বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

ফেব্রুয়ারি ১৬,২০২০, ১১:২৬

ফেব্রুয়ারি ১৬,২০২০, ১১:৫৩

বাড়ছে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ সাহস জোগাচ্ছে বিনিয়োগের

দীর্ঘদিন ধরেই একটা অস্থিরতা, চরম অনিশ্চয়তা এবং টানা দরপতনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলো দেশের পুঁজিবাজার। তার চেয়ে বড় সংকট ছিলো এ বাজারে বিনিয়োগকারীর আস্থা এবং বিনিয়োজিত মূলধনের ঘাটতি। কিছুতেই যখন কিছু হচ্ছিলো না, ঠিক সেই মুহূর্তেই যেন একটা কাণ্ডারির ভূমিকায় হাজির হলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে নেয়া হলো এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। যে উদ্যোগের মধ্যদিয়ে তলানীতে থাকা পুঁজিবাজারকে টেনে তুলতে যে পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ দরকার তার তহবিল জোগানে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ তৈরি হয়।

সময়োচিত এই উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক শুধু পরিকল্পনাতেই থেমে থাকেনি, বরং সর্বজনীন বাস্তবায়নের বিষয়েও সুদূরপ্রসারী দূরদৃষ্টি নজর রাখা হয়েছে। কেউ মানলো কেউ মানলো না- এমন প্রবণতা এড়াতে গত সোমবার সবার জন্য নির্দেশনামূলক একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সকল ব্যাংককে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয়া হয়।

এর ফলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য দেশে প্রচলিত সবকটি ব্যাংক নিজস্বভাবে ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। যার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সৃষ্ট নগদ অর্থের সংকট বা মূলধন ঘাটতি দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনও (বিএমবিএ)।

তারা গতকাল শনিবার এ সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বলেছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে ২০০ কোটি টাকা করে বিশেষ তহবিল গঠনের যে সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক তৈরি করে দিয়েছে তা নিঃসন্দেহে পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং নতুন করে বিনিয়োগের সাহস জোগাচ্ছে।


রাজধানীর বিজয়নগরের এক হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান ছাড়াও সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ মতিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনিরুজ্জামান, নির্বাহী সদস্য মাহবুব এইচ মজুমদার, নুর আহামেদ, মো. হামদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান জানান, সম্প্রতি বিএমবিএ প্রতিনিধিদের নেতৃত্বে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল সরকারের কাছে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য একটি তহবিল গঠনের আবেদন করেছিলেন। মূলত তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ করে দিয়ে পুঁজিবাজারের এই খারাপ সময় কাটিয়ে তুলতে কাণ্ডারির ভূমিকায় হাজির হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য প্রত্যেক ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারবে। নিজস্ব উৎস অথবা ট্রেজারি বিল বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে ব্যাংকগুলো, যা পরিশোধে সময় পাবে পাঁচ বছর। আর ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে ঋণ দিতে পারবে।

বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর বলেন, আমরা সবাই অবহিত রয়েছি যে, দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজার অনুকূল ছিলো না। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে বোঝা যায়, বাজারে অর্থের জোগান কম ছিলো। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাজার মধ্যস্থতাকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের সুযোগের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। কোনো প্রকার দান বা ভর্তুকির প্রস্তাব করিনি।

তিনি বলেন, সমপ্রতি অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজার উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। যার প্রেক্ষিতে পুঁজিবাজার উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক এই যুগান্তকারী নীতি সহায়তার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত এই তহবিল নিয়ে একটা মহলের অপপ্রচারের অভিযোগও তুলেন।

বিএমবিএ সভাপতি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বস্তুনিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না। ফলে কিছু ক্ষেত্রে ভুল ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনা হচ্ছে। যা বিনিয়োগকারী তথা অংশীজনের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পারে।

তিনি দাবি করেন, এটি (বিশেষ তহবিল) নিয়ে অপপ্রচারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বলেন, দু-একজন ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে- এটা ব্যাংকের ওপর একটা বার্ডেন (বোঝা)।

কেউ বলছেন, এটা ট্যাক্সের টাকা। কিন্তু বিএমবিএর পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, এর কোনোটাই সত্য নয়। এটা মোটেও ব্যাংকের জন্য বার্ডেন নয়। এটা ট্যাক্সের টাকাও নয়।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয়টি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- ১. পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা ২. মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা ব্যবস্থা করা ৩. আইসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধি ৪. বাজারে আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া ৫. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ এবং ৬. বাজারে আরও ভালো ও মানসম্পন্ন আইপিও তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি লাভজনক কোম্পানি তালিকভুক্তির উদ্যোগ নেয়া।

বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর বলেন, আমরা আশা করি এ বিষয়গুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে এবং পুঁজিবাজার আরও গতিশীল হবে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। যা বাজারের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

আমার সংবাদ/এসটিএমএ