মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০

১৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আবদুর রহিম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৫,২০২০, ১২:২২

মার্চ ২৫,২০২০, ১২:২২

সুরক্ষার গ্রাম অরক্ষিত হবে নাতো!

  • মানুষ ঈদের মতো বাড়ি ফিরছে: এস এম আশরাফুজ্জামান (পুলিশ সুপার, শরীয়তপুর)
  • এ ছুটি ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়: শামসুন্নাহার (পুলিশ সুপার, গাজীপুর)
  • কেউ না ঢুকলে সুরক্ষায় থাকবে: মো. সাইফুল ইসলাম (পুলিশ সুপার, বরিশাল)
  • ট্রেন-বাসে ভরে আসার ছুটি নয়: বিপ্লব কুমার সরকার (পুলিশ সুপার, রংপুর)
  • যারা গ্রামে ঢুকতেছে সতর্ক করতেছি: মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম (এএসপি, নারায়ণগঞ্জ)
  • সুরক্ষিত গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে: মোহাম্মদ মাহবুব হাসান (পুলিশ সুপার, মাদারীপুর)
  • যারা এসে গেছেন ঘরে থাকুন: মাশরুকুর রহমান খালেদ (পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ)
  • ছুটির অপব্যবহার করা যাবে না: মো. ইউসুফ আলী (পুলিশ সুপার, পঞ্চগড়)
  • নিজ উদ্যোগে সুরক্ষিত থাকুন: এ কে এম এমরান ভূঁইয়া (এএসপি, চট্টগ্রাম)
  • নির্দেশনা পেলে ঢুকতে দেবো না: সঞ্জিত কুমার রায় (পুলিশ সুপার, টাঙ্গাইল)
  • যারা আসেননি ফুলেল শুভেচ্ছা: পংকজ চন্দ্র রায় (পুলিশ সুপার, বাগেরহাট)
  • গ্রামে আসাটা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত: মো. আলমগীর হোসেন (পুলিশ সুপার, নোয়াখালী)

সুরক্ষার ছুটি। করোনার ত্রাস থেকে রক্ষা পেতে। কিন্তু মানুষ বাড়ি ফিরছে ঈদের মতো। ট্রেনে, লঞ্চের ভেতরে-ছাদে কিংবা বাসে সেই পুরনো দৃশ্য। সবাই ছুটছে গাদাগাদি করে। দম ফেলারও জায়গা নেই। চিন্তার ভাঁজ স্থানীয় প্রশাসনে। মানুষের এমন স্রোতে সুরক্ষিত গ্রাম অরক্ষিত হবে নাতো!

এভাবে সবার গ্রামে আসাটা সম্পূর্ণ ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। তারা জানায়, এই ছুটি আনন্দের জন্য নয়, ঘোরাফেরা, বিনোদন কিংবা আড্ডা দেয়ার জন্য নয়। যার যার অবস্থানে থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষায় থাকার জন্য।

রাজধানী কিংবা বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রামমুখী না হলে স্থানীয় মানুষদের নিরাপদে রাখা সহজ হবে, অন্যথায় বড় বিপর্যয় হয়ে যেতে পারে। সুরক্ষিত গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নির্দেশনা পেলে আর কাউকে জেলায় ঢুকতে দেয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন তারা। যারা এসে গেছে সবাইকে যার যার ঘরে থাকার আহ্বান করা হচ্ছে। আর যারা আসেনি তাদের ফুলেল শুভেচ্ছাও জানানো হচ্ছে।

এ নিয়ে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান আমার সংবাদকে বলেন, খবর পাচ্ছি মানুষ ঈদের মতো বাড়ি ফিরছে। প্রতিদিনই মাওয়া ফেরিঘাটে এখন ৩০ হাজার লোক ভিড় জমাচ্ছে।

এটি কোনোভাবেই উচিত নয়। সরকার ছুটি দিয়েছে পজেটিভ উদ্দেশ্য নিয়ে। নিজের ঘরে থাকবে, কোয়ারেন্টাইন মেনে চলবে। তিনি আরও বলেন, দয়া করে যারা চলে এসেছেন বাসা থেকে বের হবেন না। আগামী শুক্রবারসহ ১৫ দিন ছুটি পড়েছে, সবাই নিজ নিজ ঘরে থাকুন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের লোকবল মাঠে রয়েছে, দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি। মাইকিং করে যাচ্ছি। সব ধরনের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার খুবই আফসোস লাগছে, সরকার ছুটি দিয়েছে তাদেরকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কিন্তু তারা শহরে চলে আসতেছে। আমি বলতে চাচ্ছি— এ ছুটি ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়, বেড়ানোর জন্য নয়, বন্ধুদের নিয়ে আড্ডার জন্য নয়, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য।

বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, আমরা চাইবো কেউ যেন ঢাকা থেকে বা অন্য কোনো জায়গা থেকে বরিশালে প্রবেশ না করুক। এ মুহূর্তে অন্য কোনো জায়গা থেকে বরিশালের লোকজন আসুক আমরা চাচ্ছি না। কেউ না আসলে আমি মনে করি বরিশাল সুরক্ষায় থাকবে নিরাপদে থাকবে।

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার আমার সংবাদকে বলেন, সবাই এখন বাড়ি আসছে, যারা আসছে তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। কারণ যারা ছুটি পেয়েছেন আমি তাদের বলবো এ ছুটি ঘোরাফেরা বা কেনাকাটা করার ছুটি নয়।

এ ছুটি যার যার বাড়িঘরে থাকার ছুটি, সচেতনতা ছুটি, ব্যক্তি উদ্যোগে সচেতন হয়ে থাকার।
গাদাগাদি করে ট্রেন ভরে, বাসে করে আসার ছুটি নয়। যারা আসছে এটা খুবই দুঃখজনক।

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে এই শহরের অন্য মানুষদের নিরাপত্তা সুরক্ষা রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বাঙালি জাতি হুজুগের জাতি। আমি এখন অনুরোধ করবো আপনাদের চলাফেরা যেনো সীমিত থাকে।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আমার সংবাদকে বলেন, যারা শহর ছেড়ে গ্রামে ঢুকতেছে আমরা তাদের সতর্ক করতেছি। নারায়ণগঞ্জের বাস-ট্রেন স্টপে আমাদের লোকজন রয়েছে, সচেতনতা চালাচ্ছি।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান আমার সংবাদকে বলেন, যারা বাড়িতে আসছে আমি তাদের নিরুৎসাহিত করছি। আপনারা দয়া করে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন না।

গ্রামটা ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। আপনাদের কয়েকজনের কারণে আমার সুরক্ষিত গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে আশঙ্কার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করেছি।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ আমার সংবাদকে বলেন, গণপরিবহনকে এড়ানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমরা চাই সবাই নিরাপদে থাকুক। আমার শহর ভালো থাকুক। যারা এসে গেছেন ঘরে থাকুন। বাইরে বের হবেন না।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী আমার সংবাদকে বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার যে উদ্দেশ্যে ছুটি দিয়েছে তার অপব্যবহার করা যাবে না।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম এমরান ভূঁইয়া আমার সংবাদকে বলেন, যারা কর্মস্থলে ছুটির পরে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গা ছেড়ে গ্রামে চলে আসছেন, সাধারণ মানুষসহ সবাইকে সচেতন করার জন্য আমরা চট্টগ্রামে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ জনবল দিয়ে সতর্ক করে যাচ্ছি। তারা যেন নিজ উদ্যেগে সুরক্ষিত থাকেন।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় আমার সংবাদকে বলেন, সরকার তো ছুটি দিয়ে কাউকে বারণ করে নাই আসা যাবে না। আসতে পারবে না এমনটি আমরা এখনো নির্দেশনা পাইনি।

যদি সরকার নির্দেশনা দেয় কাউকে শহরে গ্রামে যাওয়া যাবে না তাহলে আমরা কাউকে ঢুকতে দেবো না। তবে আমরা আমাদের জায়গা থেকে সতর্ক করে যাচ্ছি।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় আমার সংবাদকে বলেন, যারা বাড়িতে চলে এসেছেন তারা যাতে কেউ বের না হয় আমাদের সে ব্যাপারে অনুরোধ থাকবে, এসেছেন বাড়িতে থাকবেন। আর যারা আসেননি তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, যারা শহর ছেড়ে, কর্মস্থল ছেড়ে গ্রামে আসছেন এটা কোনোভাবেই ঠিক হচ্ছে না।

জনসংখ্যা জনসমাগম করার জন্য ছুটি দেয়া হয়নি। প্রত্যেককে যার যার অবস্থানে থাকার জন্য ছুটি দেয়া হয়েছে। গ্রামে আসাটা সম্পূর্ণ ভুল হচ্ছে। খুবই ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সবাই।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ