সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২২,২০২০, ১১:২২

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

ই-পাসপোর্ট উদ্ধোধন, পাবেন যেভাবে

ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশেই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু হলো। এক্ষেত্রে বিশ্বে ১১৯তম দেশ বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অধিকতর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুজিববর্ষে ই-পাসপোর্ট দিতে পেরে তিনি দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে যা করার সবই করবেন বলে অনুষ্ঠানে জানান প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিববর্ষে ই-পাসপোর্ট জাতির জন্য একটি উপহার। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১১৮টি দেশে ই -পাসপোর্ট চালু হয়েছে। ১১৯তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করল।’ এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ই-পাসপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এই উদ্বোধনের ফলে আজ থেকে সর্বসাধারণের জন্য ই-পাসপোর্ট উন্মুক্ত হলো। অভিবাসন ও পাসপোর্ট অধিদফতর (ডিপিআই) সূত্র জানিয়েছে, দেশের নাগরিকদের মধ্যে প্রথম ই-পাসপোর্ট পাবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে ই-পাসপোর্টের জন্য তাদের দু’জনেরই ডিজিটাল ছবি ও ডিজিটাল সই সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবার থেকে প্রথমে রাজধানীর উত্তরা, যাত্রবাড়ী ও আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম শুরু হবে।পরবর্তী সময়ে দেশের ৭২টি আঞ্চলিক ও বিভাগীয় অফিসে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ৮২টি মিশনে এ কার্যক্রম চালু হবে। যা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। ই-গেট পদ্ধতিতে ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে পাসপোর্টধারীর প্রকৃত তথ্য ও ফেসিয়াল রিকগনিশন যাচাই করা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ২০২০ সালের মধ্যেই সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। এছাড়া বিদেশে অবস্থানরতরাও পর্যায়ক্রমে ই-পাসপোর্ট পাবেন। পাশাপাশি এমআরপি পাসপোর্ট কার্যকর থাকবে বলে জানান আসাদুজ্জামান খাঁন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে অথবা পিডিএফ ফরমেট ডাউনলোড করে পূরণ করা যাবে। এতে কোনো ছবির প্রয়োজন হবে না। কোনো ধরনের কাগজপত্রও সত্যায়িত করতে হবে না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি)-সহ মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদনপত্র নেয়ার সময় হাতের দশ আঙুলের ছাপ, ছবি ও চোখের আইরিশ ফিচার নেয়া হবে। একটি ই-পাসপোর্ট হবে ৪৮ পাতার, অন্যটি ৬৪ পাতার। পাঁচ বছর ও দশ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হারে ফি জমা দিতে হবে। মান তিন ধরনের। ‘অতি জরুরি’, ‘জরুরি’ ও ‘সাধারণ’। এরমধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অতি জরুরি’ ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট মাত্র দুই দিনে পেতে চাইলে ফি জমা দিতে হবে ৭ হাজার পাঁচশ টাকা। ৪৮ পাতার ‘জরুরি পাসপোর্ট’ পেতে সময় লাগবে সাত দিন। এর জন্য ফি জমা দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। ৪৮ পাতার ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ ১৫ দিনে পেতে ফি জমা দিতে হবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে, ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ ১৫ দিনে পেতে ফি লাগবে ৫ হাজার টাকা। সাত দিনে ‘জরুরি’ মানের ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পাতার ই-পাসপোর্ট পেতে ফি লাগবে সাত হাজার টাকা। আর মাত্র দুই দিনে ‘অতি জরুরি’ মানের ৪৮ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট পেতে ফি জমা দিতে হবে ৯ হাজার টাকা। পাঁচ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ ১৫ দিনে পেতে ফি লাগবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। সাত দিনে ‘জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে সাত হাজার ৫০০ টাকা। দুই দিনে ‘অতি জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। একইসঙ্গে ১৫ দিনে ৬৪ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ‘সাধারণ ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ৭ হাজার টাকা। সাত দিনে ১০ বছর মেয়াদি ৬৪ পাতার ‘জরুরি ই-পাসপোর্ট’ পেতে ফি জমা দিতে হবে ৯ হাজার টাকা। মাত্র ২ দিনে ‘অতি জরুরি’ মানের ৬৪ পাতার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট পেতে ফি জমা দিতে হবে ১২ হাজার টাকা। এই ফি’র সঙ্গে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট জমা দিতে হবে। আমারসংবাদ/এমএআই