শুক্রবার ১০ এপ্রিল ২০২০

২৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৩,২০২০, ১১:২২

ফেব্রুয়ারি ২৩,২০২০, ১১:২২

আঁচিল থেকে চিরতরে মুক্তি দেবে আমপাতা

আঁচিল আকারে ছোট, এক ধরণের বিনাইন টিউমার ( যে সব টিউমার ক্যানসার সৃষ্টি করে না তাদের বিনাইন টিউমার বলা হয়। অর্থাৎ, এই টিউমার গুলো আশেপাশের টিস্যুকে আক্রমণ করে না বা ছড়ায় না )। আঁচিলকে ননক্যানসারাস বলা হয়।

আঁচিল হওয়ার প্রবনতার দিকে নারী-পুরুষ উভয়েই সমানে সমান। তবে, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে আঁচিল হওয়ার হারও বেড়ে যায়, যেমনঃ মধ্যবয়সের পর আঁচিল হওয়ার প্রবণতা বেশি ।

আঁচিল শরীরের যেকোনো জায়গায় হতে পারে, তবে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ঘাড়ে, বগলে, কুঁচকিতে, বুকের উপরের দিকে ( নারীদের ক্ষেত্রে স্তনের নিচে)। এগুলো চোখের পাতায় এমনকি নিতম্বের ভাঁজেও হতে পারে। আপনার শরীরে আঁচিল একটা, দুইটা বা অনেকগুলো একসাথে হতে পারে।

আপনারা একটু খেয়াল করলেই দেখবেন, শরীরের ভাঁজে ভাঁজে অর্থাৎ যেখানে ত্বকে-ত্বকে অথবা কাপড়ের মাধ্যমে চামড়ায় ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, সে সব স্থানেই আঁচিল জন্মাতে দেখা যায়।

যে সব মানুষের ওজন তুলনামূলক ভাবে বেশি এবং যারা স্থুলকায় তাদের আঁচিল হওয়ার হারও অনেক বেশি, কারণ তাদের শরীরের ভাঁজের সংখ্যাও বেশি।

অনেকে মনে করেন, আঁচিল প্রাকৃতিকভাবে শরীরে হয়ে থাকে কিন্তু এই ধারণা ভুল। মুখে আঁচিল হলে সমস্যার শেষ থাকে না। আঁচিল নিরাময়ে আমপাতা খুব কার্যকরী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আমপাতার অনেক উপকারিতার কথা বলা হয়েছে।

আম সবারই খুব পছন্দের ফল। তাছাড়া আম স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। তবে শুধু আমই নয়, এর পাতাও বেশ উপকারী। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে আমপাতার উপকারিতার কথা বলা আছে। আমপাতায় রয়েছে ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ উপাদান।

আঁচিল দূর করতে আমপাতা ব্যবহারের নিয়ম
প্রথমে কিছু কচি আমপাতা পুড়িয়ে কালো করে নিন। এবার এই পোড়া আমপাতাগুলো গুঁড়া করে নিন। তারপর এতে সামান্য পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। এবার এই মিশ্রণটি আঁচিলে লাগান। দেখবেন খুব দ্রুত আঁচিল সেরে যাবে।

এছাড়া আরও যেসব উপায়ে দূর করবেন

কলার খোসা: কলার খোসার মাধ্যমে আঁচিল দূর করা সম্ভব। খোসার ভিতরের অংশটি বের করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এখন আঁচিলের উপর লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কলার খোসায় অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা আঁচিল দূর করতে সাহায্য করে।

টি ট্রি অয়েল : টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান রয়েছে যা ত্বকের যে কোন ইনফেকশন দ্রুত দূর করতে সাহায্য করে। প্রথমে কিছু তুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এবার টি ট্রি অয়েলে ভিজিয়ে নিয়ে আঁচিলের উপর লাগান। কয়েক ঘন্টা এভাবে রেখে দিন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলে বেশি উপকার পাওয়া যাবে।

রসুন : রসুনের মাধ্যমেও আঁচিল সহজে দূর করা যায়। কয়েকটি রসুনের কোয়া কুচি করে পেস্ট তৈরি করে নিন। এই পেস্টটি ত্বকের আঁচিলের উপর লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তবে বেশিক্ষণ রাখবেন না, ক্ষতি হতে পারে।

পেঁয়াজের রস : আঁচিল দূর করতে পেঁয়াজেরও প্রয়োজন রয়েছে। পেঁয়াজ কুচি করে কেটে নিন। পেঁয়াজ কুচি ও আধা চামচ লবণ মিশিয়ে সারাদিন ঢাকনা দিযে রেখে দিন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এটি আঁচিলের উপর ব্যবহার করুন। পরদিন সকালে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিরাতে এটি ব্যবহার করুন দেখবেন আঁচিল দ্রুত সেরে গেছে।

অ্যালোভেরা জেল : অ্যালোভেরা ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। আঁচিলের উপর কিছু পরিমাণ অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে ম্যাসেজ করুন। ত্বকে জেল শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি দিনে তিনবার ব্যবহার করলেই হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই