শনিবার ৩০ মে ২০২০

১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নেকবর হোসাইন

মে ১০,২০২০, ০৪:৩২

মে ১০,২০২০, ০৪:৩২

নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা কোথায় যাবে?

 

সারা পৃথিবী আজ করোনা ভাইরাসের প্রবল থাবায় অবরুদ্ধ। সরকারি, বেসরকারি (এমপিও ভুক্ত) ও স্বায়ত্বশ্বাসিত সকল শিক্ষক কর্মচারীর আপাতত বড় ধরনের সমস্যা না থাকলেও কঠিন বিপদের মধ্যে পড়েছে দেশের প্রায় লক্ষাধিক নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুই ধরনের নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন। প্রথমত নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী। দ্বিতীয়ত প্রায় সাড়ে তিনশ' এমপিও ভুক্ত ডিগ্রী কলেজে নন এমপিও অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সেও পাঁচ হাজার শিক্ষক কর্মচারী।

এই সকল শিক্ষক কর্মচারী সরকার থেকে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকাকালীন শিক্ষকরা সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর জন্য কেউ কেউ টিউশনি ও ব্যবসা বাণিজ্য করে কোন রকম সংসার চালাতেন। যেটাকে বলা যায় "নুন আনতে পানতা ফুরায়" অবস্থা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর চলতে পারছেন না। কারো কাছে সাহায্যও চাইতেও পারছেন না। তারপর আবার রমজান মাস। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীদের সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দুঃখের কথা কী বলব! বেসরকারি কলেজ পর্যায়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সের জন্য সরকার ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ অনুমোদন দিয়ে অনার্স মাস্টার্স কোর্সের পাঠদানের অনুমতি দেয়। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই শিক্ষকদের বেতন ভাতার দায়িত্ব গ্রহণ করে না।

এমতাবস্থায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একান্তই মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষক কর্মচারীদের কলেজে যাতায়াত খরচ ও পোশাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা বাবদ মাসিক নাম মাত্র কিছু টাকা সম্মানী হিসেবে দিয়ে থাকে। তা দিয়ে মাসের এক সপ্তাহের নূন্যতম বাজার খরচ চলে না। সেই সম্মানিটাও অনেক কলেজ প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে লকডাউনের কারণে ঘরে বসে শিক্ষকদের অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষক চাকুরির প্রয়োজনে নিজের এলাকা ছেড়ে বাইরের জেলায় শিক্ষকতা করেন। তাদের ঘরভাড়া দিয়ে থাকতে হয়।

এছাড়া বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, গ্যাস বিলের খরচ তো আছেই। করোনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৯২ হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজে প্রায় ৫ কোটি পরিবার সহায়তা পাবে। এই প্যাকেজ থেকে সকল নন এমপিও শিক্ষকের তালিকা তৈরি করে মাসিক ভিত্তিক সাহায্য করা যায় না?

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও এগিয়ে আসতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নন এমপিও অনার্স মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের প্রতি মাসে বেতন ভাতা প্রদান করতে পারে। দুঃসময়ে কাজে না লাগলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে থেকে লাভ কি? সেখান থেকে এই শিক্ষকদের বেতন ভাতা দেওয়া হলে মাসে মাত্র ১১ থেকে ১২ কোটি টাকা খরচ হবে। ছাত্রবেতন কেন্দ্রীয়ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমার ব্যবস্থা করা হলে মাসে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা জমা হবে। শুধু সঠিক নীতিমালা না থাকার কারণে এই টাকা সরকার অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা হয় না। যার ফলে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষক, কর্মচারী, ছাত্র, ছাত্রী সবাই বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষকদের এমপিওর জন্য রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরকার করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদী অনেক সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের সাধারণ ক্ষমা করে জেল থেকে মুক্তি দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। তারা এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে যেন শুনে যেতে পারি, নন এমপিওর অভিশাপ থেকে মুক্তি দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এই শিক্ষক কর্মচারীদের।

লেখক: আহ্বায়ক, বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফোরাম।

আমারসংবাদ/জেআই