সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

জাহাঙ্গীর আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৩,২০২০, ০১:১০

মার্চ ০৩,২০২০, ০১:১০

এতিমদের নিবাসেও কচ্ছপগতি

এতিম ও পিতামাতার স্নেহবঞ্চিত শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতেই গঠন করা হয়েছে সরকারি শিশু পরিবার ও ছোটমনি নিবাস। কিন্তু সেগুলো বসবাসের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নির্মাণ ও পুন:নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার প্রায় তিনশ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদনও দিয়েছে। তারপরও কাজে নেই গতি।

কচ্ছপগতিতে চলছে অভিভাবকহীন বিপন্ন শিশুদের বসবাসের উন্নয়ন কাজ। ২০২১ সালে জুনে শেষ করার কথা থাকলেও তেমন কোনো কাজই শুরু হয়নি। চলমান কাজের ওপর আইএমইডি সম্প্রতি মূল্যায়ন করতে গিয়ে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সার্বিক ব্যাপারে জানতে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও যুগ্মসচিব মো. হুমায়ন কবীরের সাথে গত শনিবার যোগাযোগ করা হলে অফিস সময়ে কথা বলতে বলেন।

গতকাল অফিস সময়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ, তাই কথা বলা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। এ জন্য তার কোনো মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলামের সাথেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সূূত্র জানায়, ১৯৫৫ সালে বাংলাদেশে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৬১ সালে তা পরিদপ্তর হলেও ষাটের দশকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে রূপান্তর হয়। এর সেবা প্রথমে শহরে শুরু হলেও পরে তৃণমূলে বা গ্রামেও ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সবাজসেবা অধিদপ্তর।

এই প্রতিষ্ঠান দেশের দুঃস্থ, অবহেলিত, পশ্চাৎপদ, দরিদ্র, এতিম, অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বহুমুখী কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সুদৃঢ় করতে কাজ করছে। বর্তমানে ৮৫টি সরকারি শিশু পরিবারে এতিম ও দুঃস্থদের লালন-পালন করা হচ্ছে। কিন্তু ১৮টি বসবাসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গণপূর্ত বিভাগ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে।

অপরদিকে হোস্টেলগুলো পুন:নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়লে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রকল্প তৈরি করে। তাতে সরকার অনুমোদনও দিয়েছে। ২৯৬ কোটি ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন।

যাতে এতিম ও পিতা-মাতার স্নেহবঞ্চিত শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়। প্রকল্পের বিশেষ উদ্দেশ্য ধরা হয় ১৮টি সরকারি শিশু পরিবার এবং একটি ছোটমনি নিবাস নির্মাণ ও পুন:নির্মাণ করা।

যাতে তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারে। জীবনমান উন্নয়ন মিশ্চিত করা যায় এবং যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত হয়ে দেশের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এতিম শিশুদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্রের এ প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ ধরা হয়— নিবাসীদের স্নেহ-ভালোবাসা ও আদর-যত্নের সাথে লালপালন, ভরণপোষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা। নিবাসীদের স্বাস্থ্যরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে আর্থ-সামাজিক পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এরমধ্যে ১৩ হাজার ৭৮১টি আসবাবপত্র কেনা হবে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে। মূল কাজ বা নির্মাণ ও পূর্ত কাজ ধরা হয়েছে— প্রায় ২৬৩ কোটি টাকার। বিছানাপত্র কেনার কথা ১৩ হাজার ৫০৫টি।

তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এভাবে বিভিন্ন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে।বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের জুন। আট বিভাগের ১৮ জেলায় ১৯টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার কথা।

এরমধ্যে হচ্ছে- কিশোরগঞ্জ, শরিয়তপুর, টাঙ্গাইল, বরিশাল সদর, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম সদরে ছোটমনি নিবাস, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালীর মাইজদী, ফেনীর ছাগলনাইয়া, বাগেরহাটের ফকিরহাট, কুষ্টিয়া, রাজশাহী সদর, বগুড়ার ফুলবাড়ি, রংপুর সদর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিলেট ও মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এসব সরকারি শিশু পরিবার ও নিবাস নির্মাণ ও পুন:নির্মাণ করার কথা। এরমধ্যে ৫টি শিশু পরিবার ও একটি ছোটমনি নিবাস বিভাগীয় শহরে করার কথা।

সূত্র আরও জানায়, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি, কচ্ছপ গতিতে চলছে এর উন্নয়ন কাজ। সম্প্রতি চট্টগ্রামে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একটি টিম পরিদর্শনে গেলে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।

চলতি বছরে ইনডেপ্থ ৪২টি প্রকল্পের মধ্যে এটিও তালিকাভূক্ত করে চলমান কাজের কি অবস্থা তা জানতে শুরু করেছে আইএমইডি। তবে প্রকল্প সূত্র জানায়, নভেম্বর পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৯৪ কোটি টাকা ১০ শতাংশ। কাজকে এগিয়ে নিতে চলতি অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দও দিয়েছে সরকার।

সূত্র আরও জানায়, জাতিসংঘ ঘোষিত শিশু অধিকার সনদ, দেশের সংবিধান ও জাতীয় শিশু নীতিমালার বিধান এবং মানবিক ও ধর্মীয় চিন্তা-চেতনায় অন্যান্য শিশুদের মতো পরিত্যক্ত শিশুদের সুষ্ঠুভাবে লালন-পালন ও উন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তারপরও পরিত্যক্ত এসব শিশুনিবাসের পুনর্বাসনের কাজে নেই গতি।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ