মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম ও রফিকুল ইসলাম

জানুয়ারি ২১,২০২০, ০১:০৭

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সময় কমছে প্রচারণা বাড়ছে

  • বিএনপির কথা ঢাকাবাসী গ্রহণ করে না : তাপস
  • তরুণরাও নেতৃত্ব দিতে পারে দেখিয়ে দেবো : ইশরাক
  • প্রতিপক্ষ অভিযোগ দেবে, আমি উন্নয়নের বার্তা দেবো : আতিকুল
  • ভোটাররা ভোট দিতে পারলে জয় আমাদের সুনিশ্চিত : তাবিথ
আর মাত্র ১০ দিন পর ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটির ভোট। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। তাদের সাথে নিজ নিজ দলের সমর্থকরাও ছুটছেন ভোটারের বাড়ি বাড়ি। শুধু প্রার্থী আর কাউন্সিলর নয়, তাদের সমর্থকরাও প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গ্রুপ তৈরি করে স্ব-স্ব দল ও সমর্থকদের ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। তাদের প্রচারণা ও প্রতীশ্রুতিতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নগরের পাড়া-মহল্লায়। নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই কমে আসছে ততই জমজমাট ভোট প্রচারণার সঙ্গে ভোটারাও নানা হিসাব-নিকাশ তৈরি করছেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিসহ সবগুলো দলের প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় যোগ্য প্রার্থীর চেয়ে দলীয় প্রতীককেই সাধারণ ভোটাররা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে অনেকে মনে করছেন। এদিকে ভোটের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আশায় প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রচারণায় থেকে ভোটারদের আকৃষ্ট করার সর্বশেষ চেষ্টা করছেন তারা। দিয়ে যাচ্ছেন নগর উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময়ের উন্নয়নের কথা বলছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা নগরের বিভিন্ন অসঙ্গগতি তুলে ধরে তারা নির্বাচিত হলে সেগুলো সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। সিটি নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসাবে গতকালও ভোটের মাঠে ছিলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা। নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী নির্বাচনটাকে তথা ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য নয়, ঢাকাবাসীর কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য নয়, ঢাকাবাসীর কষ্ট লাঘবের জন্য নয়, ঢাকাবাসীকে একটি উন্নত ঢাকা উপহার দেয়ার জন্য নয়, বরং তারা বারবার বলছে, এটা তাদের আন্দোলনের একটি অংশ। একইসঙ্গে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার আন্দোলনের একটি অংশ হিসেবে দেখছেন। সুতরাং আমি মনে করি না ঢাকাবাসী সেটাকে গ্রহণ করবে। এখন নতুন করে তারা আবার ইভিএম-এর ব্যাপারে বলছে। ঢাকাবাসী তাদের কথা গ্রহণ করেনি। তাই আমি মনে করি, আধুনিক প্রযুক্তি সবাই সাদরে গ্রহণ করেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকাবাসী তাদের সেবক নির্বাচিত করবে। গতকাল রাজধানীর খিলগাঁও রেলগেট বাটার মোড় সংলগ্ন এলাকায় ১১তম দিনে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, আমরা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাস্তা নির্ধারণ করে সড়কগুলোর জন্য তথ্যভাণ্ডার সৃষ্টি করবো। সেই তথ্যভাণ্ডার অনুযায়ী একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করবো, অন্যদিকে হকারদের পুনর্বাসন করবো। তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে একটি মহাপরিকল্পনার আওতায় ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং সচল হিসেবে গড়ে তুলবো। সেখানে রাস্তা হোক আর ফুটপাত হোক সেগুলো অবমুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা নেবো। আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী বলেন, আমরা ব্যাপক স্বতঃফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ঢাকাবাসী আমাদের এই প্রাচ্যের ঢাকাকে ভালোবাসে। তারা আরও উন্নত ঢাকা চায়। সে প্রেক্ষিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারির সিটি নির্বাচনে ঢাকাবাসী এই সুযোগটা নেবে। নব সূচনা গড়ার লক্ষ্যে, উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে ভোটকেন্দ্রে সকালে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের সেবককে নির্বাচিত করবে। একইসঙ্গে তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে। তাপস আরও বলেন, ঢাকাবাসীর জন্য এরই মধ্যে আমরা আমাদের উন্নয়নের রূপরেখা দিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি ঢাকাবাসী সেটা সাদরে গ্রহণ করেছে। এভাবে উন্নয়নের রূপরেখা কেউই এই নির্বাচনেও দেয়নি। এর আগেও কেউ দেয়নি। আমরা সুনির্দিষ্ট রূপরেখার আওতায় উন্নত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে বিস্তারিত আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে প্রকাশ করবো। আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারের কার্যক্রম চলছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সেটার ওপর কাজ করছে। আমরা আশা করছি আরও দু-একদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ইশতেহার ঢাকাবাসীর কাছে প্রকাশ করতে পারবো।’ এদিকে আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তাপস বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা যতদিন চলবে এটা হতে থাকবে। এটি রাজনৈতিক কৌশল। আমি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো নিদর্শন দেখছি না। এটি নিছক একটি অভিযোগ করতে হয় তাই তারা (বিএনপি) করছে। এসময় নির্বাচনি প্রচারণায় তাপসের সঙ্গে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে সকাল থেকেই খিলগাঁও এলাকায় জড়ো হতে থাকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিভিন্ন উন্নয়নের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে খিলগাঁও এলাকা। বয়স নিয়ে প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাব দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন বলেছেন, সরকারদলীয় প্রার্থী আমার বয়স নিয়ে সমালোচনা করেন। আমি তরুণসমাজকে বলবো আপনারা আমার সাথে থাকবেন, আমাকে ভোট দেবেন। আমরা দেখিয়ে দেবো তরুণরাও নেতৃত্ব দিতে পারে। গতকাল সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে থেকে ১১তম দিনের প্রচারণা শুরুর আগে দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ইশরাক বলেন, এই সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও ঢাকা শহরের গুণগত পরিবর্তন করতে পারেনি। তাই এখন একটি পরিবর্তন দরকার। আপনারা যদি আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন আমি এই ঢাকা শহরকে সুন্দর একটি বাসযোগ্য শহরে পরিণত করবো। পাশাপাশি আমাদের দলের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে আন্দোলন-সংগ্রাম চলছে তা ত্বরান্বিত করতে প্রাণপণ কাজ করে যাবো। এদিকে বিএনপির প্রার্থীদের এমন অভিযোগের পাত্তাই দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, কানো অভিযোগ নয়, আমি মানুষের সমস্যার সমাধান করতে চাই। প্রতিপক্ষ অভিযোগ করবে কিন্তু আমি উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। গতকাল রাজধানীর খিলক্ষেত রেলগেট এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষ, আমার ভাতিজা তাবিথ আউয়াল বলেছেন, আমি আচরণবিধি লঙ্ঘন করছি। আমি কোনো অভিযোগ করতে চাই না, আমি চাই মানুষের সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায় সেই চেষ্টা করে যেতে। তাই উনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা বলবেন, আর আমি বলবো কীভাবে এলাকার উন্নয়ন করা যায়। কাজেই প্রতিপক্ষ অভিযোগ করবে, আর আমি উন্নয়নের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। তিনি আরও বলেন, মানুষের প্রত্যাশা সকল সেবা সংস্থার কাজ তড়িৎগতিতে হোক, ভোগান্তি কম হোক। আমরা নির্বাচিত হলে সবার আগে সকল সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করবো। নির্বাচিত হলে সিটি কর্পোরেশনকে যেমন জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে চাই, তেমনি ওয়াসাসহ সকল সেবা সংস্থাকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আসতে হবে। অন্যদিকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, আমরা মনে করি পরিস্থিতি ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এরকম থাকলে, ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত। গতকাল মিরপুরের পল্লবী এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণায় তিনি এসব কথা বলেন। তাবিথ বলেন, আমরা যখনই প্রচারণা শুরু করি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিন পরিস্থিতি পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা বাড়ছে, আমরা দেখছি জনমত আমাদের পক্ষে রয়েছে, সাধারণ জনগণের পক্ষে রয়েছে। আমরা দুর্নীতি, দুঃশাসন, ডেঙ্গু ও দূষণ থেকে যেমন মুক্তি চাই, সেভাবে আমরা চাই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক। তিনি আরও বলেন, জাতীয়বাদী দলের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা, সাধারণ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনা, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীলতার মধ্যে নিয়ে আসা। যেন সব রাজনৈতিক দল জনকল্যাণে কাজ করতে পারে। আমাদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে, আগামীতে ঢাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে যত বাধাই আসুক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবো ইনশাআল্লাহ। আমারসংবাদ/এসটিএমএ