মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

রফিকুল ইসলাম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ০৩,২০২০, ০৩:২০

জুলাই ০৩,২০২০, ০৩:২০

পদপ্রত্যাশীদের মূল্যায়ন করবে আ.লীগ

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, মৎস্যজীবীলীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগের সম্মেলনের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। একই অবস্থা ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের। ফলে অনেকটা হতাশা ও পরিচয়হীনভাবে সময় কাটাচ্ছে নতুন পদ-প্রত্যাশীরা।

এদিকে করোনাকালীন সময়ে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন এমন পদপ্রত্যাশী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন ক্ষমতাসীন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য করোনাকালে মাঠের কার্যক্রম মনিটরিং করছেন তিনি। দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতারা আমার সংবাদকে এমটাই নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক, শ্রমিক ও মৎস্যজীবীলীগের কমিটি প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেয়া হয়েছে। এই তালিকায় থাকা সকল নেতারা করোনা কালীন সময়ে কে কী করছে, সেগুলোর মূল্যায়ন করা হবে। ফলে তালিকায় নাম থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাদ পড়তে পারেন করোনায় নিষ্ক্রিয় নেতারা।

কৃষকলীগের সভাপতি সমীর চন্দ্র আমার সংবাদকে বলেন, আমরা কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু তালিকায় নাম থাকা অনেক নেতা আছে, যারা করোনায় এ বিপদময় মুহূর্তে নিষ্ক্রিয় রয়েছে। কমিটিচূড়ান্ত ঘোষণার আগে নেত্রী আমাদের সুযোগ দিলে নিষ্ক্রিয় নেতাদের ব্যবস্থা নেয়া হবে।  

কমিটিতে থাকা সকলের কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে জানিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ আমার সংবাদকে বলেন, করোনা একটি অদৃশ্য শক্তি। এই শক্তি মোকাবিলায় আমাদের সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তারপরও কিছু কিছু নেতা বিভিন্ন কারণে কাজ করছে না। তাদের বিভিন্নভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। যে কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তথ্যমতে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের মধ্যদিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। ক্ষমতায় আশার পর দলটির সহযোগী সংগঠনের বেশকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে।

এমন অবস্থায় সরকার প্রধানের নির্দেশনায় দল ও দলের বাইরে শুদ্ধি অভিযান শুরু করে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেপ্তার হন বেশকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। একই সাথে দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের নভেম্বরে পর্যায়ক্রমে কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, যুবলীগ ও মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনের মধ্যদিয়ে বিতর্কমুক্ত নতুন সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন তিনি। এসময় যাচাই-বাছাই করে বিতর্কমুক্ত, ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরীক্ষিত নেতাদের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য নতুন সভাপতি-সম্পাদককে নির্দেশনা দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

সভানেত্রীর নির্দেশনার পর সংগঠনের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের রাজনৈতিক কর্মকৌশল নানাভাবে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রস্তুত করে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা দেন স্বেচ্ছাসেবক, কৃষক, শ্রমিক ও মৎস্যজীবীলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।

এমন অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই বাংলাদেশে আঘাত করে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটি মোকাবিলায়  কঠোর পরিশ্রম করছেন আওয়ামী লীগ ও দলটির সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ফলে সম্মেলনের সাত মাস পেরিয়ে গেলেও সংগঠনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হচ্ছে না।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যুবলীগের ১৫১, স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১৫১, কৃষকলীগের ১১১, মৎস্যজীবীলীগের ১১১, জাতীয় শ্রমিকলীগের ৩৫, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। দীর্ঘ সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় পূর্ব ঘোষিত নেতাদের বাদে পদ খালি রয়েছে ৭৪২টি।

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জানিয়েছেন, যুবলীগ বাদে প্রতিটি সংগঠন কমিটির খসড়া করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছেন। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই তা প্রকাশ করা হবে। পদপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দলীয় সূত্রে, দীর্ঘ সাত মাসেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে সংগঠনগুলোর পদপ্রত্যাশীদের নেতাদের মাঝে। কেউ কেউ পরিচয় সংকটের কারণে করোনার সময়ও দলীয় অনুষ্ঠানের উপস্থিত হচ্ছে না। আবার কেউ উপস্থিত থাকলেও দায়সারা ভাব দেখাচ্ছেন।

যে কারণে করোনায় এ মুহূর্তে মাঠের রাজনীতিতে সংগঠনগুলোর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্ভর হয়ে উঠেছে। সভাপতি-সম্পাদকের বাইরে কারো ইচ্ছে থাকলেও করোনায় নিজ উদ্যোগে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারছে না।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটির পাঁচ শতাধিক পদ খালি থাকায় তৃণমূলেও সংগঠন চাঙ্গা হচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রের পাশাপাশি তৃণমূলেও ধীরে ধীরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই দূরত্ব সময়ের মধ্যই পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা চান পদপ্রত্যাশীরা।

জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল আমার সংবাদকে বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় পাশাপাশি বিতর্কমুক্ত নেতাদের নিয়ে কমিটি গঠনের জন্য আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আশা করি অল্পকিছু দিনের মধ্য কমিটির কার্যক্রম শেষ হবে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কমিটি গঠনের কাজে পিছিয়ে রয়েছে জানিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, করোনার কারণে কমিটি গঠনের কার্যক্রম একটু পিছিয়ে রয়েছি। আশা করি এ দুযোগ শেষেই কমিটির কাজ শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, এ দুর্যোগে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন তাদের কমিটিতে মূল্যায়ন করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএম কামাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, মূল দল ও সহযোগী সংগঠনের যে সকল নেতারা দেশের এ দুসময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্নভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে।

আমারসংবাদ/এআই