শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০

১৯ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

স্পোর্টস ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ০৩:৫৫

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ০৪:৪০

মুশফিকের ডাবল শতকের পর ইনিংস ঘোষণা

 

তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ার খানিক পর ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ডাবল সেঞ্চুরিতে পৌঁছালেন মুশফিকুর রহিম।বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান তিনি। সর্বাধিক ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও বটে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এদিন অসাধারণ ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন এ ব্যাটসম্যান। আর তাতে তামিম ইকবালকে ছাড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের চূড়ায় পৌঁছেছেন এ ব্যাটসম্যান।

এদিন শুরু থেকেই দারুণ ব্যাট করতে থাকেন মুশফিক। আগের দিনের ৩২ রান নিয়ে খেলতে নেমে সকালে ৯৫ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন। এরপর ১৬০ বলে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে।

আর ডাবল সেঞ্চুরির পথে ৩১৫টি বল মোকাবেলা করেন দেশ সেরা এ ব্যাটসম্যান। সময়ের হিসেবে ৪৩৪ মিনিট মাঠে ছিলেন তিনি। আর নিজের এ ইনিংসটি ২৮টি চারের সাহায্যে সাজিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ২০৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন মুশফিক।

এ ম্যাচে নামার আগে তামিম ইকবালের চেয়ে ১৬৪ রানে পিছিয়ে ছিলেন মুশফিক। এ ইনিংসে ৪১ রান করে ব্যবধান ১৯৫ রানে বাড়ান তামিম। তবে ডাবল সেঞ্চুরি করেই তামিমকে টপকে যান মুশফিক।

সিকান্দার রাজার বলে সাফল করে সিঙ্গেল নিয়ে তামিমকে ছাড়ান। এর দুই ওভার পর সেই রাজার বলে কাট করে পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবলের দেখা পান লিটল মাস্টার।

টেস্টে এখন মুশফিকের সংগ্রহ ৪৪১৩ রান। ৭০ ম্যাচে ১৩০টি ইনিংস খেলে এ রান করেছেন তিনি। সেঞ্চুরি মোট ৭টি। হাফসেঞ্চুরি আছে ২১টি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা তামিমের সংগ্রহ ১১৫ ইনিংসে ৪৪০৫ রান।

ভারত সফরের আগেই গ্লাভস ছেড়েছিলেন মুশফিক। এরপর তার ছন্দটা যেন তখন আরও বেড়ে যায়। ভারতে সব ব্যাটসম্যানই যখন হিমশিম খাচ্ছিলেন সেখানে একাই প্রতিরোধ গড়েছিলেন। দুই টেস্টেই পেয়েছিলেন ফিফটির দেখা। এরপর মিরপুরে এদিন তো অনন্য মাইলফলকেই পৌঁছান। দায়িত্ব কমায় যে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে পারছেন তার প্রমাণ রাখছেন মুশফিক।

এর আগে ২০১৩ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিটি করেছিলেন মুশফিক। এরপর অবশ্য সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালও ডাবল হাঁকিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের ছাপিয়ে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ২০১৮ সালের নভেম্বরে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি করেন মুশফিক।

দ্বিতীয় দিনের ছন্দে এবং গতিতে সোমবার সকালেও প্রথম ইনিংসে দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক শুরু করেন। অধিনায়ক মুমিনুল হক তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি।

এরপর ফিরে যান তিনি। তবে পাকিস্তান সফরে না যাওয়া মুশফিক দুইশ’ তুলে নিয়ে খেলছেন। তার ব্যাটে তিনশ’ ছোঁয়া লিডের আশায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পাঁচ ডাবল সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটিই নিজের নামে লিখিয়েছেন মুশফিক। এর আগে সর্বশেষ এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেই ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক।

এর আগে রোববার দিন শেষে ৭৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল হক। মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৩২ রান করে। সোমবার ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের প্রথম সেশনেই সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মুমিনুল। দ্বিতীয় সেশনে সেঞ্চুরি হয় মুশফিকুর রহিমের।

মুশফিকের সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়ে ফিরে যান অধিনায়ক মুমিনুল হক। দলীয় ৩৯৪ রানে বোলারের হাতে ক্যাচ হন তিনি। ফেরার আগে তিনি করেন ১৩২ রান। টেস্টে এটি তার নবম সেঞ্চুরি। পরে মিথুন নেমে ১৭ রান করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ হয়ে ফিরে গেছেন। রিভিউ নিয়েও তিনি বাঁচতে পারেননি।

গত শনিবার মিরপুরে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার সিরিজের একমাত্র টেস্ট ম্যাচ। প্রথম দিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ২২৮ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছিল জিম্বাবুয়ে।

পরের দিন আবার তারা ব্যাটিংয়ে নামে। ২৬৫ রান করে অলআউট হয় তারা। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। ১০৭ রান করে আউট হন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে আবু জায়েদ রাহি ৪টি, নাঈম হাসান ৪টি ও তাইজুল ইসলাম ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

রোববার দিনের প্রথম সেশনেই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। এদিন ৩ উইকেটে ২৪০ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করে টাইগাররা। ৭১ রান করে আউট হয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। দিন শেষে ৭৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুমিনুল হক। মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৩২ রান করে।

আমারসংবাদ/এমএআই