শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০

১৯ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ০৫:১৯

ফেব্রুয়ারি ২৪,২০২০, ০৫:১৯

মুশফিক-মুমিনুল জাদুতে জয়ের মঞ্চ তৈরি

মিরপুর টেস্ট জিততে আর ৮ উইকেট চাই বাংলাদেশের। স্বাগতিকদের আবার ব্যাট করাতে জিম্বাবুয়ের চাই আরও ২৮৬ রান। ২৯৫ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা সফরকারীরা তৃতীয় দিন শেষ বেলায় প্রথম ওভারেই হারায় ২ উইকেট।

বাকি সময়টা নিরাপদে কাটিয়ে দিয়েছেন কেভিন কাসুজা ও ব্রেন্ডন টেইলর। ২ উইকেটে ৯ রানে দিন শেষ করেছে জিম্বাবুয়ে। কাসুজা ৮ ও টেইলর ১ রানে ব্যাট করছেন। মিরপুর টেস্টে জয়ের পথে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

এর আগে লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ৮৬ রানে। চা বিরতিতে সেই লিড পৌছায় ১৭৭ রানে। আর তৃতীয়দিনের খেলা শেষের আধঘন্টা আগে ৬ উইকেটে ৫৬০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৬৫ রান।

বিয়োগফল জানাচ্ছে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ২৯৫ রানে। দিনের শেষবেলায় ব্যাট করতে নেমেই চরম বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে। প্রথম ওভারেই হারায় তারা দুই উইকেট।

স্পিনার নাঈম হাসান তার প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে উইকেট পান। শুরুর সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি কোনমতে সামাল দেন ওপেনার কাসুজা ও ব্রেন্ডন টেলর। ২ উইকেটে ৯ রান তুলে দিন শেষ করে জিম্বাবুয়ে। ইনিংস হার এড়াতে হলে জিম্বাবুয়ের এখনো করতে হবে ২৮৬ রান।

নিঃসন্দেহে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছে জিম্বাবুয়ে। বৃষ্টি এসে বাগড়া না বসালে এই টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। জয়ের এই মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছেন মুশফিক ও মুমিনুল। ঢাকা টেস্টে দুইজনেই তৃতীয়দিনের সেঞ্চুরিয়ান। মুমিনুলের ব্যাট হাসল ১৩২ রানে। আর মুশফিক অপরাজিতই রইলেন ২০৩ রান তুলে।

ডানহাতি মুশফিক ডাবল ছুঁয়েছেন ৩১৫ বলে। ২৮টি চারের মার আছে ইনিংসে। লাঞ্চ থেকে ফিরে তুলেছিলেন সেঞ্চুরি। এইন্সলের বল বাউন্ডারিতে ঠেলে শতক তুলেছিলেন ১৮ চারে ১৬০ বলে, একই বোলারকে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দ্বিশতক ছুঁয়েছেন।

দিনের আরেক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হকের (১৩২) সঙ্গে ২২৪ রানের জুটি গড়ার পর লিটন দাসকে (৫৩) নিয়ে ১১১ রানের কার্যকরী আরেকটি জুটি গড়েছেন মুশি। মুশফিক প্রথম ডাবলের দেখা পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কায়।

গল টেস্টে ২০১৩ সালে ফিরেছিলেন ঠিক ২০০ করে। পরে ২০১৮ সালে এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই মিরপুরে অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস উপহার দেন। সোমবার তাকে ২০৩ রানে রেখে সাজঘরে ডেকে নিলেন অধিনায়ক।

শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে মুমিনুলের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে যৌথ প্রযোজনায় ২২৪ রান যোগ করেছেন মুশফিক। পথে জুটির রেকর্ডে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসকে ছাড়িয়ে গেছেন দুজনে।

টেস্টে দুটি করে দুইশ রানের জুটি ছিল তামিম-ইমরুল ও মুমিনুল-মুশফিকের। বাকি দুজনকে ছাড়িয়ে গেছেন মুমিনুল ও মুশফিক। তাদের পাশে এখন তিনটি করে দুইশ রানের জুটি। আর সাদা পোশাকে দশমবারের মতো দুইশ বা তারচেয়ে বড় জুটি দেখল বাংলাদেশ।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে দেড়শ ছড়ানো সবচেয়ে বেশি ৪টি ইনিংস এখন মুশফিকের। দলের চারটি ডাবল সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটিরই মালিকই তিনি। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ অপরাজিত ২১৯ রানের কৃতিত্বও তারই। টেস্টে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৪১৩ রানের নতুন মালিকও এখন মুশফিক।

সাম্প্রতিক সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পারফরমেন্স তেমন ভালকিছু নয়। তবে দলীয় সেই মন্দের মধ্যে ব্যক্তিগত সাফল্যের নিরিখে নিজেকে ঠিকই আলাদা করে চিনিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। এই টেস্টে তার ২০৩ রানের অপরাজিত ইনিংসের অন্যনাম- নিরাপদ ব্যাটিংয়ের নমুনা।

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস: ১০৬.৩ ওভারে ২৬৫

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১৫৪ ওভারে ৫৬০/৬ (ইনিংস ঘোষণা )

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: ৫ ওভারে ৯/২

আমারসংবাদ/এমএআই