রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাজী ইহসান বিন দিদার

জানুয়ারি ২৩,২০২০, ০১:৩৩

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

বিশেষ ভূমিকা রাখছে এপিবিএন

‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ’ পুলিশের বিশেষায়িত একটি দল। এর সদর দপ্তর ঢাকায়। ১৯৭৬ সালে ৯ ব্যাটালিয়নের একটি রিজার্ভ বাহিনী গঠন করে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন নাম দেয়া হয়। এই ব্যাটালিয়নের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে একজন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শককে সাহায্য করেন। বর্তমানে মোট ১১টি ব্যাটালিয়ন রয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের। নদীপথ বা দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলসহ সব জায়গাতেই পুলিশের এই ব্যাটালিয়নগুলো কাজ করছে। বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়নের দুটি ব্যাটেলিয়ন রয়েছে। ২০১০ সালের জুন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সার্বিক দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে সেখানকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং যাত্রী হয়রানি রোধে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত দেড় বছরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৭৩ জন যাত্রীর কাছ থেকে এক লাখ ৬৬ হাজার ২২৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। যার বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। দেড় বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপিবিএন উদ্ধার করেছে এক লাখ ৬৬ হাজার ২২৭ পিস ইয়াবা। এর মধ্যে ২০১৮ সালের জুলাইতে উদ্ধার হয়েছে তিন হাজার ৮৭৩ পিস। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে একটি, নভেম্বর মাসে ৩৭ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারে মামলা হয়েছে ১৪টি। ডিসেম্বর মাসে ১৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারে মামলা হয়েছে সাতটি। গত বছরের জানুয়ারিতে উদ্ধার হওয়া ১০ হাজার ৭৫৫ পিস ইয়াবার বিপরীতে মামলা হয়েছে পাঁচটি। ফেব্রুয়ারিতে তিনটি মামলা হয়েছে আট হাজার ৪৫৮ পিস ইয়াবা উদ্ধারে। মার্চে উদ্ধার হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৮ পিস, মামলা হয়েছে তিনটি। এপ্রিলে উদ্ধার ৯ হাজার ২৫৫ পিস আর মামলা হয়েছে তিনটি। মে মাসের পাঁচ হাজার ৭০৩ পিস মামলার বিপরীতে উদ্ধার হয়েছে তিনটি। জুন মাসে হয়েছে ১২ হাজার ৪৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার আর মামলা হয়েছে চারটি। জুলাই মাসে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে সাত হাজার ২৩৫ পিস, আর মামলা হয়েছে তিনটি। আগস্ট মাসে ১৩ হাজার ৬৫০ পিসের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তিনটি। সেপ্টেম্বর মাসে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ১৭০ পিস, মামলা হয়েছে পাঁচটি। অক্টোবরে উদ্ধার হয়েছে আটা হাজার ৫১০ পিস, আর মামলা হয়েছে চারটি। নভেম্বরে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে ছয় হাজার ৭৮১ পিস, মামলা হয়েছে চারটি, ডিসেম্বরে ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে আট হাজার ৬৮৭ পিস, মামলা করা হয়েছে তিনটি। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস অ্যান্ড মিডিয়া) আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা হয় জাতীয় দৈনিক আমার সংবাদের। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর দিয়ে ইয়াবা আসে সেটা অনেকেই জানতো না। আগে যাত্রীবেশে ব্যাগে লুকিয়ে আনলেও এখন শরীরের নানা অঙ্গে বা পেটের ভেতরেই মাদক বহন করছে পাচারকারিরা, যা স্ক্যানারে ধরা পড়ে না। কারণ, মাদক আসলে মেটাল নয়। এসব খবর জানার পরই আমাদের গোয়েন্দা টিম পুরো বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। আমাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা গোয়েন্দা নজরদারির জালে আটকা পড়ছে। আমরা চাই কোনো মাদক চোরাচালানি যেন শাহজালাল বিমানবন্দর ব্যবহার করতে না পারে। সে জন্য আমরা সবসময় সচেষ্ট আছি। তা ছাড়া, সাধারণ যাত্রীরা কোনো ধরনের হয়রানিতে যাতে না পড়ে এবং পড়লে সে ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতেও আমরা সবসময় চোখ-কান খোলা রাখি।’ আর এপিবিএন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই বাহিনী পুলিশের একটি এলিট ইউনিট। আর্মড পুলিস ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম এবং সতর্ক অবস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার নিরন্তর চেষ্টা থাকে আমাদের। এপিএবিএন যাতে আরো বেশি কাজ করতে পারে, যেহেতু স্বতন্ত্র ম্যান্ডেট আছে সে জন্য আরো ভালো কাজ করতে আমরা সর্বদাই সচেষ্ট।’ আমারসংবাদ/এসটিএমএ