সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৮,২০২০, ০১:০৮

মার্চ ০৮,২০২০, ০১:১৬

মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যানার-ফেস্টুন

বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বড় নেতারা!

আহম্মদ উল্লাহ মধু। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার বড় আকারের ছবি-সংবলিত অসংখ্য ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ মহানগর দক্ষিণের প্রধান রাস্তাগুলোর মূল ফটকে টাঙানো হয়েছে। প্রতিটি ব্যানার-ফেস্টুনে মুজিববর্ষের লোগোর যথাযথ ব্যবহার হয়নি।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় এবং মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি নিজের ছবি ব্যবহার করে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছার ফেস্টুন টাঙিয়েছেন মহানগর দক্ষিণের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হাজি মো. রমজান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফুয়াদ ফয়সাল।

তারাও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে মুজিববর্ষের ব্যানারে নিজের ব্যক্তিগত ছবি লাগিয়েছেন। অথচ মুজিববর্ষের শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুনে নেতাদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার না করতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।

একই সঙ্গে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা ব্যানার-ফেস্টুন তৈরিতেও নিজের ছবি ব্যবহার না করার নির্দেশনা দিয়েছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শাসম পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল। তাদের সে নির্দেশনাও মানেনি যুবলীগের এই নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে যারা নিজেদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করেছেন তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। কেউ যেন আর নিজের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার তৈরি না করে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ফেস্টুন তৈরি করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতা শাখাওয়াত হোসেন আওলাদ। তার ওই ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবির থেকে বেশি স্থান পেয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে স্থান পেতেই মুজিববর্ষের ফেস্টুনে বঙ্গবন্ধুর চেয়ে সভাপতির ছবি ব্যবহার করেছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেস্টুন তৈরি করেছেন মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. সানাউল্লাহ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম।

তাদের ফেস্টুনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের ছবি ব্যবহারের পাশাপাশি তারা নিজেদের ছবিও ব্যবহার করেছেন। একইভাবে ফেস্টুন তৈরি করেছেন কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাঈমুল ইসলাম (মাইফুল)।

এছাড়া মুজিববর্ষ উপলক্ষে ব্যানার টাঙিয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সেলিম আজাদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সহ-সম্পাদক মানিক সিকদার। আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা যুব প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শহীদ (কাজল)।

তারা সবাই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আত্ম প্রচারের জন্য ব্যানার-ফেস্টুন তৈরি করেছেন। তাদের ওই ব্যানার-ফেস্টুনেই স্থানীয় নেতাদের ছবি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগোর নির্ধারিত রঙ, বর্ণবিন্যাস ও নিদিষ্ট্য আকৃতির নির্দেশিকাও দেয়া হয়েছে।

এই লোগো যাতে যত্রতত্র ব্যবহার এবং লোগোর অমর্যাদা না হয়, সেজন্য যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ব্যবহারের জন্য বলেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। কিন্তু সে নির্দেশনা মানা হচ্ছে। শুভেচ্ছা ব্যানার-ফেস্টুনে মুজিববর্ষের লোগো ব্যবহারেও নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ১৭ মার্চ পূর্ণ হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে বছরব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।

একই সাথে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সফলভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে সাংগঠনিক কর্মসূচিও হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

তবে অনুষ্ঠেয় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মুজিববর্ষ যেকোনোভাবে ম্লান না হয় সে বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকে সর্বজনীন করতে গিয়ে দলের কেউ যেন চাঁদাবাজি না করে সে বিষয়েও নজদারি রাখছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রচার-প্রচারণা করতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

অভিযোগ রয়েছে তারা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী প্রচার-প্রচারণা করতে গিয়ে নিজেদের আত্মপ্রচারণাই বেশি করছে। তাই মুজিববর্ষের শুভেচ্ছার ব্যানার-ফেস্টুনে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার না করতে নির্দেশ দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ