মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥শাহ আলম নূর

জানুয়ারি ২১,২০২০, ০১:০৫

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সরকারের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা

সারা দেশের অধিকাংশ বাড়ির মালিক সরকারকে তাদের বাড়িভাড়ার রাজস্ব দিচ্ছে না। বাড়ির মালিকরা মাস শেষে হিসাব কষে ভাড়া আদায় করলেও অধিকাংশ বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়াকে রসিদ দিচ্ছেন না। দেশের ৪৫ ভাগ বাড়ির মালিক তাদের প্রাপ্ত ভাড়ার চেয়ে কম রাজস্ব দিচ্ছেন। অপরদিকে ২৫ ভাগ বাড়ির মালিক কোনোরকম রাজস্বই দেন না। এদের মধ্যে অনেকে রসিদ দিলেও তাতে আদায়কৃত টাকার অঙ্কের চেয়ে কম দেখাচ্ছেন। বাড়ির মালিক মোটা অঙ্কের বাড়িভাড়া আদায় করলেও তথ্য গোপন করে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। এতে প্রতি বছর সরকার হারাচ্ছে হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। সাম্প্রতিক সময়ে এনবিআর রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৫০ হাজার টাকা বা তার বেশি এবং অন্যান্য বিভাগীয় শহরে ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয়ের বাড়ির মালিকদের ব্যাংক হিসাব ও বাড়িভাড়া পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পর রাজস্ব ফাঁকির এমন ভয়াবহ চিত্র খুঁজে পায়। বাড়িয়ালাদের রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। সিআইসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সারা দেশে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ উচ্চ আয়ের বাড়িওয়ালা ভাড়া হিসাবে যে পরিমাণ অর্থ আদায় করছে রাজস্ব দিচ্ছে তার চেয়ে কম। শতকরা ২০ থেকে ২৫ জন রাজস্ব পরিশোধই করে না। এনবিআর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি আভিজাত্যপূর্ণ এলাকার এক লাখ ৭৮ হাজার বাড়ির মালিক বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে অধিকাংশই মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। শতকরা ৬০ থেকে ৭০ জন এনবিআর কর্মকর্তাদের বাড়িভাড়ার রসিদ দেখাতে পারেননি। শুধু রাজধানী ও চট্টগ্রামের পাঁচটি কর অঞ্চলে চার লাখের বেশি বাড়ির মালিকদের ইটিআইএন নেই। আবার ইটিআইএন থাকলেও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেনি এমন বাড়ির মালিকের সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজার। এনবিআরের সাবেক এক চেয়ারম্যান বলেন, অনেক বড় বড় বাড়ি দেখা যায়। এসব বাড়ির মালিক ভাড়া হিসাবে বড় অঙ্কের অর্থ আয় করেন। অথচ অনেক বাড়ির মালিক রাজস্ব ফাঁকি দিতে কত টাকার বাড়িভাড়া পাচ্ছেন তার তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করছেন না। বাড়িভাড়া খাতে সঠিক হিসাবে রাজস্ব আদায়ে নজরদারি বাড়ানো দরকার। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কাছে কয়েক দফা চিঠি পাঠিয়ে কোটি টাকা দামের প্রায় এক হাজার গাড়ির মালিকের তালিকা সংগ্রহ করেছে এনবিআর। এ তালিকা বিভিন্ন কর অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে আয়কর রিটার্নের তথ্য খতিয়ে দেখা যায়, অনেকেরই কোটি টাকা দামের গাড়ির তথ্য উল্লেখ করেননি তাদের রিটার্নে। কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলের এক কমিশনার বলেন, রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে কোটি টাকা দামের গাড়ির মালিকদের অনেকে তার ব্যবহূত গাড়ির তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করেন না। এসব ব্যক্তির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাড়িভাড়া থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পাওয়ার কথা সেই পরিমাণ পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে এনবিআর বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে গেলে বিভিন্ন ধরনের বাধা আসে। তিনি বলেন, অধিকাংশ বাড়ির মালিকরা সম্পদশালী ও সমাজের প্রভাবশালী। এসব বাড়ির মালিক যখন তখন বাড়িভাড়া বাড়িয়ে থাকেন। বাড়িভাড়ার লেনদেন যখন হিসাবের মধ্যে আসবে তখন তারা তাদের ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াতে পারবেন না। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, বাড়ির মালিকদের অনেকে বাড়িভাড়া হিসাবে কত আয় করেন তার সঠিক তথ্য রিটার্নে উল্লেখ করেন না। একইভাবে অনেকে কোটি টাকা দামের গাড়ি ব্যবহার করলেও তার তথ্যও রিটার্নে দেখাচ্ছেন না। অনেকেই নানাভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন। এতে সরকার প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে সঠিক হিসাবে আদায়ে এনবিআর সক্ষম হলে মোট রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি মনে করেন। আমারসংবাদ/এসটিএমএ