সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

শাহ আলম নূর

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:২২

মার্চ ০৮,২০২০, ০২:২২

ছয় মাসে ৩৭ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট

পুঁজিবাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

পতনের ধারা থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না দেশের পুঁজিবাজার। অব্যাহত দরপতনে পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়ছে। পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিন মন্দার মধ্যে থাকা শেয়ার বাজারের প্রতি নেতিবাচক ধারণা রয়েছে সবার। এতে কমেছে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রবণতা।

গত ছয় মাসে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার। এজন্য বাজার পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্র জানায়, গত আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিলো ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৬৯২টি। ফেব্রুয়ারি মাস শেষে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮টি। অর্থাৎ গত ৬ মাসে সারা দেশে বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৩৭ হাজার।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, দীর্ঘদিন যাবত মন্দার মধ্যে থাকার কারণে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বিনিয়োগ যোগ্য অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তারপরও নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসছেন না। এর প্রধান কারণ বাজার স্থিতিশীল নয়।

তারা বলেন, শেয়ার বাজারে নতুন আইপিওর শেয়ারও কম আসছে। আসলে শেয়ার বাজার থেকে লাভবান হতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। ফলে নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে আসতে ভয় পাচ্ছেন।

মতিঝিলে এক বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজার নিয়ে রীতিমত খেলা শুরু হয়েছে। বাজারকে স্বাভাবিক করার নামে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে তার কোনোটাই কাজে দিচ্ছে না।

আসল কথা হচ্ছে, বাজার সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত। এটা এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে পরিষ্কার। তাই এসব পদক্ষেপের নামে বাজার থেকে ভিন্ন উপায়ে অর্থ লুটপাট হচ্ছে কিনা সে শঙ্কায় রয়েছেন বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী।

আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, অব্যাহত দরপতনে দেশি বা স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা আস্থাহীনতায় ভুগছেন। ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারী বুঝে উঠতে পারছেন না বাজার কোথায় গিয়ে শেষ হবে।

দিশাহারা হয়ে পড়েছেন সবাই। এই অবস্থায় যে করেই হোক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা-বিএসইসি, ডিএসই সবাইকে মিলে এ কাজটি দ্রুত করতে হবে।

মতিঝিলে একাধিক সিকিউরিটিজ হাউজ ঘুরে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিও খোলার প্রবণতা কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে। নতুন করে হিসাব না খোলায় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ছে না।

অন্যদিকে যেসব বিনিয়োগকারীর পোর্টফলিওর ইক্যুইটি মাইনাসে চলে এসেছে তারা লেনদেন করতে পারছে না। এমন অবস্থায় কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সিকিউরিটিজ হাউজগুলো। ফলে বড় বড় হাউজগুলোতেও লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, বাজারে নতুন আইপিওর অফার থাকলে সাধারণত বিও অ্যাকাউন্ট বাড়তে থাকে। তবে শেয়ার বাজার ভালো থাকলে অনেকেই সেকেন্ডারি মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য অ্যাকাউন্ট খোলেন।

এতে নতুন বিও অ্যাকাউন্ট বাড়তে সহযোগিতা করে। আবার শেয়ার বাজার যখন মন্দা অবস্থার মধ্য দিয়ে যায় তখন পুঁজিবাজারের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে থাকে।

সিডিবিএল সূত্র জানায়, মূলত ২০১০ সালের পর থেকে বিও অ্যাকাউন্ট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। বর্তমানে অর্ধেকের বেশি অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই। বর্তমানে মোট বিও’র মধ্যে শেয়ার শূন্য এবং ব্যবহার করা হচ্ছে না এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৪ লাখের বেশি।

গত বছর সময় মতো বিও ফি পরিশোধ না করায় বাতিল হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ অ্যাকাউন্ট। সেকেন্ডারি মার্কেটের মন্দা পরিস্থিতি, সে সঙ্গে আইপিও বাজারের নাজুক পরিস্থিতির জন্য এসব অ্যাকাউন্ট ঝরে গেছে বলে মনে করেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিমত, বর্তমানে বাজারচিত্র পরিবর্তিত হয়েছে। তাছাড়া প্রায় প্রতি মাসেই রয়েছে আইপিও, এতে কিছুি বিনিয়োগকারী তাদের বিও অ্যাকাইন্ট ব্যবহার করছেন।

ঢাকা ব্রকারেজ হাউজ অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, বিষয়টা আস্থার সংকট তা নয়। কারণ, আবার যখন বাজারে বিনিয়োগ আসবে তখন আস্থাহীনতা থেকেই আস্থাটা আসবে।

বাজার এখন বটম আউটে চলে এসেছে। তার মানে, শেয়ারের দাম এমনপর্যায়ে এসেছে যে, শেয়ারের দাম আর পড়ার তেমন সুযোগ নেই। তিনি মনে করেন, বাজার খুব শিগগিরই ভালো অবস্থানে ফিরে আসবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ