শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ১৬,২০২০, ০৩:৫১

মার্চ ১৬,২০২০, ০৩:৫১

অর্থনীতিতে নারীর অবদান বাংলাদেশে বড় সফলতার নজির

নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অভিমত ব্যক্ত করেন উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি দায়িত্বশীলতা। জবাবদিহির সঙ্গে সচেতন দায়বদ্ধতায় কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

বাংলাদেশেও তেমন উন্নয়নের জোয়ার আজ স্পষ্ট, দৃশ্যমান। সামগ্রিক অর্থনীতিতে এই জাগরণ সম্ভব হয় সর্বমানুষের মিলিত অংশীদারিত্বে। গোটা দেশের সিংহভাগ মানুষ আজ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রবৃদ্ধির স্রোত সারাদেশে সমপ্রসারিত হতেও সময় লাগছে না। অমর্ত্য সেন ভারত কিংবা পাকিস্তানে এমন উন্নয়ন কাঠামো এখনো দৃশ্যমান নয় বলে মন্তব্য করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী মিলনায়তনে ‘বাংলার পাঠশালা’ কর্তৃক আয়োজিত এক পাঠচক্রে অমর্ত্য সেন এমন মতামত তুলে ধরেন।

অসুস্থতার কারণে তিনি সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও স্কাইপের মাধ্যমে তার মূল্যবান বক্তব্য দর্শক-শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরেন। ‘সমৃদ্ধি ও ন্যায্য সমাজের সন্ধ্যানান্তে অমর্ত্য সেন’ শীর্ষক পাঠচক্রটির উদ্বোধন করে বাংলার পাঠশালা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সব মানুষের সচেতন অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে নারী উন্নয়নের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন এই নোবেলজয়ী।

নারীদের সচেতন অংশীদারিত্বে উন্নয়নের সমপ্রসারিত সফল অবস্থান জানান দিচ্ছে। তবে জবাবদিহিতা এবং কর্তব্যনিষ্ঠার ব্যাপারে আরও অনেক ভাবতে হবে। কারণ উন্নয়নের বিভিন্ন স্তরে এসবের ঘাটতি দৃষ্টিকটুভাবে দৃশ্যমান। ইংল্যান্ডের মতো দেশে যে নিয়মনিষ্ঠতা এবং জবাবদিহিতা প্রত্যক্ষ করা যায় তা সরাসরি অনুসরণ করা সম্ভব না হলেও কিছুটা দায়িত্ববোধ থাকাটা একান্ত আবশ্যক।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে উন্নয়নের জোয়ারে নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত কর্মযোগ অর্থনীতির খাতকে নজরকাড়াভাবে গতিশীল করেছে। বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন অর্থনীতি সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

নারী-পুরুষের মিলিত সম্পৃক্ততায় উন্নয়নের গতিধারা বেগবান করতে গেলে সংশ্লিষ্টদের মানসিক চেতনাও সমৃদ্ধ হওয়ার যৌক্তিক দাবি রাখে। আর তেমন অগ্রগামী চিন্তাধারায় নারীরা আজ ক্ষুদ্র ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে বৃহত্তর সামাজিক অঙ্গনে তাদের কর্মকাণ্ডকে মুক্ত আর অবারিত করতে সক্ষম হয়েছে। এখানে অর্মত্য সেন বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পৃক্ততাকেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় এনেছেন।

মূলত এদের সচেতন সহযোগিতায় নারীদের সুবিশাল কর্মক্ষেত্রে অবিচল চিত্তে এগিয়ে চলা, যা বাংলাদেশের জন্য এক বড় সফলতার নজির। প্রতিবেশী অন্য রাষ্ট্র বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কারণে এখনো অনেক পিছিয়ে। বিভিন্ন যৌক্তিক কাজের কাঠামোর মাধ্যমে একটি দেশ উন্নয়নের অভিগামিতায় উদ্দীপ্ত চেতনায় শামিল হয়।

তেমন কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সহযোগী বিষয়সম্ভার থাকার কারণে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে, যা মানুষের পেশাগত জীবনকে প্রভাবিত করছে। সঙ্গত কারণে অর্ধাংশ নারীও নিরবচ্ছিন্নভাবে নতুন নতুন কর্মপ্রকল্প গ্রহণ করতে পেছনের দিকে তাকাচ্ছেন না। ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক ও গণস্বাস্থ্যের কর্মপ্রকল্পসমূহ মানুষের মাঝে কাজের সক্ষমতা তৈরিতে বিশেষ অবদান রাখছে।

আমারসংবাদ/এআই