শনিবার ০৬ জুন ২০২০

২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ফারুক আলম

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:১৮

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:১৮

এগোয়নি হাজারীবাগ পার্ক সংস্কার

দক্ষিণ সিটির ৬ মাসের কাজে আড়াই বছর পার

ঢাকার হাজারীবাগ পার্ক সংস্কার কাজের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৮ সালের জুনে। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়।

দ্বিতীয় দফায় দেড় বছর সময় বাড়ানো হলেও পার্কের সংস্কার কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এতেও কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

ঠিকাদারপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছে। এলাকাবাসী তাদের ভোগান্তির জন্য সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় তিন বিঘার কিছু বেশি আয়তনের হাজারীবাগ পার্কটিতে কিছু শ্রমিক কাজ করছেন। পার্ক সংস্কারে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে।

পার্কের ভেতরে ইট, বালু রডসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ১০ জন শ্রমিক পার্কের ভেতরে কাজ করছেন। পুরো পার্কের কাজ তেমন দৃশ্যমান হয়নি।

কাজের বিষয়ে শ্রমিকরা বলেন, আমরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন লোক কাজ করি।

কাজ দেরি হওয়ার কারণ হিসেবে তারা বলেন, কন্ট্রাক্টরের কাছে যে মাল চাই তা দিতে দুই-তিনদিন দেরি হয়। আমরা যে জিনিস দিয়ে কাজ করি সেটা যদি সঠিক সময়ে না পাই তাহলে কাজ করবো কীভাবে?

সিটি কর্পোরেশনের সূত্রে জানা গেছে, জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পের আওতায় হাজারীবাগ পার্কেও উন্নয়ন কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে।

এ জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০১৮ সালের জুনে। হাজারীবাগ পার্কের উন্নয়ন কাজ শেষ করার কথা ছিলো ৬ মাসের মধ্যে। অথচ পেরিয়ে গেছে দুবছর।

এর মধ্যে কেবল ৫০ শতাংশ কাজ শেষ করেছেন ঠিকাদার। কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসী পার্ক ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জল সবুজে ঢাকা প্রকল্পের পরিচালক ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান। তার সঙ্গে এ ব্যাপারে কয়েকবার দেখা করার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

তবে জানা গেছে, এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলার জন্য অলিখিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জগন্নাথ সাহা পার্ক, নবাবাগঞ্জ পার্ক, আজিমপুর পার্কসহ সাতটি পার্কের সংস্কারকাজে একটি প্যাকেজ হচ্ছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও পরবর্তী সময়ে আরও ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত একটি পার্কও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

একটি প্যাকেজে থাকা এই সাতটি পার্কের সংস্কারকাজ করছে বিঅ্যান্ডসি জেড-সি ডিএই (জেবি) নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার মালিক মুকিতুর রহমান ও ডিএইর মালিক জসিম উদ্দিন।

হাজারীবাগ পার্কটি আড়াই বছরেও সংস্কার কাজ শেষ করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এসএম আশরাফুল বলেন, অনেকদিন ধরে কাজ চলছে, এখনো শেষ হয়নি। বছরের পর বছর ধরে পার্কটির কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। কাজের গতি আরও বাড়ানো উচিত।

ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নির্বাচিত হওয়ার পর সংস্থাটির ১৯টি পার্ক আর ১২টি খেলার মাঠ আধুনিকায়নে জল সবুজে ঢাকা প্রকল্প নেন। যা ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করতে পারায় কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়। এতে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও নানা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে সবগুলো পার্কের কাজ শেষ করতে পারেনি ডিএসসিসি।

প্রকল্পের ব্যয় প্রথমে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ধরা হলেও পরবর্তীতে নকশা পরিবর্তন ঘটিয়ে ১ হাজার ৭০০ কোটি ১৯ লাখ টাকায় ঠেকেছে। এই বরাদ্দের ৭০ শতাংশ দেবে সরকার, বাকি ৩০ শতাংশ বহন করবে ডিএসসিসি।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ