শিরোনাম

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আব্দুল লতিফ রানা   |  ০৭:৪৬, অক্টোবর ১২, ২০১৯

ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. রমিজ উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ ও মানিলন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাদি হয়ে এই মামলা করেছেন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হওয়ার পরও তিনি বহাল তবিয়তে আছেন।

ঢাকা পাওয়ার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রীতম একটি সংগঠনের শীর্ষ এই নেতার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে ঢাকা ও এর আশপাশের জেলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি, একাধিক ফ্ল্যাট, কয়েকটি স্থানে জমি রয়েছে বলে অভিযোগে জানা গেছে। ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাদি হয়ে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক মো. রমিজউদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটি দায়ের করেন। গত ৩ অক্টোবর মামলাটি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী রমিজ উদ্দিন সরকার তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এক কোটি ১৮ লাখ ৯২ হাজার টাকার সম্পদ গোপন করেছেন। এ ছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে নামে-বেনামে এক কোটি ৯৫ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৭ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তাছাড়া মানিল্ডারিং আইনে তার বিরুদ্ধে দুই কোটি ৬১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৬৭ টাকা স্থানান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানিল্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও (৩) ধারায় দায়ী করা হয়েছে।

ডিপিডিসির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সূত্র জানায়, প্রভাবশালী এই নিবার্হী পরিচালকের সাথে অনেক কর্মকর্তাই রয়েছে যারা তার অবৈধ অর্থ বিত্তের সাথে সর্ম্পক রয়েছে। গত ২০১৮ সালের শেষ দিকে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসে। এরপর প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। চলতি বছরের গত ৭ মার্চ স্ত্রীসহ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে রমিজ উদ্দিনের নামে ঢাকায় পাঁচটি বাড়ি, গাজীপুরে ৩০ একর জমি এবং তার জন্মভূমি কুমিল্লাতে কয়েক একর জমি থাকার তথ্য পেয়েছে। আর তার স্ত্রী সালাম পারভীনের নামেও কুমিল্লায় কয়েক একর জমির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধানের দায়িত্বে থাকা দুদকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রমিজ উদ্দিনের নামে রাজধানীর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর সড়কে সাততলা একটি বাড়ি আছে। এ ছাড়া মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা, মিরপুরের ২৮ মল্কিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট বাড়ি, রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮ নম্বর সড়কের ডি ব্লকে ২০২ নম্বর হোল্ডিংয়ে ৪ দশমিক ৫ কাঠা জমির উপর পাঁচটি দোকান ও টিনসেড বাড়ি রয়েছে।

এছাড়া পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ ঠিকানায় ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ জমি উপর বাড়ি করেছেন তিনি। এর বাইরে টঙ্গী ও গাজীপুরে নামে- বেনামে রমিজ উদ্দিনের ৩০ একর জমি রয়েছে। কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে অঢেল জমি। জেলার মুরাদনগরে স্ত্রী সালমা পারভীনের নামে রয়েছে ৫০ বিঘা জমি। পুঁজিবাজারে এই দম্পতির নামে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে তাদের আরও অনেক অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।

দুদকের ওই কর্মকর্তা বলেন, রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরে জমি বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার এবং পরে বাংলাদেশে ফেরত আনার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসার পর অনুসন্ধান শুরু হয়। ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক একটি পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতা। দলীয় মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের নামে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার মলিক হন তিনি। তার এই দুর্নীতির সাথে ডিপিডিসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাও জড়িত। এ জন্য রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে চলছেন তিনি।

ডিপডিসির আরেকটি সূত্র জানান, রমিজ উদ্দীনকে রক্ষা করার জন্য একটি প্রভাবশালী মহল এখন মাঠে নেমেছে। আর তার সঙ্গে দুর্নীতিবাজ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকদের বিষয়েও দুদক তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক মো. রমিজ উদ্দীনের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী বিকাশ দেওয়ান জানান, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত