মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম

জানুয়ারি ২৪,২০২০, ১২:৪৯

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

থমকে আছে উন্নয়নকাজ

ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনে চলছে নির্বাচনি আমেজ। নির্বাচনি এই আমেজের কারণে থমকে আছে ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের খেলার মাঠ ও পার্কের উন্নয়নকাজ। ফলে আসন্ন নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলররা এটিকে ট্রার্মকার্ড হিসেবে ব্যবহার করছেন। নির্বাচনি মাঠে নেমেই সকল প্রার্থীর প্রচারণায় থাকছে এসব খেলার মাঠ-পার্কের উন্নয়নকাজের প্রতিশ্রুতি। এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন প্রার্থীরা। অথচ গত সিটি নির্বাচনেও প্রার্থীরা এসব খেলার মাঠ-পার্ককেই ট্রার্মকার্ড হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তবে সম্প্রতি সুস্থ বিনোদন এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পার্ক আধুনিকায়নের কাজ শুরু করলেও গত কিছুদিন ধরে তা থমকে আছে। জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ২৬টি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠের সংস্কারকাজ চলছে। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটির সংস্কার কাজ শেষে খুলে দেয়া হয়েছে এবং বাকিগুলোর কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারেনি সিটি কর্পোরেশন। আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ২২টি পার্ক ও চারটি খেলার মাঠ সংস্কার করে অত্যাধুনিকভাবে নির্মাণ করার কথা ছিলো। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে বেশ কয়েকটি খুলে দেয়া হয়েছে। বাকি কয়েকটির সংস্কারকাজ চলছে। ২০২০ সালের জুনের মধ্যে এই প্রকল্প পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৫৭টি পার্ক ও খেলার মাঠের উন্নয়নকাজে ধীরগতি। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের দিকে নাগরিকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে দুই বছর মেয়াদি ডিএনসিসি ‘উন্নয়ন ও সবুজায়ন’ এবং ডিএসসিসি ‘জল সবুজে ঢাকা’ প্রকল্পের অধীনে ৪৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। এসব কাজের বাস্তবায়ন হয়েছে গড়ে মাত্র ৪৮ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সংস্থাটির হাতে রয়েছে মাত্র পাঁচ মাস। নির্ধারিত সময়ে কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টার্গেটের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও উন্নয়নের বড় একটি অংশ দেখা যাবে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু মাঠ-পার্কের উদ্বোধন করেছেন মেয়র মহোদয়। আর যেসব খেলার মাঠ ও পার্কে এখন উন্নয়নের কাজ চলছে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ডিএসসিসিতে নানা ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে শুরু হয়েছে। মাঠ-পার্কের কাজ যতদিন যাবে ততই দৃশ্যমান হতে থাকবে। ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এদিকে পার্ক-মাঠ উন্নয়নের কাজের বিষয়ে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফ উদ্দীনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি। ডিএনসিসি ও ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আয়তন ও ভিআইপি এলাকার ভিত্তিতে প্রতিটি মাঠ-পার্ক সাজাতে ভিন্ন ভিন্ন বাজেট আছে। তবে প্রতিটি মাঠ উন্নয়নে গড়ে চার কোটি টাকার উপরে বাজেট ধরা হয়েছে। নতুন করে ১৬টি ইউনিয়ন যুক্ত হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ২৭০ বর্গকিলোমিটার হয়েছে। নতুন ওয়ার্ডগুলোতে ইতোমধ্যে রাস্তা ও ড্রেনের উন্নয়নের কাজ চলছে। আর এসব এলাকায় যে কয়টি মাঠ-পার্ক রয়েছে পরবর্তীতে চিহ্নিত করে উন্নয়নকাজ করা হবে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবাবগঞ্জ পার্কে ৫৫ কাঠা দুই কোটি ৩৩ কোটি টাকা, জগন্নাথ সাহা পার্ক ১৩ কাঠা ৯৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, আজিমপুর পার্ক ২.৫০ কাঠা ৫৪ লাখ ৯১ হাজার টাকা, বকশিবাজার পার্ক ১৬.৮০ কাঠা এক কোটি ৩২ লাখ টাকা, বশির উদ্দিন পার্ক ৭ কাঠা এক কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, হাজারীবাগ পার্ক ব্যয় ছয় কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা ও গজমহল পার্কে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এদিকে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তাজমহল রোডের খেলার মাঠ ও পার্ক উন্নয়নে পাঁচ কোটি ১০ লাখ দুই হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়াও গুলশান-২ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্ক এবং বনানী বি ব্লকের ১৮ নম্বর রোডে বনানী উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন পার্কে কাজ চলমান। এসব মাঠ-পার্কের কাজ চলতি বছর শেষ না হলেও ২০১৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দারা বলেন, গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চের পেছনের পার্কটি দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন টিনের বাউন্ডারি দিয়ে দীর্ঘদিন ঘিরে রেখেছে। এখানে কয়েকদিন কাজ চলার পর আবারো বন্ধ হয়েছে। এভাবে পার্কের কাজ চলতে থাকলে আগামী দুই বছরেও সমাপ্ত হবে না। সবার আগে কাজের গতি বাড়াতে হবে। প্রসঙ্গত, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৯৯৫ সালের ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিএমডিপি) অনুযায়ী সে সময় মাথাপিছু উন্নয়ন ও সবুজায়নের পরিমাণ ছিলো শূন্য দশমিক ৫ বর্গমিটার। ২০০৯ সালে বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকায় মাথাপিছু উন্নয়ন ও সবুজায়নের পরিমাণ মাত্র শূন্য দশমিক ০৫২ বর্গমিটার। পার্ক ও গণপরিসরের অপর্যাপ্ততা ঢাকার একটি বড় সমস্যা। এরপরও প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে শিশুদের মানসিক বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হবে। নাগরিকদের সুস্থ পরিবেশে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। আমারসংবাদ/এসটিএমএ