রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥জুবায়ের সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম

জানুয়ারি ২৩,২০২০, ০১:৩১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

নতুন সড়ক আইন খাতায় আছে প্রয়োগে নেই

চট্টগ্রাম-ঢাকা ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল দিন দিনই লম্বা হচ্ছে। নতুন সড়ক আইন কার্যকরে নানা নাটকীয়তার মধ্যেই মহাসড়ক যেন মহাবিপদ রূপেই আবির্ভূত হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেই চলছে। চলতি মাসের গত ২২ দিনে দুই মহাসড়কে ২২ জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। সড়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘নতুন সড়ক আইন পরিবহন খাতে বিরাজমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কতটা কাজে আসছে তার নমুনা আমরা একেবারে বছরের শুরুতেই দেখতে পাচ্ছি। আসলে সড়ক-মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা না গেলে কোনোভাবেই তা নিরাপদ হয়ে উঠবে না। বরং দুর্ঘটনা আর মৃত্যুর মিছিল বাড়তেই থাকবে। আর নতুন সড়ক আইন খাতায় আছে প্রয়োগে নেই।’ হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাসহ পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহাসড়কে অবৈধ পার্কিং, ওভারটেকিংয়ের প্রতিযোগিতা, পথচারীদের অসতর্কভাবে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার, নির্ধারিত গতিসীমার চেয়েও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং চালকের অসতর্কতা মহাসড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির মূল কারণ। অবশ্য বছরের শুরুতে রাতের বেলায় সংঘটিত কোনো কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে শীতের কুয়াশারও দায় দেখছেন কেউ কেউ। আর ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। হাইওয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিটিগেট থেকে মিরসরাইয়ের বারৈয়ারহাট পর্যন্ত অংশে অন্তত আটটি স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। এগুলো হলো— সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বন্দর সংযোগ সড়ক, পিএইচপি গেট, জিপিএইচ কারখানা এলাকা, গুল আহমদ জুট মিল, মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাইপাস সড়ক, সোনাপাহাড় এলাকা, বিএসআরএম কারখানা এলাকা ও বারৈয়ারহাট বাজার। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়া, লোহাগাড়া ও কক্সবাজারের রামু অংশে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন নিহত এবং কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে পটিয়াগামী একটি লোকাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এর দুদিন আগে গত ১৫ জানুয়ারি সকালে একই মহাসড়কের পটিয়ার কমল মুন্সির হাটের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় অলি আহমদ সওদাগর (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন। কমলমুন্সির হাটে রাস্তা পার হওয়ার সময় কক্সবাজারমুখী হানিফ সুপার পরিবহনের বাসটি ওই বৃদ্ধকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। নতুন বছরের শুরুতেই গত ১ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায় বাস ও প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একইদিন নগরীর সি বিচ সড়কের মুখে ট্রাকচাপায় নিহত হয় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রেশমি। গত ১১ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া সদরের আলহাজ মেস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে সংঘটিত দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হন। দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের মৃত্যু হয়। অপরদিকে, গত ৮ জানুয়ারি দিবাগত রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সলিমপুরে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হন। আহত হয়েছে দুই শিশুসহ তিনজন। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফকিরহাট এলাকায় এক নারী তার পাঁচ বছর বয়সি সন্তানকে নিয়ে মহাসড়ক পার হওয়ার জন্য সড়ক বিভাজকের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় দুটি ট্রাক একে অপরকে ওভারটেক করতে গিয়ে ওই নারীকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ওই নারী মারা যান। গত ১১ জানুয়ারি ভোর পাঁচটার দিকে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট বন্দর সংযোগ সড়কের মুখে সংঘটিত দুর্ঘটনায় পুলিশের এক সদস্যসহ মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বন্দর সংযোগ সড়কের দিকে ঘোরার সময় ঢাকামুখী একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই জায়গায় ২৮ ডিসেম্বর সকালে লরির সঙ্গে প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক সাইফুজ্জামান পিন্টু ও তার দুই মেয়ে আশরা আনাম খান (১৩) ও তাসমিন জামান খান (১১) নিহত হন। আর বিদায়ী বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শুধু সিটি গেট থেকে বারেয়ারহাট পর্যন্ত অংশেই ৭১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪৬ জন। আহত হয়েছে ৩৭১ জন। আমারসংবাদ/এসটিএমএ