বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন

জানুয়ারি ২২,২০২০, ১২:৩৯

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবে অধিদপ্তর

কোটাবিধির জটিলতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমে বেশ কয়েকটি জেলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। চূড়ান্ত নিয়োগ পাওয়া প্রার্থীদের আশঙ্কাই ঠিক হলো। প্রথম দিকে চারটি জেলায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ আসার পর অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, না জানি বাকি জেলাগুলোতেও এ নিষেধাজ্ঞা আসে কি না! এক এক করে এখন ১৭টি জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। তবে অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোটাবিধির বিষয়টা দ্রুতই আদালতের কাছে ব্যাখ্যা জানিয়ে স্থগিত হওয়া জেলাগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা হবে। স্থগিত হওয়া জেলাগুলো হলো— নীলফামারী, নওগাঁ, ভোলা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, হবিগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও ও বরগুনা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, বিষয়টা হচ্ছে আদালত যে আদেশ আমাদের দিয়েছে তার জবাব পজেটিভ হতে হবে এবং তা আদালতের কাছেই জানাতে হবে। আদালত যে স্থগিতাদেশ দিয়েছে তা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক এখানে যদি আইনের জটিলতা থাকে তা আদালতকে বুঝিয়ে আমরা ওভারকাম করবো। এখন যে জেলাগুলোতে কোটা জটিলতার কারণ দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে স্থগিত করা হয়েছে সেসব স্থানের বিষয়গুলো আমরা আইনের মাধ্যমে খুব দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করবো। এছাড়া বাকি জেলাগুলোতে নিয়োগ কার্যক্রম আগের নির্ধারিত আদেশ অনুযায়ী হবে বলে জানান প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি। সম্প্রতি অধিদপ্তর কোটার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশেষ শ্রেণির কোটায় প্রার্থী না থাকায় মেধার ভিত্তিতে পুরুষ প্রার্থী বেশি নির্বাচিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০১৮ এর প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে সরকারি কোটাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চলছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩ এর সাত ধারা অনুযায়ী কোনো একটি উপজেলার মোট পদের ৬০ শতাংশ মহিলা, ২০ শতাংশ পোষ্য এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কোটা নির্ধারিত থাকে। উক্ত বিধিমালার বিধি ৭ (২) এর ভাষ্য মতে উপরে উল্লিখিত মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ কোটা পূরণের ক্ষেত্রে, আপাতত: বলবৎ অন্য কোনো বিধি বা সরকরি সিদ্ধান্তে কোনো বিশেষ শ্রেণির কোটা নির্ধারিত থাকিলে সেই কোটা সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী নিয়োগ করিতে হইবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিধি ৭(২) এর নির্দেশমতে মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ প্রতিটি কোটা আবার সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ এর ১ ধারার পরিপত্র অনুসারে চারটি বিশেষ শ্রেণির কোটা ও সাধারণ মেধায় বিভক্ত। বিশেষ শ্রেণির কোটাগুলো হলো— ১০ শতাংশ এতিমখানা নিবাসী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, ৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১০ শতাংশ আনসার ও ভিডিপি সদস্য। এছাড়াও ৪৫ শতাংশ মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ প্রার্থীদের মধ্য থেকে একই শ্রেণির সাধারণ মেধাক্রমানুসারে পূরণ করা হয়। যাকে সচরাচর মেধা কোটা বলা হয়। এ প্রেক্ষিতে মহিলা, পোষ্য ও পুরুষ তিনটি কোটার অধীনে সরকার নির্ধারিত যেকোনো ‘বিশেষ শ্রেণির কোটায়’ প্রার্থী না থাকলে তা ওই উপজেলার একটি কমন পুলে রাখা হয়। প্রতিটি বিশেষ শ্রেণির কোটার জন্য এ ধরনের অপূরণকৃত পদসূমহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালার সাত ধারা অনুযায়ী পরবর্তীতে মেধাক্রম অনুযায়ী উপজেলা/থানার উত্তীর্ণ সাধারণ প্রার্থীদের মধ্য হতে পূরণ করা হয়। অধিদপ্তর আরও জানায়, এবারের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ফল বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, বিভিন্ন বিশেষ শ্রেণির কোটায় নির্বাচনযোগ্য উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ অপূরণকৃত ছিলো। সেগুলো যখন মেধার ভিত্তিতে সাধারণ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে পুরুষ প্রার্থীদের মধ্য হতে অধিক সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে। এই কারণে সর্বমোট পুরুষ প্রার্থী সর্বমোট মহিলা প্রার্থী হতে বেশি নির্বাচিত হয়েছে। এ বিষয়ে অধিদপ্তর বলছে, শিক্ষক নিয়োগে সরকারি কোটাবিধি সঠিক ও যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে প্রত্যেক প্রার্থী বিধি অনুযায়ী মূল্যায়িত হয়েছেন। এটা নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। এ ব্যাপারে ভোলা জেলার নিয়োগ প্রার্থীদের রিটকারি আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আমার সংবাদকে বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩-এর ৭ বিধিতে বলা হয়েছে, সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদগুলোর ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থী নিয়ে পূরণ করতে হবে। তাহলে ৬০ শতাংশ নারী কোটা কেন পূরণ করা হবে না। তিনি বলেন, স্টে-অর্ডার জেলাগুলোতে কি সত্যিই নারী প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যায়নি, অবশ্যই এগুলোতে রং করা হয়েছে। সিদ্দিক উল্লাহ মিয়া আরও বলেন, আমি স্থগিতাদেশ চাই না। এখানে যথাযথভাবে নারী কোটার ৬০ শতাংশ নিয়োগ দেয়া হোক। তিনি বলেন, অধিদপ্তর যদি দেখাতে পারে যে, চূড়ান্ত ১৮ হাজার ১৪৭ জন নির্বাচিতদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী প্রার্থী নেয়া হয়েছে তাহলে তো ভালো। তা না হলে কেন নারীদের কোটা থেকে বঞ্চিত করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে ওই বছরের ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশ থেকে ২৪ লাখ পাঁচজন প্রার্থী আবেদন করেন। পরে ২০১৯ সালে প্রথম ধাপে ২৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ৩১ মে, তৃতীয় ধাপে ২১ জুন এবং চতুর্থ ধাপে ২৮ জুন লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ লিখিত পরীক্ষায় ৫৫ হাজার ২৯৫ জন পাস করেন। গত ৬ অক্টোবর থেকে নিয়োগ পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়। মাসব্যাপী সারা দেশের সব জেলায় মৌখিক পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। এ পরীক্ষায় ৬১ জেলায় ১৮ হাজার ১৪৭ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। এদিকে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন শিক্ষকদের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করতে বলা হয়েছে। ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। আর ১৯ ফেব্রুয়ারি নতুন নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের পদায়নের আদেশ জারি করা হবে। আমারসংবাদ/এসটিএমএ