বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৪ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

শরিফ রুবেল

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ১২,২০২০, ১০:০৪

এপ্রিল ১২,২০২০, ১০:৫৩

ক্রান্তিকালেও চাল চুরির হিড়িক!

 

*১০ দিনে ২ হাজার ৮৮৭ বস্তা চাল চুরি
*অভিযুক্ত অধিকাংশই স্থানীয় আ.লীগ নেতা
*চাল দিয়ে ছবি তুলে কেড়ে নেয়ার অভিযোগ
*বড়রা চুরি করলে ছোটদের চুরি করা দোষ কি? : জাফরউল্লাহ চৌধুরী
*অনিয়ম করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে: ডা. এনামুর রহমান
*মেম্বার, চেয়ারম্যান দোষী হলে রক্ষা পাবে না: তাজুল ইসলাম

এতো চোরের চোর, পাকিস্তানিরা সব নিয়ে গেছে। কিন্ত শুধুু চোর টুকু রেখে গেছে আমাদের কাছে, কিছু চোর নিয়ে গেলে আমি বাঁচতাম। কিছু দালাল গেছে, এখন কিছু চোর গেলে বাঁচা যেতো।

১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই ভাষণের ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, মুনাফলোভী থেকে মুক্ত হয়নি দেশ। ঘটেনি চরিত্রের পরিবর্তন। এমনটাই মনে করেন সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিশ্বব্যাপী যখন মহামারী নভেল করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ ধাবায় বিপর্যস্ত। তখন সারাদেশে চলছে গরিব দুঃখী মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল চুরির মহাৎসব।

ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠা ও গণপরিবহন চলাচল। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ শ্রমজীবী। সীমাহীন খাদ্য সংকটে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষগুলো।

আর এসব নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা। ব্যবস্থা করা হয়েছে ত্রানের। ঘরবন্দি শ্রমজীবী মানুষ হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এসব কর্মহীনদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা দিতে সরকার চার দফায় ২২ কোটি ১৫ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং ৫৬ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

এছাড়া সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চালও হতদরিদ্রদের দেয়া হচ্ছে। কিন্তু দেশের এই ভয়াবহ বিপর্যয় কালেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় কিছু নেতারা সেই ত্রানের চাল আত্মসাতে লিপ্ত রয়েছে। কিছু এলাকায় ত্রানের চাল গোপনে চুরি করে চড়া দামে বিক্রিও করা হচ্ছে।

এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে চাল তুলি দিয়ে ছবি তুলে সেটা ফেরত নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই সংকটপূর্ণ সময়ে যেখানে সকল জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। যাতে কোন অসহায়, দরিদ্র পরিবার এই ত্রাণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়।

সেখানে অসহায়, হতদরিদ্র পরিবারের চাল চুরি করায় ব্যস্ত রয়েছে তারা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুশিল সামাজের প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গরাও। ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সরকার দলীয় নেতাকে এই অপকর্মের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে দেশব্যাপী জনপ্রতিনিধিদের চাল চুরির বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে সবর মিডিয়াগুলো। গণমাধ্যমের কল্যাণে উঠে এসেছে একের পর এক সরকারি অনুদানের লোপাট ও অপব্যবহারের চিত্র।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। তিরস্কার, তিব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে নেটিজেনরা। এসব অপরাধীদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদানেরও দাবি জানিয়েছে কেউ কেউ।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিকৃয়া জানিয়েছেন দেশের সুশিলরাও। তারা বলেছেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের চাল আত্মসাৎ করে তাদের মধ্যে মনুষত্ব নেই।

দেশ এখন বিপদগ্রস্ত তাই তাদের উচিত স্ব -ইচ্ছায় অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানো। কিন্তু এখন তারাই গরিবের চাল মেরে খাচ্ছে এটা জাতির জন্য অত্যান্ত লজ্জার। এদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান সুশিল সমাজের প্রতিনিধিরা।

জানা যায়, করোনা সংকটে সরকারের দেয়া ত্রানের চাল চুরির ঘটনা দেশের অন্তত ২৩০ স্থানে ঘটেছে। আর এই চুরির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

সারাদেশে ৯ দিনে অন্তত ২ হাজার ২৬৪ বস্তা সরকারি ত্রাণের চাল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৯ দিনের ব্যবধানে এই চাল চুরির ঘটনাগুলো ঘটে।

স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে এ পর্যন্ত বরিশালের পাথরঘাটা উপজেলায় ৫৫০ বস্তা, বগুড়ায় ১০০ বস্তা, নাটোরে ১৩ বস্তা, জয়পুরহাটে ৭ বস্তা, যশোর ৮০ বস্তা, যশোরের মণিরামপুরে ৫৫৫ বস্তা, ঝিকরগাছায় ১ বস্তা, নওগাঁয় ৩৩৮ বস্তা, বাগেরহাটে ১৮ বস্তা, পটুয়াখালীতে ১০ বস্তা, ঝালকাঠিতে ৫০ বস্তা, সিলেটে ১২৫ বস্তা, ময়মনসিংহের ত্রিশালে ১৬ বস্তা, সারিয়াকান্দি উপজেলায় ২৮৮ বস্তা, গাবতলী উপজেলায় ১০০ বস্তা, শেরপুরে ৩৩ বস্তা, নগরকান্দা ১০ বস্তা, চুয়াডাঙ্গা ৬৫ বস্তা,নেত্রকোনা ৯০ বস্তা, সাতক্ষীরায় ৪৩ বস্তা, বগুড়ার শিবগঞ্জ ১৩ বস্তা চাল চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।

অধিকাংশ এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত রয়েছে। এমনকি চুরির অভিযোগেও গ্রেপ্তারও হয়েছেন অনেক।

এদিকে ত্রাণ চুরি রোধে কড়া মেজাজে রয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন থেকে যেসব মেম্বার ও চেয়ারম্যান ত্রাণের চাল চুরির দায়ে অভিযুক্ত হচ্ছেন তাদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এরই মধ্যে তাদের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জানার পাশাপাশি ত্রাণের চাল বিতরণে ইউএনওদের নজরদারি বাড়াতে বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাস মহামারিতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কর্মহীনদের মধ্যে ত্রাণ বিলির কার্যক্রম তদারকি করতে ৫৩ জন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বুদ্ধিজীবী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, এই খারাপ সময়ে চাল চুরি করা অত্যান্ত দুঃখজনক। মেম্বর চেয়ারম্যানদের দিয়ে ত্রান দেয়ালে চুরি হবে স্বাভাবিক।

তাই আমার অনুরোধ গরিবকে যদি সহায়তা করতে হয় তাহলে ত্রানের প্যাকেট করে তাদের বাড়ি গিয়ে পৌছে দিতে হবে। এবং বাড়ি বাড়ি ত্রান পৌছে দেয়ার কাজে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে।

আমাদের দেশে চুরির ঘটনা নতুন নয় বড় বড় নেতারা কোটি কোটি টাকা চুরি করলে ছোট নেতারা সমান্য চাল চুরি করছে এতে দোষে কিছু নয়। বড়রা চুরি করে বলে এখন ছোটদের কিছু বলতে পারছে না।

বড়রা চুরি করলে ছোটদের চুরি করা দোষ কি?
তবে চাল চুরি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে দুর্নীতি বা অনিয়মের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কোন ছাড়া দেয়া হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।

এসব অনিয়মের বিষয়ে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, যেসব মেম্বার, চেয়ারম্যান চাল চুরির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হবেন, তারা রক্ষা পাবেন না। মন্ত্রণালয় থেকে আগেই মেসেজ দেয়া আছে।

নতুন করে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দিয়ে বলা হচ্ছে, কোথাও যেন ত্রাণের চাল লুটপাট না হয় সে বিষয়ে কড়া নজরদারি রাখতে। যারা গরিবের খাবার চুরি করবে তাদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে লেখে পাঠানো হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

মন্ত্রী সিলেটের একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানকার একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি চাল চুরিতে ধরা খাওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এসেছে।

এরপরই সিলেটের প্রশাসনকে মন্ত্রী নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ওই জনপ্রতিনিধির বিষয়ে দ্রুত মন্ত্রণালয়ে লিখে পাঠাতে। যারা অভিযুক্ত হবে তারা কোনোদিনই মাফ পাবে না।

এদিকে ফরিদপুর, মাদারিপুর, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, জামালপুর, রংপুর, শেরপুর, রাজবাড়ী, বগুড়া, বরগুনা, লক্ষিপুর, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, চুয়াডাঙ্গা, গাইবান্ধা, নাটোর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, ভোলা, নোয়াখালি, সিরাজগঞ্জ, চট্রগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, সাতক্ষিরা, জয়পুরহাট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি চাল লোপাট করতে গিয়ে শতাধিক ধরা পড়েছেন, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারাও রয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত চাল চুরির বেশ কয়েকটা ঘটনা তুলে ধরা হলো ,

১.পটুয়াখালী: পটুয়াখালীতে জেলেদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফ এর চাল চুরির মামলায় সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে একই ঘটনায় চাল বিক্রয়কালে চেয়ারম্যানের কাছের লোক মো. জাকির হোসেন ও ব্যবসায়ী সোহাগ নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করে জেলে পাঠায় পুলিশ।

সদর থানা পুলিশ জানায়, ৩০ মার্চ রাতে সদর উপজেলার কমলাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন তার লোকজন দিয়ে জেলেদের মাঝে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ এর চাল অন্যত্র বিক্রয়ের প্রস্তুতি নেয়।

স্থানীয়দের দেয়া সংবাদের ভিত্তিতে ১০ বস্তা চাল বিক্রয়কালে পুলিশ হাতে নাতে বশির শিকদার ও সোহাগকে আটক করে জেলে পাঠায়।

পরে এ ঘটনায় চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়। এ মামলার প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২.ঝালকাঠি: ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা মেম্বরস ফোরামের সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান মনিরের বাসা থেকে মজুদকরা ত্রাণের আড়াই টন চাল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি আহমেদ হাসান অভিযান চালিয়ে এ চাল জব্দ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে যায় ইউপি সদস্য মনির।

চালগুলো করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। রাতে সরকারি বস্তা থেকে চাল বের করে অন্য বস্তায় ভরা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে দিকে প্রশাসনকে জানালে এ অভিযান চালানো হয়।

৩.ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের সরকারি নিবন্ধিত জেলেদের নামে বরাদ্দকৃত চাল ৪০ কেজি করে বিতরণের অনিয়ম ও রাতের আধাঁরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সাংবাদিক সাগর চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজীকে জানায়।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ছোটে ছেলে নাবিল তাকে সকালে ফোন করে জরুরী কথা আছে বলে বোরহানউদ্দিনের রাজমনি সিনেমা হলের সামনে আসতে বলে। পরে সাগর আসলেই নাবিল তার শার্টের কলার ধরে মারধর করে এবং বলে সাগর তার মোবাইল চুরির করার চেষ্টা করছে।

৪.বরগুনা: বরগুনায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যানের নাম আলাউদ্দিন পল্টু।

তিনি জেলার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪৪ মেট্রিকটন চালের মধ্যে ২৭ মেট্রিকটন চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

৫.নোয়াখালি : নোয়াখালী সদরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের ঘটনায় আন্ডারচর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মোছলেহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

৬.চট্রগ্রাম : চট্রগ্রামে ত্রাণ দেওয়ার ছবি তোলার পর ২৬টি পরিবারের কাছ থেকে তা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এর প্রতিবাদ করতে গিয়ে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন অসহায় পরিবারগুলো। মারধরের শিকার পরিবারগুলো এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছারকে।

৭. জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে অবৈধভাবে বিক্রি ও সরবরাহের অভিযোগে সাত বস্তা ওএমএস এর চালসহ আওয়মী লীগ নেতা ও তার শ্যালককে হাতে নাতে আটক করেছে র‌্যাব।

মঙ্গলবার বিকেলে আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। তারা হলেন, গোপীনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সাইদুর ও তার শ্যালক আনোয়ার হোসেন।

৮. যশোর: যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকার একটি গুদাম থেকে ৪ হাজার কেজি সরকারি চাল উদ্ধার করেছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি টিম। এসময় দুই কালোবাজারিকেও আটক করা হয়েছে।

আটকৃতরা হলো-রাকিব হাসান শাওন বাঘারপাড়া উপজেলার প্রেমচারা গ্রামের বাসিন্দা ও হাসিবুল হাসান যশোর শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের বাসিন্দা। অন্য সংশ্লিষ্টদের ‘নাম বের করা যায়নি।

৯. নাটোর: নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ত্রাণের ১৩ বস্তা চালসহ ৬নং ওয়ার্ড সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন শাহ্সহ তিনজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু জানান, চাল ব্যবসায়ী গোলাম মওলা ত্রাণের চাল কিনে নিয়ে যাওয়ার পথে বোয়ালিয়া এলাকায় আট বস্তা চালসহ স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েন। পরে তারা প্রশাসনকে ঘটনাটি জানান।

১০. বগুড়া: বগুড়ার গাবতলী ও সারিয়াকান্দি উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই সভাপতির বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজির হত দরিদ্রদের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়া বগুড়ায় হত দরিদ্রদের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মহিষাবান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ওয়াজেদ হোসেন ও কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজিউল হকের বিরুদ্ধে।

১১. গাইবান্ধা: গাইবান্ধার দুটি জায়গায় ১০ টাকার ২০ বস্তা চাল উদ্ধার । এছাড়া গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দশ টাকা কেজি দরের ২০ বস্তা চাল পাচারের সময় উদ্ধার করেছে প্রশাসন।

১২. সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ন্যায্যমূল্যের ১০ টাকা কেজির ৬৫ বস্তা চাল জব্দ করেছে পুলিশ। এছাড়া, চাল কালোবাজারের বিক্রির চেষ্টায় ডিলারের ছেলেসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন-রায়গঞ্জের ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের ডিলার নুর ইসলামের ছেলে মোজাফ্ফর হোসেন এবং তার সহযোগী হাচিল গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম ও তার সহোদর শহিদুল ইসলাম।

১৩.মাদারিপুর : মাদারীপুরের শিবচরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুতকরা ৬৮ বস্তা চাল জব্দ করে প্রশাসন। এতে জড়িত আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে ছাত্রলীগের বাঁশকান্দি ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য।

১৪. ময়মনসিংহ: ময়মনসিংগের ত্রিশালে ডিলার আব্দুল খালেক, সুনামগঞ্জে ব্যবসায়ী শওকত আলী ও ডিলার বিপ্লব সরকার, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তিনজন এবং শফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম, রংপুরে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছেন একই ধরণের অভিযোগে। নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি রাইস মিল থেকে একশ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার। আর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সরকারি গুদামে অবৈধভাবে চাল মজুদ করার অভিযোগে একজন আটক হয়েছেন।

১৫. ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় হতদরিদ্র্যের ১০ টাকা কেজির ৬৩০ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় দুইজনকে আটকসহ পাঁচটি গোডাউন সিলগালা করা হয়। অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম এমরুল ১০ টাকা কেজি চালের ডিলার ও তার স্ত্রী কুলসুম আক্তার বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। তার আরেক ভাই মোমিনুল ইসলাম ভাষানিও ১০ টাকা কেজি চালের ডিলার এবং তিনি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

১৬. কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে সরকারের ১০ টাকা কেজির ৬০ বস্তা চাল পাচারের সময় ডিলারসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।আটক চালের ডিলার গোলাম মস্তোফা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।

১৭. পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় হতদরিদ্র পরিবারের ১০ টাকা কেজি দরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও কালো বাজারে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে ওই কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়ম ও কালো বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে তিনি ওই গুদামে অভিযান চালান। সেখান থেকে ২৬ বস্তা চাল উদ্ধার করেন।

১৮. ফরিদপুর : ফরিদপুরে অতি দ্ররিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি (ওএমএস) এর ২৩ বস্তা চাল জব্দ করেছে পুলিশ। ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর বাজারের কাছে একটি ভ্যান বোঝাই করে নিয়ে যাওয়ার সময় আট বস্তা চাল আটক করে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ তা জব্দ করে।

১৯. রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জের গুর্জিপাড়া বাজার থেকে গত বুধবার রাত ১২টার দিকে ভেন্ডাবাড়ী পুলিশ ৫০ কেজির ৯০ বস্তা খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারকালে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তাররা হলেন, মিঠাপুকুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের জমশেদ আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩০), পীরগঞ্জ উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী গ্রামের ছাইফুল ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৩) ও মহেশপুর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে রিয়াদ হোসেন (১৮)।

২০. জামালপুর :জামালপুরের সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিয়ারা পলাশতলা এলাকায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার গুদাম থেকে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৩৭ বস্তা চাল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে তিনি দাবি করেন, এই চাল তাঁর নয়। তাঁর কাছ থেকে এই দোকান ভাড়া নিয়ে আরেকজন গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই নেতার নাম হাবিবুর রহমান। তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি জামালপুর জেলা পরিষদের সদস্যও।

২১. চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় চাল পাচারের অভিযোগে জনতার হাতে রিকাত আলী নামে স্থানীয় ইউপি সদস্য আটক হয়েছে। উপজেলার লোকনাথপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ডিলারের গোডাউনের ৬৫ বস্তা চালসহ চাবি ও মাস্টাররোল জব্দ করা হয়।

২২. শেরপুর: শেরপুরে ৩৩ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে।সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের পোড়ার দোকান এলাকায় চৌকিদার জহুরুল হকের বাড়ি থেকে এ চাল উদ্ধার করা হয়। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুন জানান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় মামুন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

২২. লক্ষীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুরে চাল কালোবাজারে বিক্রি করে হাতেনাতে ধরা পড়েন আবুল কাশেম নামের এক ডিলার। ঘটনাটি ঘটে চন্ডিপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্ডিপুর অহিদ ডাক্তারের পোলের গোড়াসংলগ্ন দর্জিবাড়িতে।

২৩. কুমিল্লা: কুমিল্লার দেবিদ্বারে দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বড়ভাই আবদুস কুদ্দুস সরকারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। ওই ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান মোল্লাকে আটক করা হয়েছে।

২৪. নেত্রকোনা: নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে স্থানীয় ওএমএসের ডিলার আমিনুর রহমান শাকিলের বরাদ্দ ৯০ বস্তা চাল ভাঙ্গারির দোকান থেকে জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী সাইফুল মিয়াকে আটক করা হয়। শুক্রবার রোয়াইলবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

২৫. সাতক্ষীরা : সাতক্ষিরার আশাশুনিতে সরকারের খাদ্যবান্ধবের এক হাজার ২৭০ কেজি চাল (৪২ বস্তা) কালো বাজারে বিক্রির অভিযোগে ডিলার মুজিবর সানাকে আটক করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার আশাশুনির বড়দল বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

আমারসংবাদ/এসআর/এআই