রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম ও আবদুর রহিম

জানুয়ারি ২৩,২০২০, ০১:২১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন: দুর্ভোগ সৃষ্টি করে প্রতিশ্রুতি

সড়ক বন্ধ করে জনসভা। দুপুর ২টার আগেই মাইকিং। শব্দদূষণে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শিক্ষকদের। কয়েকদিন পরই এসএসসি পরীক্ষা। শেষ সময়ের প্রস্তুতিতেও ঘটছে ব্যাঘাত। গতকালও মেয়রপ্রার্থীদের দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় সড়ক বন্ধ করে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে জনসভা করতে। এছাড়া চলছে দিনরাত প্রার্থীদের নিয়ে প্রচারণায় নির্বাচনি থিম সং, জয় বাংলা... জিতবে আবার; ১৬ কোটি মানুষের একটাই ডিসিশন; জিতবে নৌকা, নাই কোনো টেনশন; আসছে দেশে শুভদিন, ধানের শীষে ভোট দিন; নারী-পুরুষ বাঁধছে জোট, ধানের শীষে দিব ভোট; মাগো তোমার একটি ভোটে, খালেদা জিয়া মুক্তি পাবে— এমন স্লোগানে বিকট আওয়াজে বাজছে রেকর্ডকৃত গান। ভোটের প্রচারে নেমে জনগণকে এমন দুর্ভোগে রেখেও রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা আওড়াচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ধ্বনি। শান্তির নগর, স্বপ্নের নগর, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্ন নগর, জনগণের প্রত্যাশিত ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার ইত্যাদি। প্লাস্টিকের পোস্টারে নগর ঢেকে পরিবেশ দূষণের মধ্যেই মেয়র ও কাউন্সিলররা সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নেন। এ নিয়ে সর্বশেষ সমাধানে আসতে হয়েছে আদালতের রায়ের মাধ্যমে। গতকাল আদালত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্লাস্টিকের পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, জনগণের অধিকার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনকে মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সচেতন মহল। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে আ.লীগের মেয়রপ্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেছেন, গত ৯ মাসে কর্পোরেশনের কোন কোন জায়গায় চ্যালেঞ্জ আছে, কোন জায়গায় কাজ করতে হবে, তা জানতে পেরেছি। সপ্তাশ্চর্যের মতো আরেকটি আশ্চর্য হলো সিটি কর্পোরেশনের কোনো কীটতত্ত্ববিদ নেই। ইতোমধ্যে এডিস মশার মৌসুম শুরু হয়ে যাচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সমন্বিতভাবে ভেক্টর ব্যবস্থাপনা করা হবে। রাজধানীর রায়েরবাজার জাফরাবাদ এলাকার পুলপাড় মোড়ে গতকাল নির্বাচনি সমাবেশে এ কথা বলেন আতিকুল ইসলাম। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ডিএনসিসির উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মেয়র হন। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, যত্রতত্র পোস্টার লাগানো বন্ধ করতে সামনের বার থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্বাচনি প্রচারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাই। মেয়র নির্বাচিত হলে পোস্টার লাগানোর জন্য আলাদা দেয়াল ঠিক করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। মোহাম্মদপুরের বৈশাখী মাঠের করুণ দশা উল্লেখ করে আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে এটিকে আধুনিক মাঠ করা হবে। এছাড়া মোহাম্মদপুর এলাকায় সাতটি আধুনিক পার্ক করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। আতিকুল ইসলাম ঢাকা-১৩ আসনের ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রায়েরবাজার পুলপাড় থেকে গণসংযোগ শুরু করে মুক্তি সিনেমা, সাদেক খান রোড, বটতলা, কাঁটাসুর, বাঁশবাড়ি, শিয়া মসজিদ, মোহাম্মদী হাউজিং, বেড়িবাঁধ, আদাবর, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন। নির্বাচনি প্রচার ও গণসংযোগে অংশ নেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি রবিউল আলম, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান ভূঁইয়া, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড আ.লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ হোসেন, সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২ (সাধারণ ওয়ার্ড ৩১, ৩৩, ৩৪)-এর নারী কাউন্সিলর প্রার্থী রোকসানা আলমসহ মোহাম্মদপুর থানা আ.লীগের নেতাকর্মীরা। আতিকুল ইসলামের সমর্থনে গণসংযোগ করেছে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। সংগঠনের সভাপতি সায়ীদুর রহমান সাঈদ ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আজগর নস্করের নেতৃত্বে বৃহত্তর উত্তরার ১, ৪৯ ও ৫০নং ওয়ার্ডে এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ করেন তারা। রাস্তা বন্ধ, মঞ্চ তৈরি করে নির্বাচনি সভা : রায়েরবাজার জাফরাবাদ এলাকার পুলপাড় মোড়ে মঞ্চ তৈরি করেন ঢাকা-১৩ আসনের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর থানা আ.লীগের নেতারা। বেলা ১১টা থেকেই দলীয় নেতারা সেখানে অবস্থান নেন। আতিকুল ইসলাম সেখানে আসেন দুপুর ১২টার দিকে। পুলপাড় এলাকার এই সড়ক সরু। এই সরু সড়কটির উত্তর ও দক্ষিণে রাস্তার মোড়ে বাঁশ দিয়ে আটকে দেয়া হয়। গাড়ি ও রিকশা অন্য গলি দিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। দুই মোড়ে দুটি করে চারটি লম্বা মাইক বাজে। মঞ্চ-সমাবেশস্থলে চিলড্রেন গার্ডেন হাইস্কুল এবং ব্লুমিং চাইল্ড নামে দুটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। শব্দদূষণ কমানোর জন্য শ্রেণিকক্ষের জানালা বন্ধ করে ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানান শিক্ষকরা। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিধিমালা ২০১৬ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী নির্বাচনি প্রচারণায় জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। নির্বাচনি এলাকায় শব্দের মাত্রা বাড়ায়— এমন কোনো যন্ত্র বেলা ২টার আগে ব্যবহার করা যাবে না। অপরদিকে, গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ ভয় পেয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে (ডিএনসিসি) বিএনপির মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল রাজধানীর আশকোনার হাজি ক্যাম্প এলাকায় জনসংযোগকালে তিনি একথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, আমাদের পক্ষে ব্যাপক যে গণজোয়ার, এটি দেখে আমার প্রতিপক্ষ আতিকুল ইসলাম ভয় পেয়ে গেছেন। মানসিকভাবে উনি অস্বস্তিতে আছেন। তাই উনি এ রকম সত্য ঘটনাকেও (তাবিথের ওপর হামলা) বিব্রত কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেছি যে, ওই এলাকায় (গাবতলী) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী উপস্থিত থেকে আমাকে চিহ্নিত করে হামলাটি করেছিলেন। বিশেষ করে উনারা চেষ্টা করেছিলেন, আমি যেনো মাথায় এবং মুখে আঘাত পাই। যদিও তাতে তারা সফল হয়নি। এখন উনারা আবার পুলিশকে দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। আমরা চেয়েছিলাম একটা অভিযোগ দাখিল করতে। কিন্তু দারুস সালাম থানার ওসি আমাদের অভিযোগ নেননি। এখন নির্বাচন কমিশনের তদন্তের অপেক্ষায় আছি। উনারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে কি পায় সেটা দেখে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো। তাবিথ বলেন, আমরা কখনো তাদের সঙ্গে (আওয়ামী লীগ) মুখোমুখি হইনি। আমরা যখন গণসংযোগ করতে গেছি তখন অনেক আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। আমরা তাদের অফিসেও গিয়েছি, দোয়া চেয়েছি, শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। আজকেও দেখছি আমার উল্টো দিকে আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক জড়িত হয়েছেন। আমাদের নেতা আ স ম আব্দুর রব যখন বক্তব্য দিচ্ছিলেন আমি লক্ষ্য করেছি তাদের অনেকেই উনাকে সমর্থন দিয়েছেন। উনার কথার সঙ্গে এক হয়েছেন। এতে বুঝা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের সব কর্মীরাও উনাদের নেতাদের আচরণ দেখে ঘৃণা করছেন। উনাদের নেতাদের কথা শুনে বিরক্ত হচ্ছেন। কারণ সবাই চায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন করতে। হামলার ঘটনায় ইসি কি ব্যবস্থা নিচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সিম্পল একটা ইনভেস্টিগেশন চালু করেছে। ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করছি উনাদের তদন্ত কি পায়, সেটি দেখার জন্য। তবে নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিলো আরও আগ থেকে প্রোডাক্টিভ হওয়া। ম্যাজিস্ট্রেটের উচিত ছিলো, মাঠপর্যায়ে অ্যাকটিভ থাকা। আশা করছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের অভিযোগ প্রমাণ করে ম্যাজিস্ট্রেট রিপোর্ট দেবেন। তারপর আমরা মন্তব্য করবো। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আ.লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, সংসদ সদস্য পথ থেকে যখন পদত্যাগ করলাম, জীবনের একটা বড় প্রাপ্তি যখন ছেড়ে দিলাম, তার আগের রাতে সবচেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাটাই ছিলো এটা যে, ‘হারাম অর্জন করব না? ব্যর্থতা না সফলতা? স্বপ্ন বাস্তবায়ন না ব্যর্থতায় পর্যবসিত একটি জীবন? ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করিনি।’ গতকাল বুধবার পুরান ঢাকার কারা কনভেনশন হলে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের ‘ব্যবসায়ী সম্মেলন’ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। আ.লীগের মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমি নিজেও একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের সমস্যা আমি অনুধাবন করতে পারি। একজন ব্যবসায়ী কী চিন্তা-ভাবনা করেন এবং তার দৈনন্দিন কী চিন্তা-চেতনা, কী সমস্যা থাকে সেটা আমি অনুধাবন করি। আমি আপনাদের এটুকুই বলবো, আমার কাছে কোনো জাদুর কাঠি, কিংবা জাদুর টুপিও নেই। আমি একজন বাস্তবভিত্তিক মানুষ। আপনাদের কোনো জাদুকরী স্বপ্ন দেখাবো না। আমার দেয়া পাঁচটি ধাপের মধ্যে কোনো স্বপ্ন নেই, পঞ্চমের বাস্তবতা আছে। আমি এটুকু বলতে পারি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন হবে একটা বাস্তবেই ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার হয়রানির অবসান ঘটানো হবে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তা দেয়া হবে। ব্যবসায়ীদের জন্য সিটি কর্পোরেশনে হেল্প ডেস্ক চালু করা হবে। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, আমি একটি স্বল্পোন্নত দেশকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত করলাম, ৬০ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বাজেটে উন্নীত করলাম। ৫৬০ ডলার মাথা পিছু আয় থেকে ১৯শ ডলার মাথাপিছু আয়ে উন্নীত করলাম। কিন্তু এতগুলো প্রকল্প করছি, পদ্মা সেতু, কিন্তু আমি দুঃখের সঙ্গে দেখছি আমার প্রকল্পের টাকা উইপোকায় খেয়ে নেয়।’ আমি আপনাদের সমর্থনে নির্বাচিত হতে পারলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কোনো উইপোকার জায়গা হবে না। সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্ত সংস্থা হিসেবে এটাকে গড়ে তুলবো। কোনো উৎকোচ, অতিরিক্ত ব্যয় অথবা হয়রানির কোনো অবকাশ সেখানে থাকবে না। তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যেকটি অবকাঠামো, উন্নয়ন, রাস্তা-নর্দমা, যেটাই আমরা করি না কেন, সেটার মান নিরূপণ করে অন্ততপক্ষে ১০ বছরের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে এই ব্যবসায়ী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, এ কে আজাদ, শফিউল আলম মহিউদ্দিন, ব্যবসায়ী নেতা আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, রেজাউল করিম রেজনু, সিদ্দিকুর রহমান প্রমুখ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা শহর হবে শান্তির জনপদ। এখানে কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। গতকাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারণার ১৩তম দিনে পশ্চিম হাজারীবাগের ঝাউচর বাজারে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, যেখানেই গিয়েছি সেখানেই ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার দেখেছি। ইনশাল্লাহ পহেলা ফেব্রুয়ারি আমরাই বিজয় উৎসব করবো। এটি হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক বিজয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিজয়। সকাল সাড়ে ১১টায় ঝাউচর বাজার থেকে গতকালের গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ হয়ে ৫৫, ৫৬, ৫৭নং ওয়ার্ডের ইসলামবাগ ও চকবাজার হয়ে লালবাগ শাহী মসজিদে নামাজের বিরতি নেন। বিরতির পর ২৯, ৩০, ২৭ ও ৩১নং ওয়ের্ড ও নয়াবাজারে নির্বাচনি প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন। এর আগে সকাল থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কামরাঙ্গীর চরের ঝাউচর বাজারে সমবেত হতে থাকেন। নেতাকর্মীরা খালেদা মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও ধানের শীষে ভোট চান। গণসংযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সফু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, মাহবুবুল হাসান পিংকু ভূইয়াসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ নির্মাণের জন্য তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য ইশরাক হোসেনের মতো লোক দরকার। আমরা বয়স্করা যা করতে পারিনি, তার হাত ধরে বাংলাদেশে নতুন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সূত্রপাত হবে। তার বাবা সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন আমার ছাত্র। খোকা বেঁচে থাকতে তার অধরা যে স্বপ্নগুলো ছিলো, আমি ইশারাকের জন্য দোয়া করি সে যেন তার বাবার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারে। অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেন, আজকে এ শহরটাকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের একটা পরিবর্তন দরকার। আগামী পহেলা ফেব্রুয়ারি নগরবাসীর জন্য একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের অঙ্গীকার ছিলো জনগণ হবে ক্ষমতার মালিক, জনগণ হবে রাষ্ট্রের মালিক। সেই অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, আজকে যারা ক্ষমতাসীন আছেন তারা এই দেশটাকে দখল করে রেখেছেন। ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার বাইরের মানুষ তৃতীয় শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদাও পাচ্ছেন না। তাদের কথা বলার অধিকার নেই, বাক-স্বাধীনতা নেই, ভোটের অধিকার নেই। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত একটা স্বাধীন দেশে এটা দীর্ঘদিন চলতে পারে না, আর আমরা এটা মানবো না। জনগণের অধিকার জনগণকে ফিরিয়ে দিতে পহেলা ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। আমারসংবাদ/এমএআই