সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

রাসেল মাহমুদ

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৫,২০২০, ০১:০৩

মার্চ ০৫,২০২০, ০১:০৩

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মুজিববর্ষেই জাতীয়করণ দাবি

দেশের চার হাজার ১৫৯টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গত কয়েক বছর ধরে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচি, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘটসহ একাধিকবার আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করলেও জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়নি তাদের।

দাবি আদায়ের জন্য ছাট ছোট কর্মসূচি পালন অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনের আগে বঞ্চিত বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ দাবি করছেন তারা।

এ জন্য গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

স্মারকলিপিতে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী পালনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা অনুযায়ী ২০১২ সালের ২৭ মের আগে পাঠদানের জন্য আবেদনকৃত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রংপুর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট (পিটিআই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেন, কিছু বিদ্যালয় ২৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েও সরকারিকরণের তালিকাভুক্ত হতে পারেনি।

সেসব স্কুলগুলোকে খতিয়ে দেখে সরকারিকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এতে শিক্ষকদের মধ্যে আশার আলো সঞ্চার হয়। বাংলাদেশ

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন আমার সংবাদকে বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, ওই সময়ে জাতীয়করণের তালিকা যথাযথভাবে না হওয়ায় ৪১৫৯টি বিদ্যালয় ও কর্মরত শিক্ষক জাতীয়করণ থেকে বঞ্চিত হয়।

২০১২ সালের সমাপনীসহ এসব বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে থেকে প্রায় এক হাজার ৩০০ বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। যা মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর জাতীয়করণ হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের শুরুতে দীর্ঘ ১৮ দিন আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

তার পরিপ্রেক্ষিতে তালিকা বহির্ভূত প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহ জাতীয়করণে হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী সঠিক তথ্য দেননি বলে জানান শিক্ষকরা। মন্ত্রী সঠিক তথ্য না দেয়ায় আবারো বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ হতে বাদ পড়ে যায়।

পরে প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনার জন্য ২০১৯ সালের ১৬ জুন ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ৫৫ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করেন শিক্ষকরা। এ সময়ের মধ্যে তারা প্রতীকী অনশনসহ আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচিও পালন করে।

ওই কর্মসূচিতে অংশ নেয়া একজন শিক্ষকের মৃত্যুও হয়। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর এপিএসের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

কিন্তু বারবার শিক্ষকরা শুধু আশ্বাসই পেয়ে গেছেন। শেষ পর্যন্ত দাবি আর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আমারসংবাদ/এমএআই