সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ২১,২০২০, ০৩:৫৫

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক?

চলতি বছর হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া লাগবে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। যা গত বছরের তুলনায় ১২ হাজার টাকা বেশি বাড়িয়েছে বিমান মন্ত্রণালয়। গত বছর ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ২০১৮ সালে হজযাত্রী প্রতি বিমান ভাড়া ছিল ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। হজ এজেন্টদের সংগঠন হাবের দাবি, কোনো ট্যাক্স ও জেট ফুয়েলের দাম না বাড়ায় ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক। এতে হজ প্যাকেজের মূল্য বাড়বে। বিমান সচিবের দাবি, নানা কারণে খরচ বেড়েছে। গত বছর ভাড়া কমানোর ফলে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সুফল পাননি হজযাত্রীরা। তবে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী বলছেন, ভাড়া যৌক্তিক হওয়া উচিত। হজযাত্রীদের মোট খরচের বড় অংশই বিমানভাড়া। তাই প্রতি বছরই ভাড়া নিয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাবের দরকষাকষি হয়। গত বছর সব পক্ষের অনুরোধে আগের বছরের চেয়ে ১০ হাজার টাকা কমিয়ে ভাড়া ১ লাখ ২৮ হাজার নির্ধারণ করা হয়। গেলো রোববার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে চলতি বছর ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার করতে সম্মত হয় বিমান মন্ত্রণালয়। হাবের দাবি, ভাড়া বাড়ানোর কোন যৌক্তিক কারণ দেখানো হয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম কমায় ভাড়া কমানো উচিৎ। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মিহিবুল হক জানান, ২০১৮ সালে ছিলো ভাড়া ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। তবে গত বছর ১ লাখ ২৮ হাজার করায় আর্থিকভাবে ক্ষতি হয় বিমানের। ডলারের দাম ও ট্যাক্স ফি বৃদ্ধি সহ সব দিক বিবেচনা করে এবার ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিমান প্রস্তাব করেছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ভাড়া করার জন্য। কিন্তু আমরা সার্বিক বিবেচনা করে এবারের ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ভাড়াকে অযৌক্তিক দাবি করে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলছেন ওমরাহ যাত্রীদের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ বেশি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে যেতে পারে। হাবের সভাপতি শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ফুয়েলের দাম বাড়েনি। কোনো নতুন ট্যাক্স নির্ধারণ হয়নি। বাড়তি কোনো খরচ নেই তাহলে দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। বিমান সচিবের দাবি বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়ায় ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। গত বছর কমালেও নানা অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিয়েছে হজ এজেন্সিগুলো । তিনি আরও বলেন, যেহেতু এই ভাড়া অযৌক্তিক তাই হাব এই ভাড়া মানছে না এবং মানবে না। তবে মন্ত্রণালয় ভাড়া নির্ধারণকে যৌক্তিক দাবি করলেও হাব বলছে তা অযৌক্তিক। আমারসংবাদ/এমএআই