শুক্রবার ০৫ জুন ২০২০

২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২৯,২০২০, ০৪:০১

ফেব্রুয়ারি ২৯,২০২০, ০৪:০১

ক্ষিপ্ত মাশরাফি বললেন আমি কি চোর?

রোববার (১ মার্চ) থেকে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। তার আগের দিন (২৯ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সিরিজ ও মাঠের বাইরের প্রসঙ্গেই বেশি উত্তর দিতে হয়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে।

ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর গেল কয়েক মাস ধরে মাশরাফির অবসর বিতর্ক, বাজে ফর্ম আর খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে বিস্তর কথা হচ্ছে। এসব সমালোচনা কি বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম অধিনায়কের আত্মসম্মানেও লাগে? প্রশ্নকর্তা সম্ভবত জিজ্ঞেস করতে চেয়েছিলেন এমন কিছু।

তবে প্রশ্ন শুনে খানিকক্ষণ স্থির থেকে, চোয়াল কঠিন করে মাশরাফির উত্তর, ‘আত্মসম্মান বা লজ্জা, আমি কি চুরি করি মাঠে? আমি কি চোর? খেলার সঙ্গে লজ্জা, আত্মসম্মান– আমি মেলাতে পারি না (এসব প্রসঙ্গ)। এত জায়গায় এতো চুরি-চামারি হচ্ছে, তাদের কোনো লজ্জা নেই।

উইকেট আমি না-ই পেতে পারি। আমার সমালোচনা আপনারা করবেন, সমর্থকরা করবে। লজ্জা পেতে হবে কেন? আমি কি বাংলাদেশের হয়ে খেলছি না-কি অন্য কোনো দেশের হয়ে খেলছি যে আমার লজ্জা পেতে হবে? আমি পারিনি, আমাকে বাদ দিয়ে দিবেন। জিনিসটা তো সাধারণ।’

পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক, তবে পারফর্ম না করতে পারলে লজ্জা বা আত্মসম্মান মিশিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান মাশরাফি, ‘এখন কথা হচ্ছে, আমার লজ্জা-আত্মসম্মানবোধ আমি কার সঙ্গে দেখাতে যাব? আমি তো বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নেমেছি।

আমি কি বাংলাদেশের মানুষের বিপক্ষের কেউ? যে কেউই পারফর্ম না-ই করতে পারে, তার কোনো জায়গায় কমতি থাকলে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। খারাপ করলে সমালোচনা হবে, এটা সারা বিশ্বেই হচ্ছে।

কিন্ত কথাটা যখন আসে লজ্জা-আত্মসম্মানে, তখন আমার প্রশ্ন থাকে। আমার সমালোচনা করুক, কিন্তু আমার আত্মসম্মানবোধের প্রশ্ন আসছে কেন? আমি কি অন্য দেশের হয়ে খেলছি? তা তো না। সুতরাং এই জিনিসটার সঙ্গে আমি মোটেও একমত না।’

এদিকে কিছুদিন আগে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘মাশরাফি এই (সিরিজে থাকছে অবশ্যই। যদি ফিট থাকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সে খেলবে। তবে খুব দ্রুতই আমরা একটা সিদ্ধান্ত নেব।

আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল ও অধিনায়ক দুই বছর আগেই করে ফেলব। খুব বেশি সময় নেই আমাদের হাতে। খুব দ্রুত করে ফেলব। আমার মনে হয় এক মাসের মধ্যে এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারব। এই সিরিজ পর্যন্ত অপেক্ষা করছি, এরপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মাশরাফির অবসরের ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘অবসরের সিদ্ধান্ত একজন খেলোয়াড়ের একেবারেই ব্যক্তিগত। মাশরাফি ভবিষ্যতেও খেলতে পারে। আমরা দলের অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবছি। যদি অন্য কাউকে অধিনায়ক ঘোষণা করা হয়, তখন খেলোয়াড় হিসেবে সে থাকতেও পারে। এতে কারো বাধা নেই।’

আমারসংবাদ/এমএআই