মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০

২৪ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

ফারুক আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৩,২০২০, ১২:৫০

মার্চ ২৩,২০২০, ১২:৫০

অর্ধেক জনবলে চলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস

করোনার প্রভাবে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা

করোনা আতঙ্কে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিলো কম। প্রতিটি দপ্তরে অর্ধেক কর্মী নিয়ে কাজ চলছে। যারা অফিসে তারাও সীমিত পরিসরে কাজ করছেন।

জানা গেছে, করোনা আতঙ্কে সচিবালয়ের ভেতরে তো দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দপ্তরগুলোর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী গত বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে গ্রামে চলে গেছেন।

এ জন্য দপ্তরে কাজের গতিও কমেছে। সরকারি দপ্তর ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি অফিস কয়েকদিনের বন্ধ দিয়েছে, কিছু অফিস খোলা রাখলেও বাসা কিংবা অফিসে এসে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যম তাদের কাজ সীমিত আকারে চালিয়ে নেয়ার জন্য বাসা থেকে কাজ করার অনুমোদন দেয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিলো অন্যান্য দিনের চেয়ে কম। যারা অফিসে গিয়েছেন, তাদের অনেকেই উপস্থিতি জানান দিয়েই অফিস ছাড়েন। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অনেক কক্ষ ছিলো ফাঁকা।

তবে যারা গত বৃহস্পতিবার ছুটির দরখাস্ত করে ছুটি পাননি, তারা গতকাল এসেই সামান্য কাজকর্ম সেরে অফিস ছাড়েন। একই অবস্থা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেও।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আবু বক্কর নামে একজন অফিস সহকারী আমার সংবাদকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ছুটির জন্য তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে দরখাস্ত করেছিলেন, কিন্তু ছুটি দেয়নি।

কারণ সারা দেশের বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলো এই মুহূর্তে গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানে নির্দেশনাও দিচ্ছেন তার ঊর্ধ্বন কর্মকর্তা। ফলে তিনি ছুটি না পেয়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুর যেতে না পারলেও মনে কোনো কষ্ট নেই।

অফিসে লোকজন কম থাকায় নিজের উপরও কিছুটা চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, করোনা আতঙ্কে দেশের ভেতরে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।

কিন্তু সরকারি দপ্তরগুলো খোলা রাখা হলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিত কম। এ জন্য সুনির্দিষ্ট কয়েকটি মন্ত্রণালয় বাদে বাকিগুলোর কর্মকাণ্ড স্বল্প পরিসরে করানোর নির্দেশনা দেয়া ভালো।

কারণ দপ্তর খোলা রাখলেও ঠিকমতো কাজ হচ্ছে না। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা দরকার সরকারকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ট্রেড লাইসেন্স শাখায় কর্মরত হাবিবুল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, এখন ট্রেড লাইসেন্স শাখায় কোনো লোক নেই। অলস সময় পার করতে হচ্ছে।

এ জন্য অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দপ্তরে আসেননি। আর এক জায়গায় ভিড় জমানো ঠিক নয়। পরিস্থিতি ভালো হলে ফের কর্মচঞ্চলতা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা। যারাই সিটি কর্পোরেশনে কর্মরত দায়িত্বে রয়েছেন অধিকাংশই মাস্ক পড়ে আছেন।

সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ করোনার প্রভাবে রাজধানী ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা। যানজট নেই, ব্যস্ত মোড়ে মানুষের জটলাও নেই। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যাও কম।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এ জন্য রাজধানীর চিত্র ছিলো একেবারে অন্যরকম। গুলিস্তানের ফুটপাতের এক ব্যবসায়ীর ভাষায়, এ যেনো ঈদের ছুটিতে ঢাকা।

সকাল থেকেই রাজধানীর ব্যস্ত এলাকা শাহবাগ, মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন, বাংলা মোটর, কাকরাইল ছিলো অনেকটাই ফাঁকা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে যানজট ছিলো না। যানবাহন চলেছে হাতেগোনা। বাস ও মিনিবাসগুলো যাত্রী সঙ্কটে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থেকেছে অনেকক্ষণ।

গতকাল গুলিস্তান এলাকার জিরো পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তা ও ফুটপাত অনেকটাই ফাঁকা। গুলিস্তান এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিক্রেতা থাকলেও ত্রেতা ছিলো না বললেই চলে।

গুলিস্তানে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার যেখানে নেমেছে সেখানে প্রতিদিন যানজট লেগে থাকলেও গতকাল ছিলো ভিন্নরূপ। একটা দুটো করে বাস আসছে। সেগুলোতে যাত্রীও হাতে গোনা। পুরো গুলিস্তানজুড়ে ছিলো না কোনো কোলাহল।

পল্টন এলাকাতেও লোক সমাগম চোখে পড়েনি। পল্টন মোড়ে গাড়ি চলাচল করেছে খুবই কম। সে কারণে ট্রাফিক পুলিশের প্রয়োজন পড়েনি। ট্রাফিক পুলিশরা পুলিশ বক্সে অলস সময় কাটিয়েছেন। যাত্রাবাড়ী থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী বলাকা পরিবহনের চালক রুস্তম আলী বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে যাত্রী সংখ্যা একেবারে কমে গেছে।

আর যাত্রী নেই বলে রাস্তায় গাড়িও বেশি নামেনি। মতিঝিল শাপলা চত্বরে সাইফুল নামে এক যাত্রী জানান, তিনি উত্তরা থেকে বাসে মতিঝিল এসেছেন। রাস্তায় যানজট ছিলো না, গাড়ির সংখ্যা ছিলো খুবই কম।

তার মতে, এ অবস্থায় উত্তরা থেকে আধা ঘণ্টায় মতিঝিল আসা যায়। তবে বাসটি যাত্রী তোলার জন্য বিভিন্ন স্থানে অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় বেশি সময় লেগেছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ