মঙ্গলবার ২৬ মে ২০২০

১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মে ১৭,২০২০, ০৮:২৪

মে ১৭,২০২০, ০৮:২৪

পিরোজপুরে কমিটি গঠন ও বিলুপ্তি নিয়ে ছাত্রদলে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের অধিনস্ত ইউনিট (থানা, পৌর ও কলেজ) কমিটি গঠন ও বিলুপ্ত করেছে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদল। এ নিয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছরের ৭ জুন ছাত্রদলের প্যাডবিহীন ও প্রেস ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকের মাধ্যমে পিরোজপুর সদর ইউনিট (থানা, পৌর ও কলেজ) কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তখন কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রুহুল কবির রিজভী ২০১৯ সালের ৩ জুন স্বাক্ষরিত সারা দেশে ছাত্রদলের কমিটি গঠন ও পুনঃগঠন করার উপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০১৯ সালের ৫ মে (ব্যাক ডেট) দিয়ে জেলা ছাত্রদলের বাকিদের না জানিয়ে এবং জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দদের পরামর্শ ছাড়াই অসাংগঠনিক ভাবে সভাপতি/সম্পাদক অত্যন্ত গোপনে কমিটি গঠন করেন। কিন্তু সেই কমিটি প্রেসে কিংবা জনসম্মুখে না এনে লুকচুরি অভিযোগ রয়েছে।

এক পর্যায় গোপন কমিটিতে যাদের পদ পদবী দেওয়া হয়েছে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোষ্টার, ব্যানার, ফেষ্টুন সহ দলীয় ফোরামে পদ পদবীর পরিচয় দিতে গেলে বিশৃঙ্গলা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ছাত্রদল বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি দলের নজরে আসলে সফরকালীন সময় উক্ত ইউনিট সমূহের সাথে অনেক নাটকীয়তার পর মতবিনিময়কালে বিষয়টি যাচাই বাচাই পূর্বক ভিত্তিহীন কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদ পদবী ব্যবহারে প্রথমে মৌখিক ও পরবর্তীতে লিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

জেলা ছাত্রদলে সভাপতি/সম্পাদক বিভাগীয় প্রতিনিধি দলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টিমের প্রেরিত আদেশে সংযোজন করে ৩টি ইউনিট কমিটি বৈধতা দিয়ে বিলুপ্ত ঘোষনা করে প্রেসে দেন বলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের ৮ সদস্য বিশিষ্ট সিনিয়র সহ সভাপতি, সহসভাপতিবৃন্দ ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সহ ৫ জনই প্রায় একই কথা বলেন। এবং তারা ইতিমধ্যে তাদের অভিযোগ লিখিত আকারে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগীয় টিম বরাবর প্রেরণ করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

তারা আরো বলেন, ২০১৮ সালের ৫ জুন কেন্দ্র থেকে পিরোজপুর জেলা ছাত্রদলের ৮ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেয়। কমিটি গঠনের পর থেকেই জেলা ছাত্রদলে সভাপতি ও সম্পাদক উক্ত পদের অপব্যবহার শুরু করে বিভিন্ন সময় অনৈতিক টাকা আত্মসাৎ, বিভিন্ন অপকর্মসহ সংগঠনের নেতা কর্মীদের সাথে স্বৈরাতান্ত্রিক মনোভাব পোষন করে যাহা সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

এহেন পরিস্থিতিতে আমরা বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি দলের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় জেলার সভাপতি ও সম্পাদকে সংগঠনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী জানিয়ে এবং জেলা ছাত্রদলের সুনাম, ঐতিহ্য এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগীয় প্রতিনিধি কে জানিয়েছি। আমরা আশা প্রকাশ করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল পদক্ষেপ গ্রহন করবেন অন্যথায় যে কোন অনাকাংক্ষিত পরিস্থিতির জন্য জেলার সভাপতি ও সম্পাদক দায়ী থাকবে বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

এই প্রতিবেদক শহরে ছাত্রদলের কর্মীদের ভিতর প্রেসে প্রকাশ বিহীন ফেইসবুক কমিটি গঠন এবং পরিচয় প্রাপ্তির নামে অবৈধ প্রেস দিয়ে কমিটি বিলুপ্তি নিয়ে উত্তেজনা লক্ষ্য করেছেন।

পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল কর্মী বলেন, জেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন হয়েছে প্রায় ২ বছর কিন্তু তারা জেলা ছাত্রদল পূর্নাঙ্গ কমিটি করতে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি এই কমিটি একটি যৌথ সভা কিংবা বর্ধিত সভা পর্যন্ত করতে পারে নাই। উপরন্তু তারা তাদের পছন্দের লোক দিয়ে কারো সাথে কোন রকম আলাপ আলোচনা ছাড়া কেন্দ্রীয় নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে কিছু অছাত্র ও বিবাহিত কে দিয়ে ব্যাক ডেট দিয়ে কমিটি দিয়েছিলো। পরবর্তীতে টিমের নির্দেশ উপেক্ষা করে তাদের বৈধতা দিয়ে কমিটি বিলুপ্তি করে।

এসব ঘটনা জেলা ছাত্রদল কে হাস্যকর ছাত্র সংগঠনে পরিণত করছে যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হতেও দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তেজনা আছে, যে কোন সময় ছাত্রদলের দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরার আশংকা আছে।

আমারসংবাদ/এআর/জেডআই