মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

মাহমুদুল হাসান

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ০২,২০২০, ০৯:৫০

জুলাই ০২,২০২০, ০৯:৫০

মুজিববর্ষের বিশেষ সেবা কার্যক্রম

আলোর মুখ দেখেনি স্বাস্থ্য খাতের কর্মসূচি

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে দেশের সব খাতে বিশেষ সেবার ঘোষণা এসেছিল। পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল স্বাস্থ্যসেবা খাতেও। ঘোষণা ছিলো মুজিববর্ষের প্রতিমাসে বিশেষ বিশেষ সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

 প্রতিমাসে সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিশেষ কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছিল। এসব সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার প্রত্যয়ও ছিলো। গত জানুয়ারিতে এসব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

সম্প্রতি করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ২৫৮ জন।

এর মধ্যে এক হাজার ৮৮৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৈশ্বিক এই মহামারি মোকাবিলায় কাজের চাপে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, মাতৃ স্বাস্থ্য, নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশুসুরক্ষা, পুষ্টিসুরক্ষা এবং সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের মতো মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও
এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, করোনায় পরিকল্পনাটি একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েনি। প্রযুক্তির সহায়তায় শহর থেকে প্রান্তিকে এসব বিশেষ সেবা অব্যাহত রয়েছে।  সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য মতে, দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় টেলিমেডিসিন সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য বাতায়ন, আইইডিসিআরের হটলাইন ও ৩৩৩-তে এ পর্যন্ত এক কোটি ৪১ লাখ দুই হাজার ৬৮১ জনকে টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। এ কাজে নিয়জিত রয়েছেন চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, মুজিববর্ষ ঘোষিত বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মধ্যে ছিলো, মার্চে যক্ষ্মা প্রতিরোধ ও সেবা মাস। এপ্রিলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং সেবা মাস, মে মাসে নিরাপদ মাতৃত্ব, শিশু, কৈশোর ও মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা মাস পালন করার কথা ছিলো। জুনে দেশজ চিকিৎসা প্রচারণা ও সেবা মাস পালন করার কথা। জুলাইয়ে পুষ্টিসেবা ও সচেতনতা মাস, আগস্টে জনসম্পৃক্ত ও জনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা মাস পালিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্যসেবায় রোগী নিরাপত্তা উন্নয়ন মাস, অক্টোবরে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সেবা মাস, নভেম্বরে অসংক্রামক রোগ সচেতনতা ও সেবা মাস এবং ডিসেম্বরে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রচারণা মাস পালিত হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।

এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা মাস, ফেব্রুয়ারিতে ভাইরাল হেপাটাইটিস সচেতনতা ও সেবা মাস এবং মার্চের ১৭ তারিখ পর্যন্ত মুজিববর্ষের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করার কথা রয়েছে। কিন্তু সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় এসব পরিকল্পনা স্থবির হয়ে আছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ও করোনাকালে গঠিত তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণযোগাযোগ ও কমিউনিটি মবিলাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, মুজিববর্ষে ঘোষিত বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম স্থবির হয়নি। টেলিমেডিসিন ও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। এখনো চলমান আছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সদ্য বদলি হওয়া অতিরিক্ত সচিব এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত মিডিয়া সেলের সাবেক প্রধান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, করোনায় কিছুটা তো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে।

আমারসংবাদ/এআই