০, ০৮:৩৪

মে ০৩,২০২০, ০৮:৩৪

আমরা কি ইমামদের খবর জানি: ইমামের পাশে দাঁড়ান

বাংলাদেশে করোনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সুরক্ষার বিষয়টি মেনে ঘরে না থাকলে আমরা কিন্তু একটা ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছি। এখনো সময় রয়েছে, আমাদের কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। কিছু বিষয়ে অসঙ্গতির কথা না হয় নাই বললাম।

আসল কথায় আসা যাক, গত ৬ এপ্রিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। যেসব বিষয়গুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, ওয়াক্ত জামাতে ৫ জন, জুমা জামাতে ১০ জন, পরবর্তী সময়ে তারাবির নামাযে ২ জন হাফেজসহ ১২ জনের নিদের্শনা জারি করা হয়েছে।

এই নির্দেশনা বড় বড় কিছু মসজিদ বাদে বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে কতটা কার্যকর হয়েছে আমার ঠিক জানা নেই, তবে আমাদের আশে পাশের গ্রামের মসজিদে করোনাভাইরাস থেকে যে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে, তা মানা হচ্ছে না।

কারণ হিসেবে কিছু কথা বলা যায়। আমাদের দেশের মানুষ মহান আল্লাহ তায়ালাকে ভালবাসেন। তাই মসজিদে সিজদাহ করেন, এটাই হবে। কিন্তু করোনার কারণে সৌদিতে যখন ধর্মীয় ব্যাখা দিয়ে মসজিদে নামায সীমিত করা হয়েছে। তখন আমাদের উচিত ছিল করোনা থেকে সুরক্ষার জন্য ঘরে নামায পড়া।

কিন্তু আমরা মসজিদমুখী। তবে আমরা মসজিদে গেলেও সমস্যা হতো না যদি আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে নামায পড়তে পারতাম। যেমন রুশরা করতে পেরেছে। সুরক্ষার জন্য প্রথম প্রয়োজন একটা জায়নামায বা মাদুর বাংলাদেশে কত শতাংশ লোকের ঘরে আছে ঠিক বলা যাবে না।

তবে আমার ধারণা ৫০ শতাংশ লোকের ঘরে জায়নামায নেই। এই করোনায় পরিস্থিতিতে গরীববের খাবারের সাথে জায়নামায ত্রাণ হিসেবে দিলোও কিন্তু খারাপ হতোনা।

যাইহোক এবার আসি একটু ব্যতিক্রম প্রসঙ্গে, আমার এই কথাতে ইমামরা রাগান্বিত হতে পারেন। আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। মসজিদে মুসল্লী সংখ্যা তারাবিতে বেড়েছে তাতে করোনা ঝুকি কিন্তু পর্যাপ্ত।

কিন্তু ইমামরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা জানেন, তাদেরকে ডেকে মিটিং করে করোনা থেকে সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তারপরও ১২ জনের বেশি মুসল্লী নিয়ে তারাবির জামাত করছে, প্রায়ই মসজিদ ভর্তি লোক চোখে পড়েছে।

ইমামরা মুসল্লীদের কোনোভাবেই সচেতন করছেন না কিংবা বাসায় নামায পড়ার ব্যাপারে কথা বলছেন না কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, গ্রামের অধিকাংশ ইমামরা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে।

ফলে যদি মসজিদে তারাবির জামাতে লোক বেশি হলে কিন্তু একটু বেশি অর্থ পাওয়া যাবে। আমাদের আবার একটা ট্রেন্ড চালু আছে, আমরা মসজিদে নামায না পড়লে তারাবির টাকা দেই না।

এই কারণে ইমাম মসজিদে উপস্থিতি বেশি চান। কারণ করোনায় এই সময়ে সবারই আর্থিক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এতে করে সাধারণ মুসল্লিরা করোনা ঝুঁকিতে আছে। ইমামদের হাত পাতার মতো পরিবেশ পরিস্থিতি কোনটাই নেই।

তাই ইমামরা যদি আর্থিকভাবে একটু সহায়তা পেলেই তারাই কিন্তু করোনা সুরক্ষা কাজ করতে পারতো। ঘরে নামায পড়ার কথা বলতো।

আবার এই দুঃস্থ ইমামরাই কিন্তু করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণকারীদের দাফন কাফনের কাজটি করছে। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তাদের অবদান খাটো করে দেখার মতো কোন সুযোগ নেই।

তাই প্রথমেই দেশের সকল মানুষকে ইমামদের গোপনে সহযোগিতা করা দরকার। এরপর যেহেতু দেশের সকল মসজিদে আর্থিক ফান্ড রয়েছে সেখান থেকে ইমামদের আগামী ২ মাসের বেতনের ব্যবস্থা করা জুরুরী হয়ে পড়েছে।

মসজিদের কমিটি, সভাপতি, ক্যাশিয়ার ইচ্ছা করলেই পারেন। আর সবচেয়ে ভাল হবে সরকার যদি কওমি মাদ্রাসার মতো মসজিদের ইমামদের সহযোগিতা করেন। মসজিদের ইমাম একটা সম্মানিত পদবী, তারা না খেয়ে থাকে কিন্তু কারো কাছে সাহায্যে চায়না।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ইমামদের তথ্য আছে তা সংগ্রহ করে অনতিবিলম্বে ইমামদের পাশে দাড়ানো দরকার। জনগণ যেন কোনঅবস্থাতেই আবেগতাড়িত হয়ে মসজিদে না আসে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। আল্লাহ সবাইকে করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করুন।

লেখক- রাজু আহমেদ

আমারসংবাদ/এসআর/এআই