মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ

জানুয়ারি ২১,২০২০, ১২:৫৬

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

মাইকিং পোস্টারেও আগ্রহ বাড়াতে পারছে না ভোটারদের

সিটি নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে এখন। সাধারণত এ সময়েই প্রতিটি চায়ের স্টল থেকে শুরু করে রিকশাওয়ালা পর্যন্ত নির্বাচনের সমীকরণে যোগ দেন। কিন্তু চলমান দুই সিটি নির্বাচণে প্রচুর পরিমাণ পোস্টারিং, পাশাপাশি মাইকিং পুরোদমে চললেও কোনো কিছুতেই আগ্রহ তৈরি করতে পারছে না ভোটারদের মাঝে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। তারপরও তেমন কোনো আগ্রহ প্রকাশ করছে না ভোটাররা। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চায়ের স্টলগুলোতে যথা নিয়মে চা, সিগারেট, পান খাওয়া চলছে। বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হলেও ভোট নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৫০নং ওয়ার্ডের ফরিদের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, চা আর সিগারেট খাচ্ছে খলিল মিয়া। নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব বিষয় ছাড়া অন্য কোনো কথা থাকলে বলেন। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। ভোটের দিন আসলে গিয়ে দেখবেন ভোটারদের আর ভোট দিতে হয় না। অটো ভোট হয়ে যায়। যেখানে নিজের ভোট নিজে দিতে পারি না। সেখানে ভোট নিয়ে আলোচনা করে লাভ নেই। তার সাথে কথা বলতে দেখে এগিয়ে আসেন কাঞ্চন মিয়া। তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গেলাম। কেন্দ্রের দরজায় যাওয়ার পরই এলাকার এক ভাতিজা বলতেছে চাচা আপনার ভোট দেয়া শেষ। চলে যান। যে কারণে ভোটের প্রতি মানুষের আর এখন আগ্রহ নেই।তাদের সাথে সুর মিলিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বর্তমান কাউন্সিলর প্রার্থী ঝুম্মন মিয়া। তিনি আমার সংবাদকে বলেন, আজ থেকে পনের বছর আগে নির্বাচনের যে আমেজ ছিলো এটা এখন আর নেই। কারণ এখন আর ভোটারদের ভোট দিতে হয় না। ভোটের আগের রাত্রেই ভোটের বাক্স ভরে রাখা হয়। এদিকে আ.লীগের প্রার্থীরা ভোটারদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছে যেন ভোটকেন্দ্রে না যায়। তাহলে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনের আমেজ থাকবে কিভাবে? আমি নামাজ পড়ে পড়ে ভোটারদের মাঝে বক্তব্য দিচ্ছি যাতে তারা ভয় ভীতি না পেয়ে ভোটকেন্দ্রে যায় এবং ভোট দেয়। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ দুই সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩০ জানুয়ারি ভোট হওয়ার কথা থাকলেও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজার কথা মাথায় রেখে এ তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। এদিকে তারিখ পরিবর্তন হলেও মাইকিং প্রচারে এখনো ৩০ তারিখই বলা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মাঝে সংশয় তৈরি হচ্ছে। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬১, ৬২ ও ৬৩নং ওয়ার্ডের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর ফুলবানু আমার সংবাদকে বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের নমিনেশন না দেয়ার কারণে ভোটারদের মাঝে আগ্রহ কম। ভোটাররা যাকে চেয়ে ছিলো দল তাদের নমিনেশন দেয়নি। দিয়েছে অন্য একজনকে। যে কারণে ভোটারদের মাঝে নির্বাচনি আমেজ নেই। আমার এলাকার সকল মুরব্বিরা আমাকে চেয়েছিল। কিন্তু দল আমাকে দেয়নি। যে কারণে দেখা যায় আমার এলাকার জনগণের মাঝে একটু নীরবতা কাজ করছে। তবে আমি তাদের বলছি দল যাকে নমিনেশন দিয়েছে তার পক্ষে কাজ করার জন্য। এদিকে এই তিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চায়ের স্টল থেকে শুরু করে এলাকার পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনের তেমন কোনো আমেজ নেই। প্রতিটি রাস্তাই পোস্টারে ছেয়ে গেছে। পাশাপাশি চলছে জোরেশোরে মাইকিং। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেয়রপ্রার্থীরা কেউ বসে নেই। সবাই ব্যস্ত রয়েছেন ভোটারদের মন জোগাতে। তবে ভোটাররা মনে করছেন নির্বাচন নির্বাচনের মতো করে হবে। এতে তাদের কোনো প্রয়োজন নেই। ধনিয়া গোয়াল বাড়ি মোড়ে কয়েকজন এক সাথে বসে আছে। এরই মধ্যে এক প্রার্থীর পক্ষে লিফলেট দিয়ে গেছেন কয়েকজন যুবক। এটা হাতে নিয়েই তারা সবাই হাসছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই হাসছেন কেন? তখন সেখান থেকে কামাল নামের একজন বলে উঠে, হাসব না, তো কি করবো? এসব নাটক করে লাভ কি? আমাদের কাছে ভোট চেয়ে কোনো লাভ আছে? নির্বাচন তাদের মতেই হবে। আগের দিন রাতে ভোটের বাক্স ভরে রাখবে। আমরা গেলে বলবে ভোট দেয়া হয়ে গেছে। বললাম এবার তো ইভিএমে ভোট হবে। তখন জামিল নামের একজন বললো, এটা তো আরও বেশি সহজ। জাস্ট দরজা বন্ধ করে ধুম টিপপে। এক ঘণ্টার মধ্যেই ভোট কাউন্ট করা শেষ হয়ে যাবে। তারা বলেন, মূল ব্যাপার হচ্ছে ভোট স্বচ্ছ করার জন্য আগে নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছ হতে হবে। এবং জনগণ যেভাবে ভোট দিতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এটা না করা গেলে ভোট যেভাবেই হোক না কেন চুরি হবেই। নির্বাচন কমিশনতো বলছে নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে। এমন প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, এটা আগেও বলেছিল। আবার কিছুদিন আগে নির্বাচন কমিশনার নিজেই বলেছে যে, ইভিএমে ভোট হলে আগের রাতে বাক্স ভরার সুযোগ থাকবে না। তাহলে আগে যে বাক্স ভরা হয়েছে সেটা স্বীকার করলেন। এবার একই মোড়কে ভিন্ন পন্থা ছাড়া আর কিছুই না। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে তারা মনে করেন না। নির্বাচনে সাধারণ মানুষের ভোট দেয়ার সুযোগ থাকবে না বিধায় ভোটারদের মাঝে নির্বাচনি আমেজ নেই। আমারসংবাদ/এসটিএমএ