শনিবার ৩০ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ডা. জে আর ওয়াদুদ

মে ০৯,২০২০, ১০:৪৯

মে ০৯,২০২০, ১০:৪৯

করোনার নমুনা সংগ্রহে বিকল্প পদ্ধতি

 

বর্তমানে যে পরিমাণ করোনা টেস্ট করা হচ্ছে তার মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশ লোকেরই পজিটিভ রেজাল্ট আসছে। পূর্বে দেখা গেছে এই টেস্টের জন্য নাক ও মুখ থেকে ২ টি নমুনা নেয়া হতো। বর্তমানে শুধু নাক থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। যদিও নাক থেকে ভালভাবে নমুনা সগ্রহ করাটা বেশ কঠিন। কারণ নাকের শেষ প্রান্তে গিয়ে গলার পিছনের দেয়াল (Nasopharynx) থেকে এই নমুনা সংগ্রহ করতে হয়।

কিন্তু তাতে দেখা যাচ্ছে এই নমুনা সংগ্রহের জন্য রোগীর নাকের মধ্যে স্টিক প্রবেশ করাতে হচ্ছে। যা নাকে প্রবেশের সাথে সাথেই রোগীর হাঁচি দিতে শুরু করেন। যার ফলে নাকের শেষ পর্যন্ত যাওয়া এবং সেখানে স্টিকের কটন সোক করার জন্য নুন্যতম ২ সেকেন্ড স্টিকটি ধরে রাখা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সম্ভব হয়ে উঠে না।

আবার যিনি নমুনা নিবেন তাকেও ভালোভাবে পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুয়েপমেন্ট (পিপিই) পড়তে হয় ইনফেকশন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। যে কারনে বিকল্প কি উপায়ে নমুনা সংগ্রহ করা যায় তা নিয়ে সারাবিশ্বেই চলছে গবেষণা।

সেই গবেষণা থেকেই দেখা যাচ্ছে, কফ (Sputum), লালা (Saliva) নিয়েও পরীক্ষা করে একদম সঠিক ফলাফল পাওয়া সম্ভব। কিছুক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে, Nasal Swab Negative Result আসার পরেও (ref- YALE SCHOOL PUBLIC HEALTH) একই রোগীর স্যালাইভা টেস্টেও পজেটিভ ফলাফল এসেছে।

স্যালাইভা নমুনা সংগ্রহ করা (Saliva Sample Collection) অত্যন্ত সহজ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদেরকেও এই নমুনা সংগ্রহের (Sample collection) ক্ষেত্রেও ফুল পিপিই (পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুয়েপমেন্ট) পড়ার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনে বাসা থেকেও রোগীরা নিজেই নুমনা সংগ্রহ (Sample collection) করে দিতে পারেন। জীবাণুমুক্ত পাত্রে (Sterile Container) সেটা সরবরাহ (Supply) করলে আর পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে এসে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না রোগীকে। নমুনা (sample) দিতে এসে আক্রান্ত হওয়ারও সম্ভাবনা কমে যাবে অনেকটাই।

উল্লেখ্য, এফডিএ (FDA- Food & Drug Administration)- গত ১৩ এপ্রিল ২০২০ তারিখে এই স্যালাইভা টেস্ট (Saliva Test) পদ্ধতির স্বীকৃতি প্রদান করে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতেও ইমার্জেন্সি ব্যাসিসে বেশি পরিমাণ টেস্ট করার স্বার্থে স্যালাইভা টেস্টই (Saliva Test) স্ট্যান্ডার্ড টেস্ট (Standard Test) হিসাবেই পরিগণিত হবে।

লেখক: ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ফুটকেয়ার হাসপাতালের পরিচালক।

আমারসংবাদ/এনএম/জেআই