মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম ও আবদুর রহিম

জানুয়ারি ২১,২০২০, ০১:৩৪

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সিটি ভোটে ইভিএম বিতর্ক

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন- ইভিএম বা ই-ভোটিং। আধুনিক বিশ্বে গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলন হয়ে আসছে। ১৯৬৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭টি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে এই পদ্ধতি ব্যবহারের মধ্যদিয়ে বিশ্বে পরিচিত লাভ করে ইভিএম। ২০০৭ সাল হতে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটগ্রহণ পদ্ধতিটি বাংলাদেশে ব্যবহারের সূত্রপাত্র ঘটে। এরপর দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, সর্বশেষ গত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বেশকিছু কেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ইভিএমে ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনের গত নির্বাচনে ১৪টি কেন্দ্রে ও নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের ৫৮টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে ইভিএম পদ্ধতি চালুর উদ্যোগের শুরু থেকেই দ্বিমত রয়েছে রাজনৈতিক মহলে। একটি পক্ষ বলছে- ইভিএম সঠিক, স্বচ্ছ এবং দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা যায় এমন একটি প্রযুক্তি। আরেকটি পক্ষ বলছে- ডিজিটাল ভোট কারচুপি একটি পদ্ধতি হচ্ছে ইভিএম। আসন্ন ৩০ জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এরপর থেকেই চলমান ইভিএম বিতর্ক আবারো ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে এসেছে। ইসি বলছে, ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতেই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনিয়ম ও কারচুপি কমবে। ইসি বলছে, ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতেই ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে অনিয়ম ও কারচুপি কমবে। ক্ষ মতাসীন আওয়ামী লীগ বলছে- ইভিএম নিয়ে জনগণের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই। তবে ভোট কারচুপি ও ফলাফল পাল্টে ফেরার অভিযোগ তুলে ইভিএমের বিরোধিতা করছে বিএনপি। ইভিএমকে ভোট চুরির প্রকল্পও বলছেন বিএনপি নেতারা। সিটি ভোটারের মধ্যে ইভিএম নিয়ে কোনো উৎকণ্ঠা নেই : তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মনে করেন ইভিএম নিয়ে ভোটারদের মধ্য কোনো উৎকণ্ঠা নেই। জনগণ ইভিএম গ্রহণ করেছে। যারা বিরোধিতা করছে- হয়তো না বুঝে, নয়তো বিরোধিতার জন্য। ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে, আপনার মতামত কি জানতে চাইলে শেখ ফজলে নূর তাপস আরও বলেন, জাতিগতভাবে আমরা প্রযুক্তি পছন্দ করি। প্রযুক্তি আমাদের জীবনমান অনেক উন্নত করেছে। আমিও এবার প্রথম ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেব। প্রথম দিকে ইভিএম নিয়ে উৎকণ্ঠা ছিলো। যখন নির্বাচন কমিশনের ভিডিওটি দেখলাম, তখন বুঝলাম এটি একটি স্বচ্ছ ও সহজ পদ্ধতি। ভিডিও সোস্যাল নেটওয়ার্কে দেয়া হয়েছে, মানুষ দেখছে এবং সহজভাবে জনগণও সেভাবেই গ্রহণ করেছে। এখন ইভিএম নিয়ে ভোটারদের কোনো শঙ্কা নেই। প্রচারণা শুরু হলে আরও পরিষ্কার হবে। এসসময় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ক্ষমতাসীন দলের এ প্রার্থী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ওঠেনি। আশাকরি সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে এবং জনগণ তার সেবক নির্বাচন করবে। রিজার্ভের অর্থ চুরি হয়েছে ভোট চুরিও সম্ভব : ইশরাক ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেন আমার সংবাদকে বলেছেন, ‘ইভিএম সম্পর্কে আমার সম্পূর্ণ ধারণা রয়েছে। ইভিএম সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের যে অংশটা রয়েছে সেটা আমাদের বুঝিয়েছে। কিন্তু এখানে কী সফটওয়্যার দ্বারা ইভিএম চালিত হচ্ছে এবং ভেতরে কী প্রোগ্রাম রয়েছে সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই। ইভিএম নিয়ে আমাদের আস্থা রাখার কোনো প্রশ্নই আসে না।’ ‘ইভিএম সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ ধারণা রাখি। যদি ইভিএম প্রোগ্রামিং করা হয়, তাহলে ভোটের ফলাফল পরিবর্তন করা সম্ভব। এর আগে প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরি হয়েছিল।’ ইশরাক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দলীয় সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার নজির নেই। যদি কোনো নির্বাচন স্থানীয়ভাবে দু-একটি নির্বাচন হয়েও থাকে সেটি সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী হয়েছে। সেটাই তো হওয়ার কথা নয়, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, অসুস্থ হবে, এটাতো গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অবশ্যই নির্বাচন মানে সুষ্ঠু হতে হবে। আমরা যেহেতু একটা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি আমি ব্যক্তিগতভাবে এখানে দৃঢ় বিশ্বাস করি কারচুপি হবে সরকারের ইশারায়, বাইরে কিছু হবে না । ইভিএম নিয়ে তারা আগেই কীভাবে বলে এটি আমার প্রশ্ন : আতিক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতাসীন দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী (বর্তমান মেয়র) আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ইভিএমে সুষ্ঠু ভোট হবে। তারা (বিএনপি) বলছে, প্রহসনমূলক ভোট, কিন্তু সেটি সত্য নয়। ভোট হবে সুষ্ঠু। ইভিএম নিয়ে ওনারা আগে থেকেই কীভাবে বলে? এটি আমার প্রশ্ন। ভোট ইভিএমে আমাদের যেতে হবে, পার্শ্ববর্তী দেশ ইতোমধ্যে ইভিএমে চলে গেছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত এ প্রার্থী আরও বলেন, আশা করি এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। কেউ হারবে, কেউ জিতবে, এটাই বাস্তবতা। মাঝপথে ভোট থেকে যেন কোনো প্রার্থী সরে না যায়, সেটিই আমি আশা করি। ভোট চুরি ডিজিটালভাবে হবে ইভিএমে ভোট করা যাবে না : তাবিথ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ইভিএমে কেমন ভোট হবে এটা দেখার জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমাদের যে আশঙ্কা, যে চিন্তা, ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছি, টেকনিক্যালভাবে বলেছি, আইনিভাবে বলেছি। আগামী দিনগুলোতে এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের সাথে আমরা আবার বসবো। এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করাটা একেবারেই উচিত হবে না। ব্যবহার করলে কি হবে, ভোট চুরি, ডিজিটালভাবে হবে। অনেক ভোটার এ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তারা ভোট দিবেন এক প্রতীকে তা হয়ে যেতে পারে আরেক প্রতীকে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন কি না! ভোট দিতে পারলেও ভোট সঠিকভাবে গণনা হবে কি না, মেশিন কাজ করবে কি না— এ প্রশ্নগুলোর উত্তর যতক্ষণ পর্যন্ত পাওয়া যাবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত শুধু আমরা কেন সারা দেশবাসী বলবে ইভিএমে ভোট করা যাবে না। আমারসংবাদ/এসটিএমএ