মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২২,২০২০, ০২:২৯

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

‘ই-পাসপোর্টে বন্ধ হবে জালিয়াতি ও ভোগান্তি’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষের প্রথম উপহার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। ই-পাসপোর্ট চালুর ফলে অতীতের মতো আর গলাকাটা পাসপোর্ট হবে না। ভোগান্তি থাকবে না, বন্ধ হবে জালিয়াতি। বুধবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ই- পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করেন তিনি।বিশ্বের ১১৯তম দেশ হিসেবে আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত ই- পাসপোর্ট চালু করল বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো.শহিদুজ্জামান, পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাকিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় গলাকাটা পার্সপোটও প্রচলিত ছিল আমাদের দেশে। সেটা আর কখনো হবে না। এখন আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না। কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না। এখন স্বচ্ছতার সাথে চলবে এবং ই-গ্রেড থাকবে, যেখানে খুব সহজেই ইমিগ্রেশন দ্রুত করতে পারবে। সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করা হবে। একটা আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি এরই মধ্যে আমরা গ্রহণ করেছি। আর সেই সুযোগটা আমাদের দেশের মানুষ পাবে। ই-পাসপোর্ট বাংলাদেশিদের বিদেশ গমনাগমন সহজ করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে প্রকল্প আমরা ই-পাসপোর্ট করার জন্য গ্রহণ করেছি, তার ফলে আমরা মনে করি বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। কারণ আমরা যে পাসপোর্টটা দিতে যাচ্ছি এটা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট। সেখানে একজন পাসপোর্ট যে গ্রহণ করবে তার ছবি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, চোখের কর্নিয়া থাকবে। কাজেই সেখানে অতীতে যে একটা সমস্যা ছিল পাসপোর্ট নিয়ে যে একসময় গলাকাটা পাসপোর্টও প্রচলিত ছিল আমাদের দেশে, সেটা আর কখনও হবে না। এখন আর মানুষ ধোঁকায় পড়বে না। এখন স্বচ্ছতার সাথে চলবে। তিনি বলেন, ১১৮টি দেশে ইতিমধ্যে এটা প্রবর্তন হয়ে গেছে। কাজেই বাংলাদেশ এখন হল ১১৯টি দেশ। আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশই ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক। সে লক্ষ্যে যখনই যে প্রযুক্তি আসে আমরা সে পদক্ষেপ নেই। ২০১৫ সালে ২৪ শে নভেম্বর আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট দিতে শুরু করি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে আগামী ১০ বছরের জন্য আমরা এখন ই-পাসপোর্ট প্রদানের পদক্ষেপ নিয়েছি। ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান। বিদেশগামী শ্রমিকদের যেন হয়রানিতে না পড়তে হয়, সেদিকে দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে আজকে এগিয়ে গিয়েছি। আমাদের দেশের মানুষের আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন অনেক মানুষ বিদেশে যায়। আমাদের প্রবাসীরা বিদেশে কাজ করে রেমিটেন্স পাঠায়। যে রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। আমাদের সব ধরনের কার্যক্রমে তাদের বিরাট সহায়তা আমরা পাই। কাজেই তারা যাতে কোনোরকম হয়রানির শিকার না হন, সেটাও যেন আমরা লক্ষ্য রাখি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এরই মধ্যে বিশ্বের অনেক দেশে এই আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পাসপোর্ট গ্রহণ করেছে। বিশ্বের ১১৮টি দেশে এই পাসপোর্ট চালু আছে। বাংলাদেশ এখন হলো ১১৯তম দেশ। আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশেই ই-পাসপোর্ট চালু করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকার চায়, বাংলাদেশ উন্নত হবে, সমৃদ্ধশালী হবে ও আত্মমর্যাদাশীল হবে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে গেছি। আমাদের দেশের মানুষেরও আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে। এখন বিদেশে অনেক মানুষ যায়। আর আমাদের প্রবাসীরা বিদেশে কাজ করে, রেমিটেন্স পাঠায়। যে রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখে। দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রবাসীদের রেমিটেন্স বিরাট সহায়তা দেয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যাতে কোনোরকম হয়রানির শিকার না হন, সেটাও আমরা লক্ষ্য রাখি। এরই মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এবং বিদেশে অবস্থিত ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনে পাসপোর্ট ও ভিসা উইংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ভিসা ইমিগ্রেশন সেবাকে আমরা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছি। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোগী করতেই ই-পাসপোর্ট দিতে যাচ্ছি। ই-পাসপোর্ট প্রচলন করার ফলে ইমিগ্রেশন সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিকমানের হবে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ প্রবাসীরা যখনি আসেন, তখনি শোনা যায় তারা নানারকম হয়রানির শিকার হন। ভবিষ্যৎতে তারা আর হয়রানির শিকার হবেন না। এছাড়া যারা বিদেশ যান তাদেরও কোনোরকম হয়রানির শিকার হতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এরই মধ্যে আমরা আমাদের অধিদফতরের অবকাঠামো এবং নিজস্ব ভবন তৈরি করে দিয়েছি। আমরা চাই, সবসময় যেন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারি। সেভাবেই আমরা দেশকে গড়তে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে এই পর্যন্ত আমরা সরকার পরিচালনা করছি। আমাদের সৌভাগ্য যে, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন হবে। এরই মধ্যে ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। আমরা মুজিববর্ষ ঘোষণা দিয়েছি। আর এই মুজিববর্ষে মানুষ ই-পাসপোর্ট পাবে। আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন নতুন পাসপোর্ট পাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছি। সেই সেবা মানুষ পাচ্ছে। মানুষের জীবনমান সহজ হয়েছে। আমরা আরও এগিয়ে যাব। বাংলাদেশ হবে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ; যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। ‍আমারসংবাদ/এমএআই