শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২০

৯ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ৩০,২০২০, ০৬:১৪

সেপ্টেম্বর ৩০,২০২০, ০৬:১৪

শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকার ঘোষণা সালাহউদ্দিনের

প্রতিপক্ষের ভয়ভীতি ও হামলা-মামলা উপেক্ষা করে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, এ আসনে ১৭ অক্টোবর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার পর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গাড়ী বহর নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। আমি নির্বাচন কমিশনে এই বিষয়ে অভিযোগ দিলেও তারা আমলে নেয়নি।

অথচ আমরা শান্তিপূর্নভাবে যাত্রাবাড়ী আইডিয়াল স্কুল এন্ড  কলেজ থেকে সভা করার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রাচরণা শুরু করেছি। কিন্তু আমাদের প্রচারণায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো হচ্ছে। যতই হামলা চালানো হউক  আমরা মাঠে আছি, থাকবো। ঘরে ফিরে যাবো না। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মাঠে থাকবো।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্র্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে (বুধবার) বেলা ১১টায় সায়দাবাদ আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সামনে পূর্ব ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচির প ছিল। যা গতকালই আমরা পুলিশ প্রশাসকে অবহিত করেছি। কিন্তু আজকে পুলিশ প্রশাসনের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর আবুল কালাম অনুুর নেতৃত্ব এ হামলা চালানো হয়। আমাদের ওপর বারবার  আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং আওয়ামী লীগ নেতা হারুন আর রশিদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হচ্ছে। এভাবে আমাদেরকে নির্বাচনে থেকে দূরে রাখা যাবে না।  আমরা জনগণের কাছে যাবো। শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবো।

নির্বাচন কমিশনকে পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে সালাহ উদ্দিন বলেন, এর বত্যয় ঘটলে এখান থেকেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। আবার যদি হামলা হয়, জনগণ রুখে দাঁড়াবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন সালাহউদ্দিন। এসময় তিনি সাংবাদিক ও দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সহযোগিতা চান।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা অলিক কল্পনা। এটা আশা করা যায় না। নির্বাচন কমিশন তো স্বীকারই করে নিয়েছে রাতে নির্বাচন হয়। এবার আর হবে না। আসলে নির্বাচন কমিশন পাপের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, আর বেশি দিন নয়, অনেক অন্যায় অত্যাচার করেছে। সময় শেষ হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ হুরমুর করে আসবে। ধানের শীষের পক্ষে জনস্রোত তৈরি হবে।  আর আওয়ামী লীগ লেজগুটিয়ে পালাবে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল বলেন, ভোট দিয়েছে ধানের শীষে চলে গেছে নৌকায়।  এটা বিগত প্রতিটি নির্বাচনে এমনটা হয়েছে। নির্বাচনে প্রচারণায় বাধা ও হামলা করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তামাশার নির্বাচন থেকে সরে আসুন, সুষ্ঠু নির্বাচন না দিতে পারলে সরে দাড়াঁন। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত  আমরা লড়াই চালিয়ে যাবো। মাঠে আছি, থাকবো।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, আবদুস সালাম আজাদ, তানভীর আহমদে রবিন প্রমুখ।

এদিকে বেলা ১১টায় রাজধানীর সায়াবাদ আর কে চৌধুরী ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষের প্রার্থী সালাহ্উদ্দিনের পূর্ব ঘোষিত গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করতে পারেননি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টা বাজার কিছুক্ষণ আগেই যাত্রাবাড়ী বিএনপি নেতা আতিক উল্লাহ আতিক, মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

এরমধ্যে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম অনু, সভাপতি গিয়াস উদ্দিন গেসু, যুগ্ম সম্পাদক মো. মোহসীন, ডাকাত কালামসহ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর অনুসারীরা হামলা চালায়। এতে সাহলাহউদ্দিনের অনুসারীরা পিছু হটে।

এসময় ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে মনুর সমর্থকরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অবস্থান নেয়। বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন অভিযোগ করেন, আমাদের পূর্ব ষোষিত কর্মসূচিতে আওয়ালী লীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে, এতে কয়েকজন আহত হয়। তারা আজও হামলা চালিয়েছে।এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হতে পারে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান থাকতে ধানের শীষের প্রার্থীর সার্বিক নিরাপত্তাসহ নির্বাচনে প্রাচারে সুষ্ঠু পরিবেশ যেন নিশ্চিত করা হয়।

 এদিকে ঘটনাস্থলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি।

আমারসংবাদ/এআর/এআই