মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২০

৪ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

অক্টোবর ০৬,২০২০, ০৬:৫৩

অক্টোবর ০৬,২০২০, ০৬:৫৩

দেশে দেশে ধর্ষণের সাজা যেমন

সারা বিশ্বে ধর্ষণের সংখ্যা খুব দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যেন ধর্ষণের প্রতিযোগিতা চলছে দেশে দেশে। নীতি আর নৈতিকতা যেন হারিয়ে গেছে এই সুন্দর পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে। তারপরও এই নৈতিকতার অবক্ষয় রুখতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরকম শাস্তির বিধান রয়েছে।

চলুন জেনে নেই এমনই কিছু দেশে ধর্ষণের শাস্তির আইন সম্পর্কে-

বাংলাদেশ

‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ নামের একটি আইন রয়েছে বাংলাদেশে। সেই আইনে বলা হয়েছে, যদি কোন পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

এই আইনের ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে বিডিল'স নামের একটি সরকারি ওয়েবসাইটে। ব্যাখ্যায় বলা হয়, যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত (ষোল বছরের) অধিক বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা (ষোল বছরের) কম বয়সের কোনো নারীর সঙ্গে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবে।

আরো বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হলে ওই দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হইবেন এবং অতিরিক্ত অন্যুন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন। আবার কেউ যদি ধর্ষণের চেষ্টা করেন, তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বছর কিন্তু অন্যুন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

আইনের ব্যাখ্যায় আরো বলা হয়, যদি পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে কোনো নারী ধর্ষিতা হন, তাহালে যাহাদের হেফাজতে থাকাকালীন উক্তরূপ ধর্ষণ সংঘটিত হইয়াছে, সেই ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ ধর্ষিতা নারীর হেফাজতের জন্য সরাসরিভাবে দায়ী ছিলেন, তিনি বা তাহারা প্রত্যেকে, ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হলে, হেফাজতের ব্যর্থতার জন্য, অনধিক দশ বছরের কিন্তু অন্যুন পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডণীয় হবেন এবং অতিরিক্ত অন্যুন দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডণীয় হবেন।

সৌদি আরব

সৌদি আরবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রায় ঘোষণার কিছুদিনের মধ্যেই জনসম্মুখে শিরচ্ছেদ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে তার আগে দোষীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দেওয়া হয়।

ইরান

ইরানে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আইন আছে সে দেশে।

চীন‌

চীনে ধর্ষণের শাস্তি নিয়ে কোনো টালবাহানা নেই। ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলেই সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সে দেশে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আরেকটি শাস্তি রয়েছে পুরুষাঙ্গচ্ছেদ।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

আরব আমিরাতের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ধর্ষকের মাথায় গুলি করে বা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে। চারদিনের মধ্যেই ধর্ষকের এই শাস্তি কার্যকর করা হয়।

সূত্র: স্কুপহুপ, ওয়েবসাইট।