সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আবদুর রহিম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৮,২০২০, ১২:৪২

মার্চ ০৮,২০২০, ১২:৪২

নারীর জয়ে বাকি শুধু সমতা

  • বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়েছে: ড. আমেনা মহসীন (অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাবি)
  • এখনো সমতা অর্জন অনেক দূর বাকি: রাশেদা কে চৌধুরী (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা)
  • নারীদের সুরক্ষায় খুব একটা সফল নই: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ)

উজ্জ্বল নক্ষত্র নারী! বদলে দিচ্ছে পৃথিবী। সফলতার মিছিলে বাংলাদেশও। তবে এখন বাকি শুধু সমতা। এ দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিল্প-সাহিত্যসহ সব ক্ষেত্রে স্বর্ণাক্ষরে নারীর পদচারণা। খেলাধুলায়ও পিছিয়ে নেই আমাদের নারীরা।

প্রথম নারী উপাচার্য, প্রথম নারী পর্বতারোহী, প্রথম বিজিএমইএ নারী সভাপতি, প্রথম সংখ্যালঘু নারী মেজর, প্রথম নারী স্পিকার, প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত এক দশকেই সৃষ্টি হয়েছে।

নারীদের এই অভূতপূর্ব ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ ও অনুপ্রেরণার যিনি প্রথম ভাগীদার, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকার পরিচালনায়, রাজনীতিতে, প্রশাসনে, সামরিক বাহিনীতে, আইনশৃঙ্খলা বিভাগেও নারীর অবস্থান ক্রমশ উজ্জ্বল হচ্ছে।

‘আমি প্রজন্ম সমতা নারীর অধিকার’ এই স্লোগান নিয়ে আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হবে। এ নিয়ে কথা হয় বাংলাদেশের সফল নারী ব্যক্তিদের সঙ্গে।

তাদের ভাষ্য— সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী এখনো মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে।

হয়তো আর বেশি দিন লাগবে না, নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রসহ সব জায়গায় জোরালো ভূমিকা রাখবে। নারী-পুরুষ একটা সমতার মধ্যে আসবে।

তবে নারীকেও সে যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধার পরিচয় দিতে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। এটিও ঠিক নারীরা অত্যন্ত মেধাবী, তারা সর্বাবস্থায় এটা দৃশ্যমান দেখিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু তারপরও মেয়ে থেকে নারী হয়ে ওঠার যে বিষয়টা এই জায়গাটায় দুর্বলতা আছে। তবে সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে বলেও মনে করছেন নারী বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, নারী-পুরুষের মধ্যে পৃথিবীর সব দেশে বৈষম্য রয়েছে, এটা শুধু বাংলাদেশ নয়; সর্বত্রই রয়েছে। আমেরিকাতেও রয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অংশগ্রহণ অনেকদূর এগিয়েছে।

অংশগ্রহণের দিক থেকে সবকিছু দৃশ্যমান। কিন্তু অংশীদারিত্বের জায়গায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারী এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এখনো সমতা অর্জন অনেক দূর বাকি আছে।

আশঙ্কার যায়গায় বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে এখনো নারী ও শিশু ধর্ষণ রয়েছে। এ বিষয়টা অনেক মাত্রায় দৃশ্যমান। তাই নারীদের প্রতি সম্মানের বিষয়টা আরো নিশ্চিতকরণের দাবি তোলা হচ্ছে।

জানা গেছে, সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা এসএমই ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আবার নারী উদ্যোক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে স্বল্পসুদে ঋণও নিতে পারছেন। বর্তমানে ৩০ লাখেরও বেশি নারী শ্রমিক পোশাকশিল্পে কর্মরত আছেন।

এছাড়া দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ১৪৪টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম।এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে।

এক্ষেত্রে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১০৮, ১০৯, ১১১, ১২৪ ও ১৪৩তম। বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে এই সূচকের উন্নয়ন আশার সঞ্চার করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আমেনা মহসীন আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা যদি ওভারঅল দেখি, আমরা গত বছর দেখিছি যে, অনেক নারী ও শিশু ধর্ষণ হয়েছে। এ বিষয়টা অনেক মাত্রায় বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, আমরা নারীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টা যতক্ষণ পর্যন্ত না করতে পারবো এবং নারীদের প্রতি সম্মানের বিষয়টা যদি নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে এর পরিবর্তন হবে না।

আমরা নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলছি এটা ঠিক আছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীরা অনেক কিছুতে এগিয়েছে। অনেক ভালো স্থানে রয়েছে। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরা এখনো ভালো অবস্থানে নেই।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, ‘নারী পুরুষের মধ্যে পৃথিবীর সব দেশে বৈষম্য রয়েছে এটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সর্বত্রই রয়েছে। আমেরিকাতেও রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অংশগ্রহণ অনেকদূর এগিয়েছে। অংশগ্রহণের দিক থেকে সবকিছু দৃশ্যমান। কিন্তু অংশীদারিত্বের জায়গায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গায় নারী এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এখনো সমতা অর্জন অনেক দূর বাকি আছে।

সেটি অর্থনীতি বলেন, আর নারীর প্রতি সহিংসতা বলেন। সমতায় আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছতে পারিনি।’

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা আমার সংবাদকে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নারী এখনো মূল জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে নারীকে এগোতে হচ্ছে।

তবে সব মিলিয়ে নারী অনেক এগিয়েছে। হয়তো আর বেশি দিন লাগবে না নারীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রসহ সব জায়গায় জোরালো ভূমিকা রাখবে। নারী-পুরুষ একটা সমতার মধ্যে আসবে।

তবে নারীকেও সে যোগ্যতা, দক্ষতা, মেধা— এ বিষয়গুলোতে নারীকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। নারীরা অত্যন্ত মেধাবী, তারা সর্বাবস্থায় এটা দৃশ্যমান দেখিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু তারপরও আমরা বিষয় দেখি, মেয়ে থেকে নারী হয়ে ওঠার যে বিষয়টা; এই জায়গাটাতে দুর্বলতা আছে। তবে সময়ের সাথে ঠিক হয়ে যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। নারী তার কাঙ্ক্ষিত স্থানে পৌঁছবে।

রুমিন ফারহানা বলেন, তবে সমপ্রতি আমরা এমন দেখি নারীদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার বিষয়ে সরকার খুব একটা সফল নয়। এক্ষেত্রে আমি বলবো সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

আমরা প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় নারী নির্যাতনের চিত্র দেখি। এটা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে হতে পারে না। নারীদের নিয়ে অল্প কিছু ঘটনা আমরা মুখোমুখি হতে দেখি আলোচিত হয়।

এর মধ্যে অসংখ্য ঘটনা আড়ালে থেকে থাকে, যেগুলো হয়তো মানুষের নজর কাড়ে না। সেগুলোতে আমরা সরকারের এক ধরনের নীরবতা দেখি।

যারা নারী নির্যাতনের সঙ্গে যুক্ত তাদের অনেকেই কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার সাথে যুক্ত দেখি আমরা, সেটা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় হতে পারে, রাজনৈতিক ক্ষমতায় নানাভাবে। এ বিষয়টাতে রাষ্ট্রকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে।’

আমারসংবাদ/এসটিএমএ