শিরোনাম

বাচ্চার টিভি আসক্তি কমান সহজ ৩ উপায়ে

আমার সংবাদ ডেস্ক   |  ০৬:৩৩, জুলাই ১৫, ২০১৯

আমরা কেউ চাই না আমাদের বাচ্চা সারাদিন টেলিভিশনে ডুবে থাকুক। নেশায় বুদ হয়ে যাক রঙিন পর্দায়। কিন্তু না চাইলেও বাচ্চা অভ্যস্ত হয়ে যায়। যা ডেকে আনে ভয়াবহ ক্ষতি। বাইরের দুনিয়ার থেকে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে ‍যায় তার।

বাচ্চার টিভি বা মোবাইল আসক্তির জন্য মা বাবাই দায়ী। বিশেষ করে মা যিনি বেশির ভাগ বাচ্চার দায়িত্বে থাকেন, কোনো কাজে গেলে নিজেই টিভি অন করে রেখে যান। যাতে বাচ্চা সেখানে থাকে এবং মাকে ডিস্টার্ব না করে। এভাবেই সে অভ্যস্ত হয়ে যায় টিভিতে।

একটা সময় যখন টিভি মোবাইল ছিল না তখনও বাচ্চারা খেলেছে। আর ওদিকে মাও কাজ করেছে। কিন্তু এখন যেন এগুলো কল্পনাই করা যায় না। যখন আসক্তি চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছে যায় তখন চিন্তা ডুবে যান অভিভাবক। আসুন এমন আসক্তি থেকে বাচ্চাকে ফেরাতে ৩ টি উপায় অবলম্বন করি।

পুরোপুরি বন্ধ করবেন না

সব কিছুর বাড়াবাড়ি ভালো চেয়ে ক্ষতি বেশি করে। যদিও এটা ধ্রুব সত্য যে কারো কোনো অভ্যাসই সম্পূর্ণরূপে ছেঁটে ফেলা যায় না। ধীরে ধীরে আপনার সন্তানের টেলিভিশন দেখার সময় কমিয়ে আনুন, যতক্ষণ না আপনি টিভির প্রতি তার আকর্ষণ পুরোপুরি ছাড়াতে পারছেন।

ধরুন, আপনার বাচ্চা কম সে কম লাগাতার ৩ ঘন্টা টিভি দেখায় অভ্যস্ত, এটাকে দুই দফায় এক এক ঘন্টাতে নামিয়ে আনুন। সপ্তাহ দুয়েক পরে এটা ৪০ মিনিট করুন, পরের সপ্তাহে আধ ঘন্টা। এভাবে আপনি আপনার সন্তানকে টিভির স্ক্রিন থেকে নিরাপদ রাখতে পারবেন।

বিকল্প খুঁজুন

আপনি আপনার সন্তানকে টিভি বন্ধ করার জন্য বলছেন কিন্তু তাকে বিকল্প কিছু দিচ্ছেন না তা হবে না। এভাবে আপনি সন্তানকে টিভি থেকে দূরে রাখতে পারবেন না। তার সামনে অবশ্যই বিকল্প কিছু দিতে হবে।

তাকে তার পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং যখন সে টিভির সঙ্গে দূরত্ব আনবার চেষ্টা করছে, তার সাথে বসতেও পারেন। শান্ত হয়ে এবং ধৈর্য নিয়ে এর সপক্ষে একটি যুক্তি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করুন। তাকে বলুন যে কেন আপনি তাকে টেলিভিশন থেকে মুক্ত করার জন্য এত উঠে পড়ে লেগেছেন।

যখন আপনি তাকে টিভি দেখতে দিচ্ছেন না তখন তার সঙ্গে খেলাধুলা করুন। একটু বাইরে ঘুরতে নিয়ে যান। এতে সে একটা বিকল্প পাবে। এভাবে সে টিভির অভ্যাস ত্যাগ করতে পারবে।

আপনি যা শিক্ষা দিচ্ছেন, নিজেও তাই করুন

আপনি আপনার বাচ্চাকে একটি বই পড়ার জন্য বলে নিজে পাশের কামরায় গিয়ে আপনার প্রিয় সিরিয়ালটি দেখতে পারেন না। এইরকম দৃশ্যে, শিশুটি ভাববে যে তাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু করার কথা বলা হচ্ছে যা সে চায় না। এটি তাকে বিভ্রান্ত করবে এবং সে তার জন্য নির্ধারিত কাজটি সেই সময় আর করতে পারবে না।

সুতরাং, আপনার সন্তানের স্বার্থে, আপনার সন্তান যখন স্কুলে বা বা ঘুমিয়ে আছে শুধুমাত্র সেই সময় আপনি টিভি দেখলে ভাল হয়, যখন আপনার বাচ্চা ধারে কাছে নেই। যখন সে আশেপাশে থাকবে তখন তার সাথে থাকুন এবং টিভি ছাড়া তার জীবনযাপনে তাকে সাহায্য করুন।

সবচেয়ে ভালো হয় যখন ঘরে বাচ্চা থাকবে তখন টিভি না রাখা। আর স্মার্টফোন তার সামনে না চালানো। এতে করে সে এসবে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ পাবে না।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত