মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম ও রফিকুল ইসলাম

জানুয়ারি ২৯,২০২০, ০১:৩১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সবার নজর ৩২ ঘণ্টায়

কাল ভোট প্রচারের শেষযুদ্ধ। রয়েছে ভোটের মাঠে অজানা আতঙ্ক! শেষ সময়ে সবার নজর ৩২ ঘণ্টায়। ভোটের আগের দিন পুরো সময় ও ভোটের দিন ৮ ঘণ্টায় কি ঘটবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটের জন্য শেষ সময় পর্যন্ত জোর নজর দিয়ে যাবে। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা এবং ভোটাররাও শেষ সময়ের পরিবেশ বিবেচনা করে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। ইতোমধ্যেই অভিযোগ উঠেছে, ইসিতে নেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। রক্তাক্ত হচ্ছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। গণমাধ্যম কর্মীর রক্তমাখা ছবিও সকল মিডিয়াতে ছাপা হয়েছে। ইসিতে পড়েছে কয়েকশ অভিযোগ। এখনো হুমকি পাচ্ছেন প্রার্থীরা। সংঘর্ষের মামলায় চিকিৎসাধীন কর্মীদেরও চলছে আটক। এর মধ্যে দিয়ে আগামীকাল থেকে ঢাকার অলিগলি থেকে ভোট প্রচারণার সুযোগ ও নানা ঢঙে প্রচারের নকল গানগুলো বন্ধ হচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের মনজয়ের সমাপ্তিও ঘটবে। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী বৃহস্পতিবার কাল মধ্যরাতের পর নিষিদ্ধ করা হয়েছে সকল ধরনের প্রচার-প্রচারণা। এখন শুধু অপেক্ষা ভোট দেয়ার। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো ভোটারদের নিরাপত্তা ও প্রার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে অজানা শঙ্কা রয়েছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গণসংযোগের সময় একাধিক সংঘর্ষের কারণে সবার মনেই রয়েছে আতঙ্ক। ‘নির্বাচন কমিশনে কোনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই’— সমপ্রতি নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের এমন বক্তব্যে সেই আতঙ্ক ভোটারদের মাঝে আরও বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে সংবাদ প্রচার হয়েছে প্রার্থীদেরকে সালাম পাঠাচ্ছে দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। কারাগার থেকেও সন্ত্রাসীরা শীর্ষ প্রার্থীদের ভয় দেখাচ্ছেন। এ নিয়ে এখনো নিরাপত্তা শঙ্কায় রয়েছেন প্রার্থীরা। গতকাল ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীও ভোটের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্তভাবে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার ঢাকা সিটির ভোটকে কেন্দ্র করে ভোটের আগে-পরে নানাভাবে পরিবেশ বিপর্যস্ত হতে পারে। এ নিয়ে দুটি রাজনৈতিক দলের ভিন্নভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে ভোটের মাঠে হঠাৎ করেই অপপরিবেশ তৈরি করতে পারে ক্ষমতাসীনরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রকাশ্যে গণমাধ্যমে বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে এসেছে ভোট ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। সরকারকে বিপদে ফেলতে তারা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার দাবি, ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা ধর্তব্য নয়। সুষ্ঠু ভোটের জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ বিনষ্ট করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগ এলাকা থেকে দিনের নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে এক পথসভায় দেয়া বক্তব্যে এ অনুরোধ জানান তিনি। শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়। কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে কেউ যাতে পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে না পারে।’ তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে আমি অনুরোধ করবো, কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবস্থা নিন। আমি ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান করবো, তারা যাতে সজাগ থাকেন। এসময় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে ১ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে রায় প্রয়োগের মাধ্যমে এর জবাব দিতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান তাপস। জনগণ ভোট দিতে উন্মুখ উল্লেখ করে ফজলে নূর তাপস বলেন, ঢাকাবাসী উন্মুখ হয়ে, আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করছেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনি কার্যক্রম চলছে। আমরা গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। ঢাকার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত আমরা যেখানেই গণসংযোগ করছি না কেন, সব জায়গায় ঢাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমরা পাচ্ছি। তাপস বলেন, ঢাকাবাসীর উন্নয়নের জন্য আমরা যে রূপরেখা দিয়েছি, তারা তা সাদরে গ্রহণ করেছে। এর বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাবাসী নৌকায় ভোট দিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আমাকে তাদের সেবক হিসেবে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে জয়যুক্ত করবেন। রাজারবাগে প্রচারণা চালিয়ে সেখান থেকে সদরঘাট যান শেখ ফজলে নূর তাপস। সেখানে মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে জলবায়ু উদ্বাস্তু আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, প্রচারণার শেষ দিকে চলে এসেছি। আর মাত্র দুদিন বাকি। আমি এখানে বক্তব্য দীর্ঘ করবো না। কারণ পথচারী যারা আছেন, রাস্তা বন্ধ হলে তাদের কষ্ট হবে। ইঞ্জিনিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি শুধু বলতে চাই, এই জোয়ার আমাদের ধরে রাখতে হবে। পহেলা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা এই জোয়ার ধরে রাখবো। ধানের শীষকে জয়যুক্ত করে আমাদের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে আন্দোলন লড়াইয়ে আছি, সেটা আমরা অর্জন করবো। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেবো ইনশাল্লাহ।’ তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের দিন জনতার ঢলই অবাক করেছিল অনেককে। অনেকেই ভেবেছিলেন এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন তো ইশরাক। কিন্তু না; আজ পর্যন্ত প্রতিদিনের প্রচারণায় লাখো জনতার উপস্থিতি তার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছে। গতকাল বিকালে হাতিরপুল সড়কে প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন, সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিজের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে দুপুরে প্রচারণায় যান ধানমন্ডি এলাকায়। ধানমন্ডি ২৭ থেকে শুরু করে আবাহনী, ৭/এ হয়ে, কলাবাগান, সায়েন্স ল্যাব, হাতিরপুল, বাংলামোটর হয়ে সি আর দত্ত রোডে বাংলাভিশনের সামনে এসে প্রচারণা শেষ করেন। এদিকে ইশতেহারে ‘অঞ্চলভিত্তিক’ সমস্যা চিহ্নিত করে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকায়নের পথে বাসযোগ্য ঢাকা গড়ার প্রত্যয়ে স্লোগানে ইশতেহার ঘোষণা করেন ইশরাক হোসেন। প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি ও নিজের ব্যক্তিগত ফোন সকল নাগরিকের জন্য খোলা রাখবেন বলে জানিয়েছেন। নাগরিকের সেবা নিশ্চিতে অভিযোগ পাওয়া মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘নৌকার গিয়ার একটিই। সেটি হচ্ছে উন্নয়নের গিয়ার। নৌকা দিয়েছে স্বাধীনতা, নৌকা দেবে উন্নয়ন, নৌকা দেবে একটি সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা। নৌকা এগিয়ে যাবে।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আতিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের স্লোগান ছিলো আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। আমাদের যারা প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন তাঁরাও এর আগে প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আমরা মনে করি, সুন্দর পরিবেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। আতিকুল ইসলাম বলেন, একটি অপরিকল্পিত শহর এই ঢাকা। বিদেশে দেখেছি, একটা প্ল্যান করে তারপর নগরায়ন করা হয়। আমাদের এখানে বাস্তবে এটা হয়নি। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। আমার সামনে চ্যালেঞ্জ অনেকগুলো। অপরিকল্পিত শহরে যেমন আছে যানজট, জলজট, তেমন আছে মশার উপদ্রব, বায়ুদূষণ। অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। শুরু কিন্তু করতেই হবে। শুরু করতে পারলে শেষ হবেই। মতবিনিময় সভায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ‘আমরা মনে করি জাতীয় প্রেস ক্লাবের ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে এ দেশের মুক্তিযুদ্ধে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও অসামপ্রদায়িক আন্দোলনে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের প্রেস ক্লাব। আমরা একটা নিরাপদ, সবুজ ও স্বচ্ছন্দে চলার মতো ঢাকা চাই।’ সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্স সেবায় অটোমেশন চালু করা হবে জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে ট্যাক্স দিলে ফেস টু ফেস কন্টাক্ট কমবে। আর ফেস টু ফেস কন্টাক্ট কমাতে পারলে দুর্নীতি কমবে। কাজের গতি বাড়বে, রাজস্ব আদায় হবে বেশি, হয়রানিও বন্ধ হবে। তিনি বলেন, ‘আকাশেতে যত তারা, সিটি কর্পোরেশনে তত ধারা’— এ ধরনের জুজুর ভয়ে সিটি কর্পোরেশনে লোকজন যায় না। কনটাক্টের মাধ্যমে ট্যাক্স দিতে চায়। এটি বন্ধ করা হবে। মশকনিধন প্রসঙ্গে আতিকুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনে কীটতত্ত্ব বিভাগ বলে কিছুই ছিলো না, যারা মশা নিয়ে কাজ করবে। প্রজনন ক্ষেত্র কোথায়, নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হবে, সে ধরনের কোনো বিভাগ সিটি কর্পোরেশনে ছিলো না। গত ৯ মাসে বের করেছি এই বিভাগ লাগবে। এছাড়া মশকনিধন সম্ভব না। মশার কর্মীরা ওষুধ মেরে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের কাজের কোয়ালিটি চেক করার কোনো ব্যবস্থা ছিলো না। এটা করার জন্য সিস্টেম তৈরির কাজ করছি। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ শ্যামল দত্ত। আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. শফিকুর রহমান প্রমুখ। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল বলেছেন, নিজেরা ভয় পেয়ে বিএনপিকে ভয় দেখাচ্ছে সরকার। তাই ভোটারদের ভয় না পাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঈদগাহ মাঠে পথসভা ও গণসংযোগে এসে এসব কথা বলেন তিনি। তাবিথ আউয়াল বলেন, সরকার ভয় পাচ্ছে। কারণ, যে গণজোয়ার উঠেছে সেটা ব্যাপক ভোটে পরিণত হয়ে বিশাল জয় পাবে ধানের শীষ। এজন্য তারা আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছে, গুজব ছড়াচ্ছে। তাই গুজব, ভয় এবং বিতর্ক থেকে আমরা দূরে থাকবো। আমরা ১ ফেব্রুয়ারি সবাই নির্ভয়ে ভোট দেবো। ১ তারিখে আমরা বড় পরিবর্তন আনবো। জনগণের ক্ষমতা আমরা জনগণের কাছে ফিরিয়ে আনবো। তিনি আরও বলেন, এ ভোটের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করার যে আন্দোলন সেটিও আমরা ত্বরান্বিত করবো। ঢাকাকে সবুজ ঢাকায় পরিবর্তন করবো। এক প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, অতীতে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেয়ার নজির আপনারা দেখেছেন। কিন্তু এবার যদি পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের বের করতে পারবে না। ইসির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা (ইসি) নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুন। যাতে ভোটাররা ভয়ভীতি মুক্ত থেকে ভোট দিতে পারেন। আমরা ইসিতে ১৪০টার বেশি অভিযোগ দিয়েছি। এগুলোর মধ্যে আমলে না নিয়ে ১০২টাই নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। এই যদি হয় ইসির ভূমিকা তাহলে ঢাকায় নির্বাচনের যে উৎসব আছে সেটা বিলীন হয়ে যাবে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটের আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি আছে। আপনারা সজাগ, সতর্ক থাকুন। নিজে নিজের ভোট দেবেন। আমরা যখন আমাদের ভোট দেবো না, তখন অন্য কেউ ভোট চুরি করতে পারে। এবং আমাদের ভোট অন্যস্থানে দিয়ে দেবে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে। প্রত্যেকে সকাল সকাল ভোট দিতে যাবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদিকা সুলতানা আহমেদ, ৩১ নং ওয়ার্ড কমিশনার সাজেদুল হক রনি, ২৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী মো. লিটন মাহমুদ বাবু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিদ আঞ্জু, দপ্তর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক প্রমুখ। আমারসংবাদ/এসটিএমএ