মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০

১৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

শরিফ রুবেল

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৪,২০২০, ০২:০৪

মার্চ ২৪,২০২০, ০২:০৪

‘কোয়ারেন্টাইন না মানলেই জেল’

করোনা ভাইরাস। বিশ্বের অন্তত ১৮৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। এটি জনমনে রীতিমত ভয়াবহ আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এমনকী মহামারি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যুও হয়েছে। ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে এখনো তৈরি হয়নি কোনো ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক।

এ অবস্থায় ভাইরাসটির বিস্তার রোধে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ দেয় সরকার। কিন্তু অধিকাংশ লোকই নির্দেশিত কোয়ারেন্টাইন শর্ত সঠিকভাবে মানছেন না।

অনেকে আবার মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

তারা বলেছে, কেউ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বাধা দিলে বা নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে তাকে ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) বিল-২০১৮’ মোতাবেক তিন মাস কারাদণ্ড, অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে। কোয়ারেন্টাইন অমান্য করায় ইতোমধ্যে এ আইনের আওতায় বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে।

এর মধ্যে গত ১৭ মার্চ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ অমান্য করায় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় এক অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

১৮ মার্চ শরীয়তপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার ১৪ দিন না যেতেই বাজারে ঘোরাঘুরি করায় দুই ইতালি প্রবাসীকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এদিকে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ ২০১৮ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া নতুন আইনে ২৩টি সংক্রামক ব্যাধির একটি তালিকা আছে।

সেখানে কোভিড-১৯ নামে পরিচিত ভাইরাসটির নাম নেই। তাই সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত কারো শাস্তি প্রদান করা যাবে কিনা, সেটাই নিয়েও আলোচনা চলছে।

আইনবিদরা বলছেন, ইতোমধ্যেই যারা জেনে বা না জেনে আইনের লঙ্ঘন করেছেন বা করে চলছেন, তাদের নতুন আইনে বিচার করা যাবে না। কারণ সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভূতাপেক্ষভাবে কোনো আইন কার্যকর করে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না।

সে কারণে এখনই সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে করোনা ভাইরাসকে ২০১৮ সালের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

কারণ আইনের ৪ ধারার (ভ) উপ-ধারায় বলা আছে, সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা ‘কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (ইমারজিং বা রিইমারর্জিং) রোগসমূহকে সংক্রামক রোগের আওতায় আনতে পারবে।

আইনে ২৩টি সংক্রামক রোগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মারস-কভ, জলাতঙ্ক, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা ও চিকুনগুনিয়া।’

এ বিষয়ে আইনজীবীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ নামে দেশে যেহেতু একটা প্রচলিত আইন আছে। আইনে সংক্রামণ ব্যাধির তালিকায় করোনা ভাইরাসের কথা উল্লেখ না থাকলেও এটাকে সংক্রামক ব্যাধি হিসাবে ধরা যাবে।

তাই এই আইন অমান্যকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের তৎপর হতে হবে, তা না হলে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে। তারা জানান, যদিও আইনে সংক্রামক রোগের তালিকায় কোভিড-১৯ এর নাম নেই, তবে সরকার গেজেট করে যেকোনো রোগকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।

তাহলে এটা অমান্যকারীদের সহজেই শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে। তাদের দাবি, হোম কোয়ারেন্টাইন না মানার এমন অপরাধের শাস্তির জন্য জরিমানার মতো এত কম শাস্তি হওয়া বোধ হয় ঠিক না। আইনেও তো জেল এবং জরিমানার কথা বলা আছে। যাদের হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে এদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে।

জানা যায়, করোনা সংক্রমণের ভয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ বিয়ে করছেন। কেউবা আবার সামাজিক সব কাজেও অংশ নিচ্ছেন।

বাজারে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। মোটরসাইকেলে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় যাচ্ছেন। আত্মীয়স্বজন আসছেন তাকে দেখতে। তিনিও যাচ্ছেন আত্মীয়ের বাসায়।

ফলে দেখা যাচ্ছে এসব বিদেশি ফেরত কেউই হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানছেন না। আর সেটা না মানায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।

কিন্তু এতে ভাইরাসের বিস্তার হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে এবং পরিবার, বন্ধুবান্ধব, এলাকার মানুষ, আত্মীয়স্বজনদের মাঝেও এটা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে নতুন কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাসকে সংক্রামক রোগ হিসেবে ঘোষণা করে এর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য সরকারকে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ১৮ মার্চ বুধবার, এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর অধীনে সংক্রামক রোগের তালিকায় কোভিড-১৯ এর নাম অন্তর্ভুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ এসেছে এই বেঞ্চ থেকে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গত বৃহস্পতিবার করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন।

সেখানে বলা হয়েছে, বিদেশ থেকে আসা কিছু প্রবাসী বা তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিবর্গ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক আরোপিত কোয়ারেন্টাইনের শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করছেন না।

অনেকেই মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে বর্ণিত আইন অনুযায়ী এবং নির্দেশিত পন্থায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানাচ্ছে। ব্যত্যয়ের ক্ষেত্রে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮-এর শাস্তিমূলক ধারা প্রয়োগ করা হবে।

করোনার মতো সংক্রামক ব্যাধি আইন লঙ্ঘন করলে যে সাজা হবে : সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং তথ্য গোপনের অপরাধ ও দণ্ড। জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল)

আইনের ২৪ ধারা বলা হয়েছে :
২৪। (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপনের অপরাধ ও দণ্ড : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে :
২৫। (১) যদি কোনো ব্যক্তি-

(ক) মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাহার ওপর অর্পিত কোনো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বাধা প্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন এবং

(খ) সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করেন,তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদানের অপরাধ ও দণ্ড : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৬ ধারায় বলা হয়েছে :

২৬। (১) যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৭ ধারায় বলা হয়েছে :

২৭। এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

অপরাধের অ-আমলযোগ্যতা, জামিনযোগ্যতা ও আপসযোগ্যতা : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৮ ধারায় বলা হয়েছে :

২৮। এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ অ-আমলযোগ্য (ঘড়হ-পড়মহরুধনষব), জামিনযোগ্য (ইধরষধনষব) এবং আপসযোগ্য (ঈড়সঢ়ড়ঁহফধনষব) হইবে।

অসুবিধা দূরীকরণ : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ৩১ ধারায় বলা হয়েছে :

৩১। এই আইনের কোনো বিধানের অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার এই আইনের অন্যান্য বিধানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানপূর্বক উক্ত বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে :

৩২। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
তফসিল সংশোধনের ক্ষমতা : জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনে ৩৩ ধারায় বলা হয়েছে,

৩৩। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তফসিল সংশোধন করিতে পারিবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ