সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মার্চ ০৬,২০২০, ০৫:৩৬

মার্চ ০৬,২০২০, ০৫:৩৬

এলডিসি উত্তরণের পর তিন চ্যালেঞ্জ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর তিনটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে। প্রথমত বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি, দ্বিতীয়ত নীতিমালা তৈরিতে সুযোগ সংকোচন এবং তৃতীয়টি হচ্ছে উন্নয়ন সাহায্য কমে আসতে পারে।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) গবেষণা পরিচালক ড. এম এ রাজ্জাক।

গতকাল রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে সামষ্টিক অর্থনীতি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিষয়ে কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।ইআরএফ ও পিআরআই যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ও ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।

ড. রাজ্জাক বলেন, স্বল্পোন্নত আয়ের দেশ হওয়ার কারণে পণ্য রপ্তানিতে জিরো ডিউটি বা শূন্য শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০২৪ সালের পর ন্যূনতম ২.৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক গুণতে হবে আমাদের।

ড. মনসুর বলেন, এখনো কোনো রাজস্ব অফিসে ট্যাক্স জমা দিতে গেলে ঘুষ না দিয়ে কাজ হয় না। তারপরও প্রতিবছরই ট্যাক্স কালেকশনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

কিন্তু আদায়ের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। গত কয়েক বছরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা পেনশন এবং ভর্তুকিতে যে পরিমাণ সরকারি ব্যয় বেড়েছে সে অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না সরকার।

প্রশ্নোত্তরপর্বে পিআরআই নির্বাহী পরিচালক বলেন, সম্প্রতি ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা মোটেও যৌক্তিক নয়।

এটি বাস্তবায়নের কিছুদিনের মধ্যেই অর্থনীতিতে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাবে। ক্ষুদ্র শিল্প খাত পরিত্যক্ত হয়ে পড়বে। কারণ এই ঋণের পরিচালন ব্যয় বেশি। তখন ইচ্ছা করেই ব্যাংকগুলো এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ করবে না।

একদিকে খেলাপি, মূল্যস্ফীতি অন্যদিকে আমদানি-রপ্তানির অবনমন অর্থনীতিকে হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ বছর ব্যাংক খাত থেকে সরকার যে ঋণ নেবে তার পরিমাণ গত ৪৮ বছরের সমান।

এর বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে সরকার পরিশোধ করবে ৯ দশমিক ৫ শতাশ। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোকে ৯ শতাংশে ঋণ বিতরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে যে সব নীতিমালা নেয়া হচ্ছে এর সবগুলোই ভারসাম্যহীন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত ১০ বছরে ব্যাংক ব্যবসায় লাভের পরিমাণ বহুগুণ কমেছে। এতে সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হয়েছেন ব্যাংক মালিকরা। কারণ এক ব্যাংক মালিক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সুবিধা ভোগ করেন। কিন্তু কাউকেই সেটা পরিশোধ করতে হয় না।

আমারসংবাদ/এমএআই