বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল ২০২০

২৫ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

ফারুক আলম

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:১৪

মার্চ ২৫,২০২০, ০৯:১৪

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

গণপরিবহনে ট্রিপ কম, ভাড়া বেশি পণ্যপরিবহনে

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গণপরিবহনে যাত্রী কমায় ট্রিপ কমেছে। তবে পণ্য পরিবহনে ট্রিপ কমলেও ভাড়া বেড়েছে। পর্যটন এলাকায় ভ্রমণের জন্য দেয়া বিভিন্ন বাসের বুকিংও বাতিল করেছেন অনেকে।

পাশাপাশি রাজধানী ও বিভিন্ন জেলার মধ্যে চলাচলরত দূরপাল্লার বাসগুলোতে যাত্রী আসা-যাওয়াও কমেছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম। সেখানে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন খাতে।

পরিবহন মালিকরা বলছেন, সারা দেশে পণ্য পরিবহন কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

সরেজমিন দেখা যায়, করোনা আতঙ্কে ঢাকার রাস্তায় চিরচেনা যানজটের দৃশ্য আর নেই। রাজধানীতে চলাচলরত পরিবহনগুলোতে যাত্রী কমেছে দ্বিগুণেরও বেশি।

বিকল্প হিসেবে তারা মোটরসাইকেল পরিষেবা উবার-পাঠাও,সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা ব্যবহার করছেন। তিন ট্রিপের জায়গায় চার ট্রিপ দিয়েও আগের মতো আয় হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, করোনার আতঙ্ক পরিবহন সেক্টরে খুব বাজে অবস্থা সৃষ্টি করেছে। সব বুকিং গাড়ি পার্টি ক্যানসেল করে দিয়েছে। ২৫-৩০ ভাগ সাধারণ যাত্রী কমে গেছে। যাত্রীরা যাতে ঝুঁকিতে না পড়েন সেজন্য আমরা যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বনের চেষ্টা করছি।

ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর রুটে চলাচলকারী পরিস্থান বাসের চালক আবদুল আজিজ বলেন, ‘সকাল ৬টা থাইক্যা দুইটা ট্রিপ মারতে আগে রাত ১২টা বাইজ্যা যাইতো। করোনার খবর বাইর হইবার পর দেখি রাস্তা খালি। অহন চাইর ট্রিপও দিতে পারতাছি। তারপরও আগের দুই ট্রিপের সমান টাকা উঠতাছে না।’

মোহাম্মদপুর থেকে মতিঝিল-আরামবাগ রুটে চলাচলকারী ‘রাজা সিটি’র চালকের সহকারী রুবেল মিয়া বাসটির ফাঁকা আসন দেখিয়ে বলেন, ‘ছুটির দিন ছাড়া গাড়িতে পা দ্যাওনের জায়গা থাকে না। অহন দ্যাখেন পুরা গাড়ি খালি। মানুষ উঠবার চাইতাছে না। ভয় পায়। আমরাও করোনা ভাইরাসের ভয়ে আছি। কিন্তু পেটের তাগিদে তো গাড়ি না চালাইয়া উপায় নাই।’

অন্যদিকে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির তথ্য বলছে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় পণ্যবাহী গাড়ির চাহিদা কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ভাড়া না পাওয়ায় অলস সময় কাটছে পরিবহন চালক-শ্রমিকদের। লোকসানে পড়েছেন মালিকরা। সবচেয়ে খারাপ দশায় আছেন ঋণগ্রস্ত মালিকরা। গাড়ি না চলায় কিস্তির টাকা পরিশোধে দুশ্চিন্তা বাড়ছে তাদের। আবার কোথাও পণ্য নিয়ে গিয়ে ফিরতে ট্রিপ মিলছে না।

উল্টোপথে কোথাও থেকে পণ্য আনতে গেলে নিয়ে যেতে হচ্ছে খালি গাড়ি। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন মালিকরা। এছাড়া দেখা দিয়েছে চালক সংকটও। অনেক চালকই করোনা ভাইরাস আতঙ্কের কারণে গাড়ি চালাতে চাইছেন না।

মালিক সংগঠনগুলোর হিসাবে, সারা দেশে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা দুই লাখের মতো। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৬০-৭০ হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে থাকে। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর দৈনিক ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল ৪০-৪৫ হাজারে নেমে এসেছে।

গাড়ি চলাচল সবচেয়ে বেশি কমেছে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রামে। করোনা ভাইরাসের কারণে সামনের কয়েকদিনে এ সংখ্যা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক পণ্য পরিবহন মালিক সমিতির অন্যতম শীর্ষ নেতা মকবুল আহমেদ বলেন, আগের তুলনায় গাড়ির চাহিদা এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। চাহিদা কমে যাওয়ার এ হারটি প্রতিদিনই বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল অর্ধেকে নেমে আসবে।

পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক মালিক সায়েদুর রহমান জানান, ট্রাকচালকদের মধ্যে করোনা ভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে চালকরা ভাড়া নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাচ্ছেন না।

কারণ চালকরা মনে করছেন, সীমান্ত দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে মানুষের প্রবেশ ও যাওয়া-আসা বেশি। এতে তাদের করোনার ঝুঁকি বেশি।

তাছাড়া কয়েকদিন ধরে ভারতের সীমান্ত জেলাগুলো দিয়ে পণ্য পরিবহন আগে থেকে কমে আসছে। ফলে চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন চালকরা।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ