সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম

জানুয়ারি ২২,২০২০, ১২:২৮

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সিদ্ধান্ত মানছে না আ.লীগের বিদ্রোহীরা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ওমর বিন আবদুল আজিজ (তামিম)। আসন্ন সিটি নির্বাচনে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে তিনিই আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত এই প্রার্থীর ভোটের মাঠে বড় বাধা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাগর আহমেদ শাহীন। তিনি দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোটের মাঠে বিদ্রোহ করেছেন। এই বিদ্রোহীকে বসিয়ে দেয়ার জন্য এ প্রতিবেদকের সামনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা তাকে ফোন করেন এবং বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব বিদ্রোহীকে বসিয়ে দেয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এসময় তিনি আরও বলেন, তোমাকে আগামীতে মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে। তুমি তোমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করো। কিন্তু তিনি কেন্দ্রীয় এ নেতার কথায় পাত্তা না দিয়ে নির্বাচন চালিয়ে যাওয়ার কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। দীর্ঘ ১০ মিনিট ফোনালাপে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এই নেতা ব্যর্থ হলে তাকে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসার পরামর্শ দেন এবং বলেন, তুমি চাইলে তোমাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার সুযোগ করে দিচ্ছি। সভানেত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর শুধু এই বিদ্রোহী কাউন্সিলরই নয়, প্রতিটি বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার জন্য ফোনে অথবা সরাসরি যোগাযোগ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তারা কোনো কোনো বিদ্রোহীকে ডাকছেন পার্টি অফিসে। আবার কোনো কোনো প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবতায় ভিন্ন চিত্র। কেন্দ্রের এসব নেতাদের নির্দেশনার তোয়াক্কা করছেন না বিদ্রোহীরা। অভিযোগ রয়েছে, এসব বিদ্রোহীর পেছনে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সাংসদরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭ নম্বর ওয়র্ডের বিদ্রোহী প্রার্থী সাগর আহমেদ শাহীন আমার সংবাদকে বলেন, আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটাররা চায় আমি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকি। তাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি না। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবো। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ওমর বিন আবদুল আজিজ (তামিম) আমার সংবাদকে বলেন, আমি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী। অথচ আমাকেই বারবার হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক। আ.লীগ সূত্র জানায়, সিটি নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহীদের বসিয়ে দিতে প্রথম থেকেই হার্ডলাইনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের কঠোর নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। সভানেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছেন দুই মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা সিটির অন্তর্গত সংসদ সদস্যসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। অন্যদিকে এমপি ও নগর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় দুই সমন্বয় কমিটি। ভোটের মাঠ থেকে এসব বিদ্রোহীকে বসিয়ে দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের এই কর্মকৌশল কাজে লাগছে না। তাদের নানা চেষ্টা ও উদ্যোগ সত্ত্বেও এখনো ভোটের মাঠে অনড় প্রায় সব বিদ্রোহী প্রার্থীই। তথ্যমতে, আগামী ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভোট। অনুষ্ঠেয় ওই ভোটকে সামনে রেখে উত্তরের ৫৪টি ও দক্ষিণের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ ও ৭০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে এমপিপুত্র, আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পদধারী নেতারাও রয়েছেন। তারা দলীয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পুরো নির্বাচনি এলাকায় দেখাচ্ছেন ক্ষমতার দাপট। বিদ্রোহী প্রার্থী ও সমর্থকদের ক্ষমতার দাপট এবং হুমকি-ধমকিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা। বাধা দেয়া হচ্ছে প্রচার-প্রচারণায়। ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের পোস্টার। ভোটের মাঠে এমন চিত্রে বিরোধী শিবিরের চেয়ে মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহী ও দলীয় সমর্থিত প্রার্থীদের মাঝে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় বাধা, হত্যার হুমকি, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন দাবি করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী গোলাম আশরাফ তালুকদার আমার সংবাদকে বলেন, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে আমি নিজের ও দলীয় মেয়রপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের প্রচারণা চালিয়ে আসছি। কিন্তু আমার প্রচার কাজে নানাভাবে বাধা প্রদান করা হচ্ছে। আমার পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯নং ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর, সাবেক যুবলীগ নেতা একেএম মমিনুল হক সাঈদ এবং তার স্ত্রী ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখি। এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় দলীয় এবং কাউন্সিলর পদ হারান মমিনুল হক সাঈদ। সাঈদ ভোটের মাঠে না নামলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী শক্ত প্রতিপক্ষ হয়ে মাঠে রয়েছেন ঠেলাগাড়ি প্রতীকের ফারহানা আহম্মেদ বৈশাখি। গোটা এলাকাজুড়েই বৈশাখি সাঈদের পোস্টার ও প্রচার-প্রচারণা চলছে। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দ্বারা তিনি প্রতিনিয়ত হয়রানি এবং বাধার মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ করেছেন। ফারহানা বৈশাখি বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিনিয়ত হুমকি পাচ্ছি। আমার রক্ত মাংসে আওয়ামী লীগ হলেও আমি তো কোনো পদে নেই। তারপরও আমাকে প্রচারণা চালাতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। আমার নারী কর্মীদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে। আমি রিটানির্ং কর্মকর্তা ও থানায় অভিযোগ করেছি। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম আমার সংবাদকে বলেন, ভোটের মাঠ থেকে বিদ্রোহীদের বসিয়ে দিতে আওয়ামী লীগের সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি নির্বাচনের শেষ দিন হলেও বিদ্রোহীরা নিজ নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ভোটের মাঠে কাজ করবেন। আমারসংবাদ/এসটিএমএ