সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আবদুর রহিম ও রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৭,২০২০, ০১:৫১

মার্চ ০৭,২০২০, ০১:৫১

সেই ভাষণেই আজকের বাংলাদেশ

  • বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই বাঙালি জাতিকে মুক্তি এনে দিয়েছিল: ড. কামাল হোসেন
  • ৭ মার্চের ভাষণ এখনো মানুষকে শিহরিত করে: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
  • ভাষণের পর সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে যায়: মোহাম্মদ নাসিম
  • এক ঘোষণায় স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে প্রস্তুত করে দিলেন: নুহ-উল আলম লেনিন

একটি ভাষণ! একটি বাংলাদেশ। একটি ইতিহাস। আমাদের সত্তার পরিচয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের ভাষণেই আজকের বাংলাদেশ। এমনই বলেছেন দেশের ইতিহাসের সাক্ষী বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিকরা।

তাদের ভাষ্য— বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই বাঙালিকে মুক্তি এনে দিয়েছিল। সেই ভাষণের পথ ধরেই চলছে আজকের স্বপ্নের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ওপর ভিত্তি করে দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং এই দেশকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে রক্ষা করে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।

সেই ভাষণ সারা দেশের মানুষের মুক্তির শপথ হিসেবে কাজ করেছে। ৭ মার্চের ঘোষণা বাংলার মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জীবনের বড় ঝুঁকি তিনি গ্রহণ করেছেন। মানুষ তার মধ্যে দেখতে পেয়েছে বাঙালি জাতির স্বপ্নের রূপকার হিসেবে।

মানুষ তার মধ্যে দেখে একজন ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে। প্রতিটি জাতির ইতিহাসে যেমন মহানায়ক থাকে, মহাকাব্য চরিত্র থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমানই একমাত্র মহাকাব্য চরিত্র। যাকে দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এখনো সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা জোগায়।

এই ভাষণ শুধু বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি পারেনি। পারবেও না— এমন দাবি করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। আবার অনেকে এও বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নন, তিনি এই দেশের মাটি ও মানুষের সম্পদ।

বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর অন্যতম সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ‘৬ মার্চ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ ও আমাকে ৭ মার্চের ভাষণের খসড়া তৈরির নির্দেশ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই বাঙালিকে মুক্তি এনে দিয়েছিল। সেই ভাষণের পথ ধরেই আজকের বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নন, তিনি এই দেশের মাটি ও মানুষের নেতা। দেশের চাইতে বড় সম্পদ। তাই বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক ও দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখে সবাইকে রাজনীতি করতে হবে। যারা এখনো বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে বিবেচনা করছেন এবং আলাদা করতে চেষ্টা করেন, এ বিষয়টি মোটেও উচিত নয়।’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম আমার সংবাদকে বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ একটি ঐতিহাসিক ভাষণ। তার এ ভাষণের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের ওপর ভিত্তি করে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং এই দেশকে পাকিস্তানিদের হাত থেকে রক্ষা করে।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণ স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই ভাষণ সারা দেশের মানুষের মুক্তির শপথ হিসেবে কাজ করেছে। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ এখনো সাধারণ মানুষকে অনুপ্রেরণা দেন। এই ভাষণ শুধু বঙ্গবন্ধু দিয়েছেন। আর দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি পারেননি, পারবেও না।’

ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিচয় দিয়েছেন। রণকৌশলের দিক থেকে এই ভাষণ অসাধারণ। এই বক্তৃতা এখনো মানুষকে শিহরিত করে।’

তিনি বলেন, ‘এই বক্তৃতার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও জনসাধারণ স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যে পাকিস্তানি সেনা শাসকরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে, সে বিষয়েও তিনি অবহিত ছিলেন।

আনিসুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন কি-না— এমন এক প্রশ্নর জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘আমরা তো সংখ্যাগরিষ্ঠ। পশ্চিমাদের ওপর নির্ভর করছে তারা বিচ্ছিন্ন হতে চায় কি-না।’

আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ-উল আলম লেনিন আমার সংবাদকে বলেন, ‘১৯৭১ সালের পহেলা মার্চের জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়ার পর এই কথা বাঙালি জাতির কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে— পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না এবং দীর্ঘদিনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। দেশে স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই।

সেই কথাটাই ৭ মার্চ ভাষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের মধ্য যে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষা প্রতিধ্বনিত করলেন— এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এই কথা যদি না বলা হতো, তাহলে মানুষ হতাশ হতো এবং ওই সময় স্বাধীনতা অর্জন করা কষ্টকর হতো। তাই বঙ্গবন্ধু কৌশল করে সংগ্রামের চরিত্র নির্ধারণ করলেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে সেদিন তিনি আমাদের স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করে দিলেন।’

এ জন্য তিনি বলেছিলেন, ‘আমি যদি তোমাদের হুকুম নাও দিবার পারি তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। কাজেই স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য ৯ মাস যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের প্রস্তুতিও কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ ভাষণে ছিলো। ৭ মার্চ শুধু দাবি-দাওয়া তা নয়, এই ভাষণ হচ্ছে জাতি-রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা এবং পক্ষান্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান একমাত্র নেতা, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলেছেন, বাংলার মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জীবনের বড় ঝুঁকি তিনি গ্রহণ করেছেন। মানুষ তার মধ্যে দেখতে পেয়েছে বাঙালি জাতির স্বপ্নের রূপকার হিসেবে।

মানুষ তার মধ্যে দেখে একজন ইতিহাসের মহানায়ক হিসেবে। প্রতিটি জাতির ইতিহাসে যেমন মহানায়ক থাকে, মহাকাব্য চরিত্র থাকে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র মহাকাব্য চরিত্র। যাকে দেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।’

আমারসংবা/এসটিএমএ