বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

শিমুল বিশ্বাস, চাটমোহর (পাবনা)

অক্টোবর ২০,২০১৯, ০৮:১২

জানুয়ারি ২৮,২০২০, ০১:৩২

চাটমোহরে শত বছরের হাটটি আগের মতো নেই

পাবনার চাটমোহর (অমৃতকুণ্ডা) হাট জেলার মধ্যে অন্যতম ও ঐতিহ্যগত ভাবে শত বছরের পুরনো একটি হাট। এ হাটে কাঁচা তরিতরকারি থেকে শুরু করে গরু মহিষসহ সর্ব প্রকারের ফসলাদি ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে।

সপ্তাহের একদিন রোববার ভোর থেকে শুরু হয় ভিন্ন ভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দিনব্যাপী কেনাবেচা। কাগজে কলমে পাঁচ একর ৩০ শতকের বিশাল এই হাটের পরিধি থাকলেও অবৈধ দখল আর উপজেলা প্রশাসনের জায়গা লিজ দিয়ে দোকান বরাদ্দ দেয়ায় ক্রমশ হাটের জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে।

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এবং গ্রামের মানুষের ফসলি জমিতে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের প্রধান মাধ্যম হাটের সেই পুরনো জৌলুস আর নেই। গ্রাম-গঞ্জের মধ্যে ছোট ছোট বাজার, হাটে যাওয়া-আসার যোগাযোগ মাধ্যমের রাস্তাগুলোর দুরবস্থা, হাটে আগত মানুষের নিরাপত্তার অভাবসহ হাট ইজারাদার লোকদের লাগামহীন খাজনা আদায় হাটের দুরবস্থার প্রধান কারণ হিসেবে সাধারণ মানুষ মনে করে।

প্রায় কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব দিয়ে হাটটি ইজারা গ্রহণ করা হলেও হাটের জায়গার সঙ্কীর্ণতা ও দখলদারদের ক্রমশ দখলদারিত্বে আকার অনেকটা ছোট হয়ে গেছে।

এছাড়া হাটের সমস্ত এলাকাজুড়েই সংস্কারের অভাবে ও অবস্থাপনায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই। কিন্তু এই হাটে এক যুগ আগেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগমনে সরগরম ছিলো। সপ্তাহের রোববার হাটের দিনে আশপাশের দুই-তিন কিলোমিটার দূর থেকেও হাটে আগত মানুষের শব্দ শোনা যেতো।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই হাটকে কেন্দ্র করে সকল কর্ম ব্যস্ততা ফেলে এদিন ব্যবসায়ীক কাজে নিয়জিত হয়ে উদ্বৃত্ত টাকা উপার্জন করতে দিনব্যাপী ব্যস্ত সময় পার করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে নানা প্রতিকূলতায় আজকের এই ঐতিহ্যবাহী হাটটি ক্রমশ স্থিমিত হয়ে পড়েছে। এখন হাটে নেই আর সেই আগের মতো মানুষের পদচারণা, নেই হাটের সেই জৌলুস। হাটে আগত আশরাফ আলী জানান, আগের সেই জমজমাট রেলবাজারের হাট আর নেই।

ছোট বেলায় বাবা যখন হাটে আসার জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন, সে সময় তার সাথে হাটে আসার জন্য কান্নাকাটি করতাম। বাবা বাধ্য হয়ে আমাকে হাটে নিয়ে আসতেন। হাটে আসার পরে একটিবারের জন্যও তিনি চোখের আড়াল করতেন না। কারণ এত ভিড়ের মধ্যে যেন হারিয়ে না যাই। আর এখন হাটের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া তো দূূরের কথা, ভেতরে ফুটবল খেলা যায়।

হাটের এমন দুরবস্থার নিয়ে হাট ব্যবসায়ীরা জানান, আজকাল গ্রামে গঞ্জের মধ্যেও ছোট ছোট বাজার ও বড় হাটের বিপরীতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট হাট বসার কারণে এই হাটের দুরবস্থা।

তাছাড়া হাটের মধ্যে প্রবেশ পথ বেড়োনের রাস্তা স্বল্পতায় বাইরের অনেক ব্যবসায়ীরাই এই হাটে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। হাটের উন্নয়নে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে উন্নয়ন কাজে ব্যবহার না হওয়ায় বর্তমানে হাটের যে অবস্থা তাতে করে হাটে আগত ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা এই হাটবিমুখ হচ্ছে।

এছাড়াও গ্রামে উৎপাদিত ফসলাদি কৃষক সরাসরি শহরের মিল কিংবা বড় ব্যবসায়ীদের আড়তে গিয়ে বিক্রি করায় তারা হাটে নিয়ে আসে না। সব মিলে বিশেষ কোনো পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে যা কি-না হাট ছাড়া সম্ভব নয়, এমন কিছু পণ্যর জন্যই মানুষ হাটে আসছে।

এমআর