শনিবার ০৬ জুন ২০২০

২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ফারুক আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৮,২০২০, ০১:১৪

মার্চ ০৮,২০২০, ০১:১৪

হোল্ডিং ট্যাক্স-ট্রেড লাইসেন্স

ঢাকার দুই সিটিতেই বেড়েছে রাজস্ব কমেছে ভোগান্তি

ঢাকা দুই সিটিতে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি অনলাইনে আদায় করায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর সঙ্গে রাজস্ব আয় বেড়েছে। সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইনে ফি আদায় করছে কয়েক বছর ধরে।

এখন মানুষ ঘরে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি জমা দিতে পারেন। মানুষের সময়, শ্রম, অর্থের সাশ্রয় হয়েছে বলে জানান সিটি কর্পোরশন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দুই সিটির কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বা গৃহকর পরিশোধে করদাতাদের অনীহা দীর্ঘদিনের। তার ওপর অনিয়ম ও ভোগান্তির ছিলো না কমতি। ভুয়া ভাউচার ও চালান ফরমের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তার টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ ছিলো।

ঘুষ ছাড়া নতুন ট্রেড লাইসেন্স পাওয়াও ছিলো কষ্টকর। যে কারণে এসব ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিয়েছে দুই সিটি কর্পোরেশন। নাগরিক সেবার ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি বেড়েছে রাজস্ব আয়।

গ্রাহকের দেয়া মোবাইল ফোন বা ই-মেইলে চলে আসছে লাইসেন্স বা ফি পরিশোধের রসিদ। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্ম-মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদও অনলাইন পদ্ধতিতে করা হয়েছে।

জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বরে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের এ অনলাইন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন।

অন্যদিকে ডিএনসিসি ২০১৮ সালে পাঁচটি ব্যাংকের সাথে গুলশানস্থ নগর ভবনে এব্যাপারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। কার্যক্রমের আওতায় যে কেউ ঘরে বসে নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, নবায়ন ও বাসাবাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারছেন।

ফলে এ খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি কমেছে। ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে কাউকে আর উৎকোচ দিতে হচ্ছে না।

সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৫ জুলাই থেকে চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত ডিএসসিসিতে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন পড়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৮২টি। এর মধ্যে সঠিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৯১টি ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে।

এ থেকে সিটি কর্পোরেশনের আয় হয়েছে ৪৮ কোটি ৬৬ লাখ ৬৭ হাজার ২২৯ টাকা। অপরদিকে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০১ জন হোল্ডিং মালিক অনলাইনের মাধ্যমে তাদের ট্যাক্স পরিশোধ করেছেন।

এছাড়াও বিপুলসংখ্যক হোল্ডিং মালিক ব্যাংকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে হোল্ডিং কর দিয়েছেন।

কয়েক বছর ধরেই এই পদ্ধতিতে ট্যাক্স আদায় করছে দুই সিটি। ফলে নগরবাসীকে ট্রেড লাইসেন্স ও গৃহকর পরিশোধে ব্যাংক কিংবা নগর ভবনে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে না।

ঘরে বসেই মোবাইল ফোন বা ব্যাংকিং পদ্ধতির মাধ্যমেই ট্যাক্স বা ফি পরিশোধ করা যাচ্ছে। গ্রাহকের দেয়া মোবাইল ফোন বা ই-মেইলে চলে আসছে লাইসেন্স বা ফি পরিশোধের রসিদ।

পাশাপাশি নাগরিকদের জন্ম-মৃত্যু ও ওয়ারিশ সনদও অনলাইন পদ্ধতিতে করা হয়েছে। ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নির্বাচিত হওয়ার পর এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন।

ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া বলেন, সেবা আপনার কাছে যাবে, আপনাকে সেবার কাছে যেতে হবে না— এ ধরনের ভাবনা থেকে এই উদ্যোগ নেয়া হয়।

অনলাইন সেবা সুবিধা প্রণয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ডিএসসিসির উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নের ক্ষেত্রে অতীতে অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে।

কেউ সেবা নিতে গেলেই ভোগান্তির শিকার হতেন। অনেক সময় উৎকোচ দিতে হতো। দুর্নীতি করায় অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলাও হয়েছে।

সমপ্রতি একজনের নামে মামলাও হয়েছে। এখন আর সেই সুযোগ নেই। মেয়রের নির্দেশে এ সেক্টরটি অনলাইন সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। সিস্টেমটাও অনেক সহজ। ঘরে বসে পরিশোধ করা যায়।

অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করতে হলে প্রথমেই অনলাইনে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে ঢুকলেই একটি নিবন্ধন ফরম পাওয়া যাবে।

সেখানে নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, ই-মেইল, ব্যবসার ধরনসহ কিছু তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। একটি নিবন্ধন নম্বরও পাওয়া যাবে। সেটা সাবমিট করলে আরেকটি ফরম আসবে। সেখানেও চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর যুক্ত করতে হবে।

এছাড়া চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র স্ক্যান করে যুক্ত করতে হবে। এরপর সেটা সাবমিট করলে একটি মেসেজ যাবে গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজস্ব ইন্সপেক্টরের (রাজস্ব পরিদর্শক) মোবাইলে।

রাজস্ব পরিদর্শক কাগজপত্র যাচাই করার পর একটি ফিরতি মেসেজ যাবে সেবাগ্রহীতার মোবাইল ফোন ও ই-মেইলে। ফিরতি মেসেজে ফির পরিমাণ ও জমা দেয়ার বিষয়ে অবহিত করা হবে। সেখানে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর জানিয়ে দেয়া হবে।

এরপর ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড বা নগদে ব্যাংকে গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। এছাড়া বিকাশ, রকেট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও টাকা পরিশোধ করা যাবে। ফি জমার পরপরই সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স সুপারভাইজারের মোবাইল ফোনে মেসেজ যাবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ