মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২০,২০২০, ১১:৪৫

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

আজীবন রেশন পাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা

আজীবন রেশন সুবিধা পাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। বর্তমানে কর্মরত অবস্থায় পুলিশের যে কোনো সদস্য তার পরিবারের সর্বোচ্চ চার ব্যক্তির জন্য রেশন পেয়ে থাকেন। এ বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনার লক্ষ‌্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা চিঠি পাঠানো হয়েছে। গেলো বছরের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পুলিশ সদস্যদের আজীবন রেশন সুবিধা দেয়ার বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব আশরাফ উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘যে সকল পুলিশ সদস্য অবসরে যাবেন, তাদের পরিবারের মোট দুই সদস্যের আজীবন রেশন সুবিধা প্রদানের বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনার নিমিত্তে তথ্য প্রেরণের জন্য বলা হলো। ’ যেসব তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে, সেগুলো হলো- ‘বর্তমানে পুলিশ সদস্যদের রেশনে কোন কোন আইটেম কী পরিমাণে দেয়া হয় (তথ্য ছকসহ)? আইটেমওয়ারি রেশনমূল্য ও ভর্তুকির পরিমাণ কত? যারা অবসরে যাবেন, তাদের পরিবারের দুই সদস্যকে আজীবন কী হারে রেশন দেয়া হবে? আজীবন রেশন প্রদান করা হলে, এ খাতে বার্ষিক মোট কত টাকা ভর্তুকি দিতে হবে? এবং ভর্তুকি কোন খাত থেকে কীভাবে মিটানো হবে? সূত্র জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ চিঠির জবাব দেয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। পুলিশ সদর দপ্তর সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। চলতি বছরে পুলিশ সপ্তাহে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিা স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলন। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পুলিশ সদস্যদের পরিবারের দুই সদস্যকে আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জানুয়ারি পুলিশ সপ্তাহের কল্যাণ সভায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা আশা করি, পুলিশ সদস্যদের পরিবারের দুজন সদস্যকে আজীবন রেশন সুবিধা প্রদানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এখন পুলিশের সদস্যরা রেশন হিসেবে পাঁচ ধরনের জিনিসপত্র পেয়ে থাকেন। তা হলো চাল, ডাল, তেল, আটা ও চিনি। স্বামী-স্ত্রী ও এক সন্তানসহ কারও পরিবারের তিন সদস্য হলে মাসে ৩০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, পাঁচ কেজি ডাল, ছয় লিটার তেল ও চার কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। কারও পরিবারের সদস্য স্বামী-স্ত্রীসহ চারজন হলে প্রতি মাসে ৩৫ কেজি চাল, ৩০ কেজি আটা, আট কেজি ডাল, আট লিটার তেল ও পাঁচ কেজি চিনি পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রীসহ সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য রেশন সুবিধা দেয়া হয়। কারও পরিবারের একজন সদস্য হলে এ হিসেবে রেশন পান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেনাবাহিনীতে অবসরকালীন রেশন সুবিধা নেই। তবে অবসরে যাওয়ার পর সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রতি মাসে 'খাবার ভাতা' পেয়ে থাকেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে অবসরকালীন ভাতার পরিমাণ প্রায় এগারোশ' টাকা। তবে কারও সন্তানের বয়স ১৮ বছরের নিচে হলে তিনিও সব পরিমাণ খাবার ভাতা পান। কিন্তু অবসরের পর অধিকাংশ সদস্যের সন্তানের বয়স আঠারোর কোঠা পেরিয়ে যায়। পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি-ভাতা দেয়া হয়। তবে পুলিশের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সব সদস্যের জন্য ঝুঁকি-ভাতা থাকলে ভালো। তাদের যুক্তি, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারাও প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষ জঙ্গিবিরোধী অপারেশনে পুলিশ বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আমারসংবাদ/এমএআই